kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এবার শীর্ষ ধনী রোনালদো

মাজহারুল ইসলাম

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



এবার শীর্ষ ধনী রোনালদো

শারাপোভা ভক্তদের কাছে বিনা মেঘে বজ্রপাত হয়ে এসেছিল খবরটি। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর গত মার্চে হঠাৎ করে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন রাশিয়ান গ্ল্যামার গার্ল।

ভক্ত-সমর্থকরা হয়তো ভেবেছিলেন, টেনিস র্যা কেটটা হয়তো তুলে রাখার ঘোষণা দিয়ে দেবেন শারাপোভা। এর চেয়েও বড় চমক উপহার দিয়ে ড্রাগ পজিটিভ হওয়ার বোমা ফাটান রাশান তারকা। এরপর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক টেনিসের বাইরে মারিয়া শারাপোভা। বড় ধরনের টান পড়েছে তাই ব্যাংক ব্যালেন্সেও। ড্রাগ কেলেঙ্কারিতে কোর্ট থেকে ছিটকে পড়ায় আয়ে রীতিমতো ধসই নেমেছে রাশান সুন্দরীর।

উপার্জনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে গেছে কমে। যদিও বিশ্বের শীর্ষ আয় করা ক্রীড়া তারকার তালিকায় এখনো নাম আছে তাঁর। সেটা আগের বছরের তুলনায় অনেকটাই পেছনে,  কয়েক মাসের ব্যবধানে উপার্জন এতটাই কমে গেছে ফোর্বসের তালিকায় শারাপোভা নেমে গেছেন এক লাফে ৬২তম স্থানে। অথচ আগের বছরও তিনি ছিলেন ফোর্বসের এ তালিকার ২৬তম স্থানে। গত অর্থবছরে এই গ্ল্যামার কন্যার আয় ছিল ২১.৯ মিলিয়ন ডলার। টাকার এ অঙ্কটাও অবশ্য নেহায়েত কম নয়। বিজনেস জার্নাল ফোর্বসের প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকায় সেরা ১০০তে এখনো রাশিয়ার একমাত্র প্রতিনিধি তো শারাপোভাই।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উপাজর্নকারী ক্রীড়াবিদদের ফোর্বসের সর্বশেষ এ তালিকায় হয়েছে বড় ধরনের ওলটপালট। শীর্ষস্থানে এত দিন সাধারণত থাকতেন গলফার টাইগার উডস কিংবা বক্সার ফ্লয়েড মেওয়েদার। উডস তো আবার ২০০২-২০১১ টানা ১০ বছর ছিলেন শীর্ষে। ৮৫ মিলিয়ন আয় করে ২০১২ সালে তাঁর রাজত্বের অবসান ঘটান বক্সার ফ্লয়েড মেওয়েদার। পরের বছরই আবার সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেন গলফ কিংবদন্তি। ২০১৩ সালে সেবার উডসের আয় ছিল ৭৮.১ মিলিয়ন ডলার। সর্বশেষ দুই বছর আবার উডসকে হটিয়ে শীর্ষস্থান দখল করে নেন মেওয়েদার। এবার সেরা দশেই জায়গা পাননি তাঁদের কেউ। নারীঘটিত কেলেঙ্কারির পর জৌলুস হারানো উডস ও মেওয়েদার অবসরে যাওয়াটা অবশ্য এর নেপথ্য কারণ! আর এ সুযোগে ২০০১ সালের পর তাই এ প্রথম উডস ও মেওয়েদারের বাইরের কেউ বসলেন ফোর্বসের সেরা উপাজর্নকারী অ্যাথলেটদের তালিকার শীর্ষে। শীর্ষ দুজনই আবার ফুটবলার। নাম দুটিও নিশ্চয় পাঠকদের জানা। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি।

