kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘ক্রীড়ানায়ক শেখ কামাল’

সাইদুজ্জামান

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘ক্রীড়ানায়ক শেখ কামাল’

জীবনে ‘বুক রিভিউ’ করিনি। তাই শুক্রবারের সংখ্যায় একটি বইয়ের ‘রিভিউ’ করার পরিকল্পনা শুনে বিশেষ আগ্রহবোধও হয়নি।

কিন্তু বইয়ের বিষয়বস্তু দেখে অনেকটা ছোঁ মেরেই দায়িত্বটা নিয়ে নিয়েছি। বইটির বিষয়বস্তু যে মানুষটি, দীর্ঘদিন তাঁর সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকেই ‘বুক রিভিউ’তে অভিষেক!

সেলিম রেজার এ বইটির শিরোনাম ‘ক্রীড়ানায়ক শেখ কামাল’। ক্রীড়া সাংবাদিকতায় হাতেখড়ির আগেই জানি তিনি আবাহনী ক্রীড়াচক্রের ব্যানারে এ দেশে আধুনিক ফুটবলের প্রবক্তা। খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও পদচারণ ছিল তাঁর। অবশ্য তারও আগে, বিশেষ করে আমরা যারা সত্তরের প্রজন্ম, তাদের মাঝে শেখ কামালের প্রবল নেতিবাচক একটি ছবিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল সুকৌশলে। পরবর্তী সময়ে সে ভুলগুলো একে একে ভাঙছে। তবে সবটা ছবি মিলছিল না। সেলিম রেজা বহু ঘাম ঝরিয়ে বহুজনের স্মৃতিকথার সন্নিবেশ ঘটিয়ে শেখ কামালের মোটামুটি একটি বাস্তব ছবি দাঁড় করিয়েছেন। এ জন্য লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ।

সন্ধ্যায় অফিসে বইটি হাতে পাওয়ার পর বাসায় গিয়ে ডিনারের আগেই পড়া শেষ! যদিও এর পাঠ্যরস উচ্চমার্গীয় নয়। বরং মুদ্রণপ্রমাদে বারবার হোঁচট খেতে হয়েছে। এতে লেখকের আন্তরিকতা সামান্য চোটগ্রস্ত মনে হলেও তাঁর চেষ্টা কিংবা সদিচ্ছায় কোনো ঘাটতি নেই। ক্ষেত্রবিশেষে মনে হয়েছে, তার ভুলটা আরো কিছুটা বাড়িয়েছেন যাঁরা শেখ কামালের স্মৃতিচারণা করেছেন, তাঁরা। যেমন শেখ কামালের ব্যবহৃত গাড়িটি জিপ নাকি সেডান কার? সেটির রং কালো নাকি সবুজ? ব্যাংক ডাকাতির যে অপপ্রচার ছিল তাঁর বিরুদ্ধে, সেদিনের ঘটনার বর্ণনাতেও ধোঁয়াশা রয়েছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় গাড়ির কাচ নামিয়ে শেখ কামাল নিজের পরিচয় দেওয়ার পরই গুলিবর্ষণ বন্ধ করে পুলিশ। আরেকজনের মতে ক্রলিং করে গিয়ে নিজের পরিচয় দেওয়ার পর ভুলটা বুঝতে পারে পুলিশ। আবাহনী ক্লাব প্রতিষ্ঠা নিয়েও ভিন্নধর্মী ঘটনাক্রম আছে বিভিন্নজনের স্মৃতিচারণায়। আরেকটু নজর বুলিয়ে লেখক যদি ‘ক্রসচেক’ করে সত্যিকারের ঘটনাটা তুলে ধরতেন, সেটা পাঠকের বড় প্রাপ্তি হতো।

লেখক অত্যন্ত খেটেখুটে শেখ কামালের ঘনিষ্ঠজনদের খুঁজে বের করেছেন, দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তাঁদের। এ তালিকায় দুর্দান্ত সফল মানুষটির বাল্যবন্ধু থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী, শিক্ষক, খেলোয়াড় থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সহচর; সব স্তরের প্রতিনিধিত্বই রয়েছে। তবে তাঁদের বর্ণনা আরেকটু বিস্তারিত ও জীবন্ত হতে পারত। যেমন শেখ কামালের সাদামাটা জীবনাচার, পোশাক এবং তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তার কথা সবাই-ই বলেছেন। কিন্তু সেই জীবন্ত ছবিটা নেই। স্মৃতি থেকে আরো কিছু ঘটনা তুলে ধরলে ভালো হতো।

তবে যা আছে, তাই-বা কম কি? নিরহংকার, সাদামাটা কিন্তু অসম্ভব জনপ্রিয় সেদিনের শেখ কামালকে তুলে ধরার ঐকান্তিক চেষ্টাই করেছেন সেলিম রেজা। তাঁর সাংগঠনিক সামর্থ্যের প্রকাশ্য সাক্ষ্য হয়ে আছে আবাহনী। ফুটবল-ক্রিকেট খেলতেন, দক্ষতায় আরো এগিয়ে ছিলেন বাস্কেটবলে। সেতার বাজাতেন। সংগীতের আকণ্ঠভক্ত শেখ কামাল আড্ডারও মধ্যমণি ছিলেন বরাবরই। বইটিতে স্মৃতিচারণা যাঁরা করেছেন, সেসব যতই অসম্পূর্ণ মনে হোক না কেন; একটি বিষয় পরিষ্কার—পাড়ায়, মহল্লায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে, নাট্যমঞ্চে, রাজনীতিতে সবখানেই জনপ্রিয়তায় সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সব যোগ্যতাই ছিল শেখ কামালের। ছিল না শুধু রাষ্ট্রপ্রধানের পুত্র হওয়ার সামান্যতম অহংকার, অবিশ্বাস্য!

যা সব প্রজন্মের জন্যই অনুপ্রেরণাদায়ী।


মন্তব্য