kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অভাব মাঠ ও সরঞ্জামের

সাইদ উদ্দিন চাকলাদার জলি

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অভাব মাঠ ও সরঞ্জামের

পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকত তবে চিত্রটা ভিন্নই হতো। অবশ্য তার জন্য কঠিন প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন। উন্নত বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই জনসংখ্যার তুলনায় মাঠ অনেক বেশি। মানসম্পন্ন প্রশিক্ষকেরও অভাব নেই, দেশে ঘাটতি থাকলে তারা বাইরে থেকে কোচ আনিয়ে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বিদেশে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ক্রীড়াবিদদের নিয়ে আমরা আশার জাল বুনতে পারি। কিন্তু তারা এ দেশে এসে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে রাজি হবে কি!

চার বছর পরপর বাংলাদেশ থেকে অলিম্পিকে যাওয়া হয়। পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য কিছু না হলেও খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের দেশ ঘোরা হয়।

স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরও বাংলাদেশের খেলাধুলার মান বেশ নিচের দিকে। পাশের দেশ ভারতের দীপিকা কর্মকারকে দেখেও বোঝা যায় বাঙালি পিছিয়ে নেই। কিন্তু সাফল্য নেই বাংলাদেশের। এ পর্যন্ত ১২টি অলিম্পিকের মধ্যে ১০টিতে অংশ নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। কিন্তু অংশগ্রহণেই সীমিত তাদের অর্জন। এর পেছনে অনেক কারণ। তার মধ্যে প্রধান কারণই হলো খেলার মাঠ ও সরঞ্জামের অভাব।

যদি উন্নতমানের মাঠ ও খেলাধুলার সরঞ্জাম পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকত তবে চিত্রটা ভিন্নই হতো। অবশ্য তার জন্য কঠিন প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন। উন্নত বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই জনসংখ্যার তুলনায় মাঠ অনেক বেশি। মানসম্পন্ন প্রশিক্ষকেরও অভাব নেই, দেশে ঘাটতি থাকলে তারা বাইরে থেকে কোচ আনিয়ে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বিদেশে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ক্রীড়াবিদদের নিয়ে আমরা আশার জাল বুনতে পারি। কিন্তু তারা এ দেশে এসে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে রাজি হবে কি! প্রশিক্ষণের সেই সুযোগসুবিধা কি আমরা তাদের দিতে পারব? দেশের সম্ভাবনাময়দেরই তো আমরা তৈরি করতে পারছি না। ফেডারেশনগুলো করে কী! তারা কি শুধু নির্বাচন আর চেয়ারে বসেই দায়িত্ব শেষ করবে? খেলোয়াড় জোগাড় করে তাদের উন্নতমানের প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্বটা তাদেরই। সরকারকে তারা প্রস্তাব দিতে পারে যোগ্য খেলোয়াড়দের সম্মানজনক চাকরির ব্যবস্থা করার। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্রীড়া-প্রতিভা বৃত্তি চালু করা যেতে পারে। প্রতি জেলায় ক্রীড়া প্রশিক্ষণবিষয়ক শিক্ষা, ক্রীড়া চিকিৎসা-পুষ্টি ও ক্রীড়ার আধুনিক সরঞ্জাম বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এ ছাড়া ক্রীড়াবিদদের জন্য আজীবন সম্মাননা ও স্বতন্ত্র ক্রীড়া সম্মাননা চালু করা প্রয়োজন। এভাবে এগোলে অলিম্পিকে সাফল্য খুব দূরে থাকবে না।

রিও-র পর কী হলো? অ্যাথলেটদের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ণ কি হয়েছে সরকারি বা বেসরকারি কোনো পর্যায়ে? ভারত দুটি পদক জেতার পরও সে দেশের সরকার প্রশ্ন তুলেছে, এত এত ব্যয় করেও মাত্র দুটি পদক! সেখানে ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স পুরোপুরি পর্যালোচনা করা হবে। আমাদের এখানে কী হচ্ছে, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তো অ্যাথলেটদের পেছনে খরচ করা হচ্ছে, সেই অর্থের হিসাব কি নেওয়া হচ্ছে? ৪৪ বছরেও যা হয়নি, তা খুব অল্প সময়ে পাল্টে যাবে—এমনটা ধারণা করা অবশ্য বোকামি। তবে সদিচ্ছাটা বড় ব্যাপার। আজ স্বপ্ন দেখা হলে অদূর ভবিষ্যতে তা পূরণ হতেও পারে। তাই চেয়ার-টেবিল ছেড়ে মাঠে নামতে হবে কর্মকর্তাদের। জানা গেছে, পদ্মা সেতুর কাছে একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স তৈরি করবে বাংলাদেশ সরকার। এই কমপ্লেক্স আন্তর্জাতিক মানের হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। ১০০ একর জমির ওপর প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে। জাপান সরকার সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে এই ক্রীড়া প্রকল্পে। যে ঘোষণার পরপরই যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার বলেছেন, ‘ক্রীড়ার মানোন্নয়নের জন্য প্রতি উপজেলা ও জেলায় একটি করে স্টেডিয়াম হবে। ’ কিন্তু কবে সেই লক্ষ্য পূরণ হবে আমাদের? অনেক সময়ই দেখা যায়, সরকারের প্রতিশ্রুতি দীর্ঘ দিনেও বাস্তবায়িত হয় না। প্রতিশ্রুতি মানেই জনগণের বাহবা পাওয়া। সরকারের লোকজন সেই বাহবা পেয়েই কি খুশি? নিজেদের সামর্থ্য হিসাব করে প্রতিশ্রুতি দেওয়াটাই কি বাঞ্ছনীয় না? বাংলাদেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোয়ই এখন নিয়মিত খেলা নেই। মাঠের যত্ন নেওয়া হচ্ছে না। সেখানে উপজেলা পর্যায়ে স্টেডিয়াম করার ঘোষণা কতটা বাস্তবসম্মত? তবে এটা ঠিক, এই মুহূর্তে আমাদের দেশে মানসম্পন্ন মাঠের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, এর সঙ্গে প্রয়োজন প্রশিক্ষণের উন্নত সরঞ্জামাদি। সেদিকেই যেন লক্ষ্য রাখে সরকার, এটিই দেশের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের কামনা। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ক্রীড়া ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়াটাও এখন আমাদের সময়ের দাবি।


মন্তব্য