দুই ধাপ করে এগিয়েছেন দুজনই। রোনালদো ৩ থেকে ১ নম্বরে আর মেসি ৪ থেকে উঠে এসেছেন ৩ নম্বরে। গতবছর রিয়াল মাদ্রিদ তারকার মোট আয় ছিল আনুমানিক ৮৮ মিলিয়ন ডলার। মোটা অঙ্কের বেতন, বোনাস ও নাইকি, ট্যাগ হিউয়ের, হারবালাইফের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বড় অঙ্কের চুক্তি এবং টাইগার উডস ও ফ্লয়েড মেওয়েদারদের আয় কমে যাওয়া তালিকায় শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে পর্তুগিজ যুবরাজকে। আগের বছর ফোর্বসের তালিকায় তিনি ছিলেন তিনে। আয়ে অন্তত আরো একটা বছরে সিআরসেভেন পেছনে ফেললেন তাঁর আর্জেন্টাইন প্রতিদ্বন্দ্বীকে।

উপার্জনে খুব একটা পিছিয়ে ছিলেন না লিওনেল মেসিও। এ সময় ৮৪.১ মিলিয়ন ডলার আয় করে চার থেকে দুই ধাপ এগিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন আর্জেন্টাইন ক্ষুদে জাদুকর। বার্সেলোনায় মোটা অঙ্কের বেতন, ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস, পেপসি ও জিলেটের সঙ্গে অ্যান্ডোর্সমেন্ট থেকে প্রাপ্ত আয় এতটা ওপরে তুলে দিয়েছে বার্সেলোনা তারকাকে। মেসির পরের নামটি যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল তারকা লেব্রোন জেমসের। ৭৭.২ মিলিয়ন ডলার আয় করে তিন ধাপ এগিয়ে ফোর্বসের সর্বশেষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তিন নম্বরে।

লেব্রোন জেমসের চেয়ে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার কম আয় রজার ফেদেরারের। সেটাও অবশ্য একটি চমক! সেরা সময় পেছনে ফেলে এলেও বিজ্ঞাপনী বাজারে ‘বুড়ো’ ফেদেরারের মূল্য কমেনি যে এতটুকুও! পেশাদার অ্যাথলেটদের মধ্যে এখনো শীর্ষ উপার্জনকারীর অন্যতম সুইস তারকা। অথচ ২০১২ সালে উইম্বলডন জয়ের পর নামের পাশে যোগ করতে পারেননি আর কোনো গ্র্যান্ড স্লাম। ২০১৬ সালটাও বড় বিবর্ণ কেটেছে তাঁর। ট্যুর পর্যা য়ে ২১ জয়ের বিপরীতে হার সাতটি। ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন টানা দুই মাস। খেলেননি ইউএস ওপেন ও অলিম্পিকের মতো বড় আসরে। তবুও আয় কমেনি ফেদেরারের। ফোর্বসের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত হিসাব গণনার ১২ মাসে তাঁর আয় ছিল ৬৭.৮ মিলিয়ন ডলার। ঈর্ষণীয় এ আয়ের সিংহভাগ এসেছে অ্যান্ডোর্সমেন্ট থেকে। নাইকি, উইলসন, মার্সিডিজ বেঞ্জ, ক্রেডিট সুইস, রোলেক্স, মোয়েত ও চন্দনের মতো বিশ্বখ্যাত কম্পানির সঙ্গে এখনো গাঁটছড়া বাধা ফেদেরারের। এসব কম্পানি থেকে প্রাপ্ত মোটা অঙ্কই ফোর্বসের তালিকায় আয়ে ৪ নম্বরে রেখেছে ৩৫ বছরের ফেদেরারকে।

পাঁচ নম্বরে বাস্কেটবল তারকা কেভিন ডুরান্ট। ৫৬.২ মিলিয়ন ডলার আয় নিয়ে ৭ থেকে দুই ধাপ এগিয়ে তাঁর বর্তমান এ অবস্থান। পরের নামটি টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচের। প্রাইজমানি থেকে ২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি আয় করলেও মোট উপার্জনে এখনো সার্বিয়ান তারকা পেছনে আছেন সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ী রজার ফেদেরারের। এ সময় তাঁর আয় ছিল ৫৫.৮ মিলিয়ন ডলার। শীর্ষ দশে থাকা ফেদেরারের পর তিনিই একমাত্র টেনিস খেলোয়াড়। সেরা দশের অন্য নামগুলো হচ্ছে আমেরিকান ফুটবলের বড় নাম ক্যাম নিউটিন, আয় ৫৩.১ মিলিয়ন ডলার। এরপরের নাম দুটি যুক্তরাষ্ট্রের দুই গলফার—ফিল মিকেলসন ও জর্দান স্পিয়েথের। সেরা দশের সর্বশেষ জন অবসর নেওয়া বাস্কেটবল তারকা কোবি ব্রায়ান্ট।

