kalerkantho


৫৯৫ করেও হার

২০ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



৫৯৫ করেও হার

টেস্টে ৫৫০ রানও নিরাপদ নয়! বাংলাদেশ তো ওয়েলিংটনে হারল প্রথম ইনিংসে ৫৯৫ করেও। টেস্ট ইতিহাসে ৫৯৫ রান করে হারার রেকর্ড ছিল না আর কোনো দলের।

বাংলাদেশের আগে প্রথম ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ৫৮৬ রান করে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। ১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে ইংল্যান্ডকে ফলোঅনে ফেলেও ১০ রানে হেরেছিল তারা। সব মিলিয়ে ৫৫০ রানের বেশি করে টেস্ট হারের রেকর্ড মাত্র ছয়বার। বাংলাদেশই হেরেছে এর দুটি। জানাচ্ছেন রাহেনুর ইসলাম

 

 

অস্ট্রেলিয়া, ৫৮৬ : ১৮৯৪

তখন টাইমলেস ক্রিকেটের যুগ। ১৮৯৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর শুরু হওয়া অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের টেস্টটা শেষ হয় ২০ ডিসেম্বর। স্বাগতিকদের জন্য ট্র্যাজেডিরই ছিল সেই ম্যাচ। জর্জ গিফেনের ১৬১ আর সিড গ্রিগরির ২০১-এ প্রথমে ব্যাট করা অস্ট্রেলিয়া গড়েছিল ৫৮৬ রানের পাহাড়। তাতে চাপা পড়া ইংল্যান্ড ফলোঅনে পড়ে ৩২৫ রানে গুটিয়ে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইংলিশরা করেছিল ৪৩৭। জেতার জন্য সিডনির ভাঙা উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে করতে হতো ১৭৭। একটা সময় দুই উইকেটে ১৩০ করে জয়ের সুবাসই পাচ্ছিল তারা। কিন্তু জর্জ গিফেনের ৪১ আর জো ডার্লিংয়ের ৫৩-র পরও অস্ট্রেলিয়া ১৬৬-তে গুটিয়ে হেরে যায় ১০ রানে! ববি পিল ৬ উইকেট নিয়ে রুদ্ধশ্বাস জয় এনে দেন ইংলিশদের।

 

 

পাকিস্তান, ৫৭৪/৮ডি. : ১৯৭২-১৯৭৩

ইয়ান রেডপাথ, গ্রেগ চ্যাপেলের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ঘোষণা করে ৫ উইকেটে ৪৪১ রানে। ডেনিস লিলি, জেফ থমসনের মতো পেসার থাকায় অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেলের কাছে এই রানটাই ছিল যথেষ্ট। কিন্তু ১৯৭২ সালের ২৯ ডিসেম্বর শুরু হওয়া মেলবোর্ন টেস্টে ছড়ি ঘোরাচ্ছিলেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা। মাজিদ খানের ১৫৮ আর সাদিক মোহাম্মদের ১৩৭-এ ইন্তিখাব আলমের দল ইনিংস ঘোষণা করে ৮ উইকেটে ৫৭৪ রানে। জন বেনোর ১৪২-এ দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ৪২৫-এ গুটিয়ে গেলে জয়ের জন্য পাকিস্তানকে করতে হতো ২৯৩ রান। জহির আব্বাস, মুস্তাক মোহাম্মদ আর সরফরাজ নওয়াজ রান আউট হলে পাকিস্তান হেরে যায় ৯২ রানে।

 

 

বাংলাদেশ, ৫৫৬ : ২০১২

মিরপুর টেস্টটা ছিল রান উৎসবের। কিয়েরন পাওয়েল ১১৭, দিনেশ রামদিন ১২৬* আর শিবনারায়ণ চন্দরপলের ২০৩*-এ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংস ঘোষণা করে ৪ উইকেটে ৫২৭ রানে। জবাবে বাংলাদেশের সেঞ্চুরি করেছিলেন শুধু নাঈম ইসলাম (১০৮)। তবে নাসির হোসেনের ৯৬, সাকিব আল হাসানের ৮৯, তামিম ইকবালের ৭২ আর মাহমুদউল্লাহর ৬২-তে ৫৫৬ রান করে লিড নেয় বাংলাদেশ। সোহাগ গাজী ৬ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুটিয়ে দিয়েছিলেন ২৭৩-এ। জয়ের জন্য বাংলাদেশকে করতে হতো ২৪৫। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় হয়নি সেটা। টিনো বেস্ট ৫ উইকেট নিয়ে মুশফিকুর রহিমের দলকে গুটিয়ে দেন ১৬৭-তে। ৭৭ রানের জয় পায় ক্যারিবীয়রা।

