kalerkantho


রেফারির ভুলে গোল বাতিল

ময়মনসিংহের ক্রিকেট পেছনে হাঁটছে

গোলাম হায়দার বাদল   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ময়মনসিংহের ক্রিকেট পেছনে হাঁটছে

ময়মনসিংহের ক্রিকেট যেন অভিভাবকশূন্য হয়ে গেছে। যদিও পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট পরিষদের অস্তিত্ব রয়ে গেছে।

সংগত কারণেই এ জেলার ক্রিকেটের অভিভাবক এই ক্রিকেট পরিষদ। কিন্তু বর্তমান মৌসুমের ক্রিকেট কর্মকাণ্ডের দিকে তাকালে মনে হয়, আদৌ কি জেলার ক্রিকেটের অভিভাবক ক্রিকেট পরিষদ, না অন্য কেউ! নাহলে এভাবে ঐতিহ্যবাহী এই জেলার ক্রিকেট পেছনে হাঁটবে কেন? একটা সময় ময়মনসিংহের ক্রিকেটাররা ট্রেনে করে ঢাকায় পৌঁছতে দেরী করলে শুরুই হত না ঢাকা লিগের খেলা। অথচ এখন খোদ ময়মনসিংহের ক্রিকেটে চলছে অচলাবস্থা।

আগের মৌসুমের অসমাপ্ত লিগের ঘানি টানা যেন ময়মনসিংহের রেওয়াজে পরিণত হয়ে গেছে। এ মৌসুমেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। কথা ছিল, ১ ডিসেম্বর থেকে গত মৌসুমের অসমাপ্ত লিগের খেলা দিয়েই বর্তমান মৌসুমে বল মাঠে গড়াবে। এটা ছিল ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ক্রিকেট পরিষদের প্রথম সভার সিদ্ধান্ত। দলগুলোকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া ও যথাসময়ে ফিক্সচারও দেওয়া হয়। কিন্তু হুট করেই ৩০ নভেম্বর ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ক্রিকেট সম্পাদককে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিলেন প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য।

তাঁর মৌখিক নির্দেশ পেয়ে ক্রিকেট সম্পাদক প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ বন্ধ থাকার কথা ক্লাবগুলোকে মৌখিকভাবে জানিয়ে দিলেন। সেই সঙ্গে এ মৌসুমের ক্রিকেট প্রথম হোঁচটটি খেল। পরে জানা গেল, লিগ বন্ধ করার জন্য কিছুসংখ্যক ক্লাব সাধারণ সম্পাদকের কাছে আবেদন করায় এই সিদ্ধান্ত। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ আবেদনপত্র ক্রিকেট সম্পাদক আজ অবধি পাননি; এমনকি চোখেও দেখেননি। অথচ এ অদৃশ্য আবেদনপত্রেই এত বড় একটি সিদ্ধান্ত হয়ে গেল! আজ অবধি ক্রিকেট সম্পাদকসহ অন্যদের কাছ থেকে জানা যায়নি সে আবেদনে কটি ক্লাবের স্বাক্ষর ছিল বরং কোন কোন ক্লাবের স্বাক্ষর সঠিক প্রতিনিধির দ্বারা হয়নি। তাহলে কেন এই হটকারী সিদ্ধান্ত, কার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত?

খেলা শুরু করার জন্য ক্রিকেট পরিষদ ১২ ডিসেম্বর আবারও আলোচনায় বসল। কিন্তু এ সভায় পরিষদ কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারল না। সিদ্ধান্ত  নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হলো ক্লাবগুলোর ওপর; যেন ক্রিকেটের অভিভাবক ক্রিকেট পরিষদ নয়, ক্লাবগুলো। পরিষদ চিঠির মাধ্যমে জানতে চাইল ক্লাবগুলোর কাছে তারা কি গত মৌসুমের অসমাপ্ত লিগ খেলবে নাকি বর্তমান মৌসুম অর্থাৎ ২০১৬-১৭ মৌসুমের লিগ খেলবে। ক্লাবগুলোর মতামত পেয়ে ক্রিকেট পরিষদ ১৮ ডিসেম্বর আবারও সভায় বসল। দেখা গেল পুরনো ও নতুন মৌসুমের লীগ খেলা নিয়ে ক্লাবগুলো সমানভাবে বিভক্ত। এ অবস্থায় সভায়ই সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় বর্তমান মৌসুমের লিগ শুরুর পক্ষে। ক্রিকেট পরিষদ দলগুলোর কাছে লিগে এন্ট্রির আবেদন চাইল এবং ৩, ৪ ও ৫ জানুয়ারি খেলোয়াড়দের দলবদলের চিঠিও দেওয়া হলো। কিন্তু ক্রিকেট আবারও হোঁচট খেল। পরিষদকে দলবদল কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হলো। আবারও ক্রিকেট ক্লাবগুলোর আবেদন—এবার ক্লাবগুলোর ইচ্ছা পুরনো লীগ খেলা। এ আবেদন অবশ্য সাধারণ সম্পাদকের কাছে নয়, ক্রিকেট পরিষদ সভাপতির কাছে। আবেদনপত্রটি আগের মতো অদৃশ্যমান নয় বরং দৃশ্যমান স্বচ্ছ একটি আবেদন।

এরই মধ্যে বেশ কয়েক দিন পার হয়ে গেছে, কিন্তু ক্রিকেট পরিষদ বর্তমান মৌসুমের লিগ নিয়ে কদমও এগোতে পারেনি। এমনকি কোনো সভাও আহ্বান করা হয়নি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ক্রিকেট পরিষদ যেন নিজেদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। কেনই বা আস্থা হারাবে না, যে সিদ্ধান্তই নিচ্ছে সেটি কার্যকরই হচ্ছে না। সিদ্ধান্তের চিঠিগুলো ক্লাবে আসার পর আবারও নতুন সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে। অথচ ক্রিকেট পরিষদে প্রায় সব ক্লাবের প্রতিনিধি আছেন। পরিষদের সভায় তাঁরাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন; কিন্তু সে সিদ্ধান্ত নিজ নিজ ক্লাবগুলো কেন মানছে না? ক্লাব প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ক্রিকেট পরিষদ গঠনের যৌক্তিকতা তাহলে কোথায়?

এ অবস্থায় অনেকেরই ধারণা, মৌসুমটা বুঝি ক্রিকেটবিহীন মৌসুম হিসেবে শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু এটা কোনো অবস্থাতেই কাম্য হতে পারে না। সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি। প্রিমিয়ার ডিভিশন, প্রথম বিভাগ ও দ্বিতীয় বিভাগ শেষ করার মতো সময় এখনো আছে। বাংলাদেশে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে মাঠ। সেটি ময়মনসিংহের আছে। সার্কিট হাউসের দুটি মাঠে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবির বয়সভিত্তিক খেলা ও স্থানীয় অন্যান্য খেলা নিয়মিতই হচ্ছে। সার্কিট হাউসে আরো একটি মাঠ আছে, যা অল্প কিছু সংস্কার করে দ্বিতীয় বিভাগ চালানো যাবে। প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছা। কিছু ঘটনায় ক্রিকেট পরিষদের সঙ্গে ক্লাবগুলোর কিছুটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। ক্রিকেটের স্বার্থে উভয়কে এগিয়ে আসতে হবে। একটা সিদ্ধান্তে অবশ্যই আসতে হবে। একসঙ্গে বসলে নিশ্চয়ই একটা গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসবে। কারণ-অকারণে ক্রিকেটবিহীন একটি মৌসুম শেষ হবে, এটা নিশ্চয় কেউ চান না।


মন্তব্য