এত দিন শীর্ষ দুই স্থান নিয়ে লড়াই করা টাইগার উডস আর ফ্লয়েড মেওয়েদার নেমে গেছেন দশের বাইরে। প্রথম জন দ্বাদশ স্থানে আর দ্বিতীয় জন ষোড়শ স্থানে। নারীঘটিত কেলেঙ্কারির পর গলফ কোর্সে ফেরার উডসের সেই জৌলুশ আর নেই স্ট্রিকে। আগের দুরন্ত ছন্দটা একদম অনুবাদ করতে পারছেন না মার্কিন এই গলফার। আবার নারীঘটিত কেলেঙ্কারির পর অনেক প্রতিষ্ঠান স্পন্সর প্রত্যাহার করে নেওয়ায় অ্যান্ডোর্সমেন্ট থেকে প্রাপ্ত আয়ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে তাঁর। সব কিছুর যোগফলে এ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এতটা পিছিয়ে পড়া ইনজুরি আর ফর্মের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করা উডসের। মেওয়েদার তো আবার চলে গেছেন অবসরে। রেকর্ড অপরাজিত ৫০তম জয়ের পর আর রিংয়ে নামেননি মার্কিন এই বক্সার। ডলারের বস্তা সার্বক্ষণিক সঙ্গী হলেও রিংয়ের বাইরে থাকায় আয়টাও গেছে কমে। এক লাফে তাই মানিম্যান মেওয়েদার শীর্ষ থেকে ধপাস করে পতিত হয়েছে ১৬ নম্বরে। লাস ভেগাসে যাঁর বিপক্ষে গত বছর তিনি ‘লড়াই অব দ্য সেঞ্চুরি’তে রিংয়ে মুখোমুখি হয়েছিলেন সেই প্যাসকিয়ানোর অবস্থান তো আরো নিচুতে। গতবছর মেওয়েদার আয়ে ছিলেন শীর্ষে আর পরের নামটিই ছিল প্যাসকিয়ানোর। ফিলিপিনো বক্সার এবার নেমে গেছেন ৬৩তম স্থানে। ডোপ কেলেঙ্কারিতে টেনিসে নিষিদ্ধ শারাপোভারও একধাপ পেছনে প্যাসকিয়ানো। শারাপোভার আমেরিকান প্রতিদ্বন্দ্বী সেরেনা উইলিয়ামসের অবস্থান তালিকার ৪২তম স্থানে। ২০১৬ সালে উইলিয়ামস পরিবারের ছোট মেয়ের আয় ছিল ২৮.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত ১২ বছরে এই প্রথম আয়ে শারাপোভাকে পেছনে ফেললেন সেরেনা।

এ ছাড়া ররি ম্যাকেলরয় ১৭তম, রাসেল উইলসন ১৮তম ও সেবাস্টিয়ান ভেটেল ১৯তম, ফিলিপ রিভার্স ২০তম, বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার ২১তম। এককভাবে অবশ্য নয়, স্প্যানিশ টেনিস তারকা রাফায়েল নাদালের সঙ্গে যৌথভাবে। নাদাল-নেইমারের পরের নামটি সুইডিশ ফুটবলার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের। ট্রেবলের ট্রেবল জয়ী জ্যামাইকান স্প্রিন্টার উসাইন বোল্ট তাঁদের পেছনে। বিদুচ্চমকে বিশ্বকে বিমোহিত করা বিশ্বের দ্রুততম মানব আয়ে ৩২তম স্থানে। ২০১৫ সালের ১ জুন থেকে ২০১৬ সালের ১ জুন পর্যন্ত অ্যাথলেটদের বেতন, অংশ গ্রহণ ফি, প্রাইজমানি, বিজ্ঞাপন থেকে আয় ও বোনাসের অঙ্ক যোগ করে তৈরি করা হয়েছে ফোর্বসের এ তালিকা। ১২ মাসের এ হিসাবে অ্যাথলেটদের কর কিংবা এজেন্ট ফি কর্তন করা হয়নি আবার বিনোয়োগকৃত আয়ও করা হয়নি সংযোজন।


মন্তব্য