kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঘুমিয়ে ক্রিকেট

গোলাম হায়দার বাদল

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ঘুমিয়ে ক্রিকেট

সামনে ময়মনসিংহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন। কারণ পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে আগেই। এরই মধ্যে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। অনেকেই নির্বাচনের দিকে ঝুঁকবেন। কিন্তু ক্রিকেটকে কোনো অবস্থায়ই উপেক্ষা করা যাবে না।

নতুন ক্রিকেট মৌসুম সামনে তা মোটেও মনে হয় না ময়মনসিংহের ক্রিকেটাঙ্গনের দিকে তাকালে। জেলার ক্রিকেট কর্ণধাররা যেন এখনো ঘুমিয়েই আছেন।

আর তাঁদের এই ঘুম দেখে ক্রিকেটার, ক্লাব ও ক্রিকেটসংশ্লিষ্ট সবাই হাত গুটিয়ে বসে আছেন। ক্রিকেটাররা ব্যাট ও বল নিয়ে মাঠে নামছেন না অনুশীলনের জন্য। ক্লাবগুলোও তাদের নিজ নিজ দল গোছাচ্ছে না। কেন দল গোছাবে? খুব শিগগির লিগ শুরু হওয়ার কোনো লক্ষণই তো চোখে পড়ছে না। ফলে এই মৌসুমে লিগ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও অনেকেই সন্দিহান। অথচ এই সময়ে ময়মনসিংহ ক্রিকেটাঙ্গন থাকত সরগরম। ক্রিকেটাররা পুরোদমে অনুশীলন শুরু করে দিতেন। ক্লাবগুলোও ব্যস্ত হয়ে পড়ত তাদের দল গোছানোর কাজে। ক্লাবপাড়ায় ও সার্কিট হাউস মাঠে ক্রিকেট নিয়েই মেতে থাকতেন সবাই।

গত দুটি মৌসুমে (২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬) আগের মৌসুমের অসমাপ্ত লিগের ঘানি টানতে হয়েছে। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটবে না। গত মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগের ৫৫টি ম্যাচের ৩৮টি হয়নি। প্রথম বিভাগেরও একই অবস্থা। আর দলগুলোর কাছ থেকে এন্ট্রি বাবদ বড় অঙ্কের টাকা নিয়েও দ্বিতীয় বিভাগ শুরু করা হয়নি। তার মানে গত মৌসুমের ম্যাচগুলো ও এই মৌসুমের তিনটি বিভাগ মিলিয়ে বহু ম্যাচের আয়োজন করতে হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবির বয়সভিত্তিক ম্যাচের সংখ্যাও একেবারের কম নয়। এর পরও কর্মকর্তারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন। তাঁরা যদি ভেবে থাকেন গত মৌসুমের অসমাপ্ত ম্যাচগুলো বাদ দিয়েই শুধু এই মৌসুমের লিগ শেষ করে ময়মনসিংহের ক্রিকেট জটমুক্ত করা হবে, তাহলে এটা কোনো অবস্থাতেই যুক্তিসংগত হবে না। কারণ প্রথম বিভাগের শিরোপাপ্রত্যাশী দলগুলোর প্রিমিয়ারে উঠে আসার সুযোগ কোনো অবস্থায়ই বন্ধ করা যাবে না। গত মৌসুম অর্থাৎ ২০১৫-২০১৬ তে আগের মৌসুমের অসমাপ্ত ম্যাচগুলো শেষ করেই ২০১৫-১৬ মৌসুমে শুরু হয়েছিল। প্রিমিয়ার থেকে রেলিগেটেড দলটির একই মৌসুমে দুটি লিগে অংশ নিতে হয়েছে। (২০১৪-১৫-র প্রিমিয়ার ও ২০১৫-১৬-র মৌসুমে প্রথম বিভাগ) অসমাপ্ত লিগ শেষ না হলে রেলিগেশন হবে না। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে রেলিগেটড হয়ে দুটি লিগে (প্রিমিয়ার ও প্রথম বিভাগ) অংশ নেওয়া দলটি যদি প্রিমিয়ার লিগে থেকে যাওয়ার দাবি উত্থাপন করে, সেটা কি অযৌক্তিক হবে? একটা অংশ অসমাপ্ত লিগ বাদ দিতে চাইবে রেলিগেশন থেকে নিজেদের দলকে বাঁচাতে; তারা আর কেউ নয় তারা ক্লাবমনস্ক জেলার ক্রিকেট কর্মকর্তাদের একটি অংশ। অতএব, গত মৌসুমের অসমাপ্ত লিগ শেষ করা ছাড়া কর্মকর্তাদের সামনে আর কোনো বিকল্পই নেই।

সামনে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন। কারণ পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে আগেই। এখন অনিবার্যভাবেই নির্বাচন হতে হবে। এরই মধ্যে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। অনেকেই নির্বাচনের দিকে ঝুঁকবেন। কিন্তু ক্রিকেটকে কোনো অবস্থায়ই উপেক্ষা করা যাবে না। নির্বাচনী কার্যক্রম চলবে পাশে ক্রিকেটও চলতে হবে। অতএব, ক্রিকেট কর্মকর্তারা ক্রিকেটের কাজে হাত দিন। সময় যে অনেকটা চলে গেছে।

বাংলাদেশের অন্য জেলা শহরগুলোয় ক্রিকেটের জন্য মাঠ হচ্ছে একটা বড় সমস্যা, সে জায়গায় মাঠ ময়মনসিংহের জন্য কোনো সমস্যাই নয়। সার্কিট হাউসের দুটি মাঠে প্রতিবছরই প্রিমিয়ার ও প্রথম বিভাগ হচ্ছে। প্রয়োজনে দ্বিতীয় বিভাগের অনেক ম্যাচও হয়ে থাকে। তা ছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদ ঘেষে যে ফাঁকা জায়গাটুকু আছে তা সংস্কার করে দ্বিতীয় বিভাগের অনেক খেলা চালানো যাবে। এ বছর স্টেডিয়াম মাঠে ক্রিকেট চালাতে হবে। গত কয়েক বছর স্টেডিয়াম সংস্কারের জন্য ক্রিকেট আয়োজন সম্ভব ছিল না। কিন্তু এখন ক্রিকেট চালানো যাবে, তবে দ্রুত পিচের কাজে হাত দিতে হবে। গত মৌসুমের অসমাপ্ত লিগ শেষ করে এ মৌসুমের তিনটি লিগই শেষ করা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু ক্রিকেট কর্মকর্তাদের সদিচ্ছা। দেরি না করে প্রস্তুতি শুরু করে দিন। সব খেলাই শেষ হবে, জটমুক্ত হবে ক্রিকেট।


মন্তব্য