 

 

অস্ট্রেলিয়া, ৫৫৬ : ২০০৩

অ্যাডিলেড টেস্টে আরো একবার দীর্ঘশ্বাস অস্ট্রেলিয়ার। রিকি পন্টিংয়ের ২৪২-এ ৫৫৬ করায় অনেকটা নির্ভার ছিল স্টিভ ওয়াহর দল। রাহুল দ্রাবিড়ের ডাবলে ৫২৩ করে জবাবটা ভালোই দেয় ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসে আগুনই ঝরান অজিত আগারকার। ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে এই ফাস্ট বোলার গুটিয়ে দেন ১৯৬-এ। জয়ের জন্য ২৩০ রানের লক্ষ্যটা কঠিন হলেও অসম্ভব মনে হচ্ছিল না সৌরভ গাঙ্গুলির দলের। রাহুল দ্রাবিড়ের অপরাজিত ৭২, বীরেন্দর শেবাগের ৪৭, শচীন টেন্ডুলকারের ৩৭, ভিভিএস লক্ষ্মণের ৩২-এ স্মরণীয় জয়ই পায় সফরকারীরা।

 

 

ইংল্যান্ড, ৫৫১/৬ ডি. : ২০০৬

আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছিল ইংল্যান্ড। অ্যাডিলেড টেস্টে পল কলিংউডের ২০৬ আর কেভিন পিটারসেনের ১৫৮-তে ৬ উইকেটে ৫৫১ রানে ঘোষণা করে প্রথম ইনিংস। জবাবে রিকি পন্টিংয়ের দল করেছিল ৫১৩। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড চতুর্থ দিন শেষ করে ১ উইকেটে ৫৯ রানে। ম্যাচের সব নাটক তোলা ছিল শেষ দিনের জন্য। শেন ওয়ার্নের (৪ উইকেট) ঘূর্ণিতে ইংলিশরা অলআউট মাত্র ১২৯ রানে। রিকি পন্টিংয়ের ৬৫ বলে ৪৯ আর মাইকেল হাসির ৬৬ বলে অপরাজিত ৬১-তে ১৬৮ রানের লক্ষ্যটা পার হতে বেগ পেতে হয়নি অস্ট্রেলিয়ার।

 

 

সংখ্যায় ওয়েলিংটনে

 

প্রথম ইনিংসে ৫৯৫ রান করে টেস্ট হারার রেকর্ড ছিল না আর কোনো দলের। বাংলাদেশের আগে প্রথম ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ৫৮৬ রান করে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। ১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে ইংল্যান্ডের কাছে সেই টেস্টে ১০ রানে হেরেছিল তারা।

 

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মিলিত রান ১১৩৪। এটা জয়-পরাজয় নির্ধারিত হওয়া কোনো টেস্টে দুই দলের তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রথম ইনিংসের রান। সর্বোচ্চ ১২৩৬ রানের রেকর্ড গত মাসেই চেন্নাই টেস্টে গড়েছিল ভারত-ইংল্যান্ড।

 

৫.৪৭

২০০-এর বেশি রান তাড়া করে জেতা ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ওভারপ্রতি ৫.৪৭ রেটে রান নেওয়াটা টেস্টের দ্বিতীয় দ্রুততম। ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ৫.৭৭ রেটে ২০৫ করে জেতাটা টেস্টের সেরা।

 

একই টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি আর শূন্য রানে আউট হওয়া মাত্র সপ্তম ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান। তাঁর আগের ছয়জন শোয়েব মালিক, রিকি পন্টিং, ডাডলি নার্স, ইমতিয়াজ আহমেদ, ভিভ রিচার্ডস ও সিমুর নার্স।

 

২০০৮

সব শেষ ২০০-এর বেশি রান তাড়া করে নিউজিল্যান্ড টেস্ট জিতেছিল ২০০৮ সালে, সেটাও বাংলাদেশের বিপক্ষে। সেবার চট্টগ্রাম টেস্টে ৩১৭ তাড়া করে জিতেছিল কিউইরা। সব মিলিয়ে ২০০-এর বেশি রান তাড়া করে ৭টি টেস্ট জিতেছে নিউজিল্যান্ড।

 


মন্তব্য