kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


১০ মিনিটেই বরখাস্ত

রাহেনুর ইসলাম

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



১০ মিনিটেই বরখাস্ত

দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকার ছদ্মবেশী চার প্রতিবেদক সেজেছিলেন ব্যবসায়ী। তাঁদের সামনে এফএর আইনের ফাঁক গলে কিভাবে সুবিধা নেওয়া যায় সেটাই বোঝাচ্ছিলেন ইংলিশ কোচ স্যাম অ্যালারডাইস।

একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যও করে চলেছিলেন ইউরোর পর ওয়েইন রুনিদের দায়িত্ব নেওয়া এই কোচ। দলবদলে ফুটবলারদের ওপর তৃতীয় পক্ষের প্রভাব বন্ধ করতে ২০০৮ সালে একটি আইন করে এফএ। সাত বছর পর ফিফাও সেই আইন অন্য সব দেশে কার্যকরের নির্দেশ দেয়। ছদ্মবেশী প্রতিবেদকদের কাছে অ্যালারডাইস দাবি করেন, সেই আইনের ফাঁক গলে দলবদলের বাজারে লাভবান হওয়ার পথ জানা আছে তাঁর। এমনকি চার লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে কল্পিত প্রতিষ্ঠানের দুটি শাখায় সফরও করতে চান। ওয়েম্বলিকে ঢেলে সাজাতে এফএর অতিরিক্ত টাকা খরচ করার সমালোচনাও করেন ৬১ বছর বয়সী এই কোচ। ইউরোয় ইংল্যান্ডের দায়িত্বে থাকা কোচ রয় হজসনকে নিয়ে জানান, ‘খেলোয়াড়দের ঘুম পাড়িয়ে দিত হজসন। ’ এমন কাণ্ডে তিনি চাকরি হারিয়েছেন মাত্র ৬৭ দিনে। ইউরোর পর অ্যালারডাইসের অধীনে একটা মাত্র ম্যাচ খেলেছে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের সেই ম্যাচে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছিলেন রুনিরা। এর চেয়েও কম সময়ে চাকরি হারানোর ইতিহাস আছে ফুটবলে। দেখে নেওয়া যাক একনজরে।

 

লিরয় রোজেনিয়র  (১০ মিনিট)

চার বছরে অনেক উত্থান-পতন দেখেছেন লিরয় রোজেনিয়র। ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত  ইংলিশ নন লিগের দল তুরকাই ইউনাইটেডকে যেমন লিগ ওয়ানে তুলেছিলেন তেমনি দেখেছেন অবনমনও। ২০০৭ সালে আবারও ফেরেন এই দলের কোচ হয়ে। ২০০৭ সালের মে মাসে আবারও চুক্তিবদ্ধ হন এই ক্লাবের সঙ্গে। কিন্তু বিস্ময়করভাবে চাকরি হারিয়েছিলেন মাত্র ১০ মিনিটে! এই সময়ে তো চুক্তিতে স্বাক্ষর করা কলমের কালিও শুকায়নি। এই ১০ মিনিটে কি এমন প্রলয় ঘটল যে চাকরি হারাতে হলো কোচকে? আসলে দোষটা ওয়েস্ট হাম ও সিয়েরা লিয়নের সাবেক এই ফুটবলারের নয়। তিনি যখন চুক্তি করছিলেন তখন ক্লাব কিনে নিচ্ছিল স্থানীয় একটি সংস্থা। তারা ক্লাব কেনার পর সবার আগে বিদায় করে ৬০০ সেকেন্ড আগের চুক্তিবদ্ধ কোচ রোজেনিয়রকে।

 

মার্সেলো বিয়েলসা (দুই দিন)

তাঁর আরেক নাম ‘এল লোকো’ বা পাগল। সেই পাগলামিই দেখেছে ইতালিয়ান দল লাৎসিও। এই বছরেই দায়িত্ব নিয়েছিলেন ক্লাবটির। কিন্তু দুই দিন পরই মার্সেলো বিয়েলসা পদত্যাগ করেন ইতালিয়ান ক্লাবটি থেকে! হতবাক লাৎসিও পরে মামলার হুমকিও দিয়েছিল এই আর্জেন্টাইনকে। কাজ হয়নি কোনো কিছুতে। কেন ৪৮ ঘণ্টা পর এভাবে পদত্যাগ করলেন বিখ্যাত এই কোচ? কিছুদিন মুখ বন্ধ রাখার পর আর্জেন্টিনার একটি দৈনিককে জানান, ‘গত মৌসুমে ১৮ জন ফুটবলার বিক্রি করেছে লাৎসিও। আমার সঙ্গে কথা হয়েছিল ৫ জুলাইয়ের মধ্যে কিনবে চারজনকে। কিন্তু কোনো ফুটবলার না কেনাতেই ছেড়ে দিই দায়িত্বটা। ’ ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনা আর ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চিলির কোচ ছিলেন তিনি। চিলির পর কোচ ছিলেন অ্যাথলেতিক বিলবাও আর মার্শেইয়র। সেই বিয়েলসাই কি না ৬ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্বে থেকে ছাড়েন লাৎসিও। তখন থেকে বেকারই আছেন বিয়েলসা!

 

কেভিন কুলিস (সাত দিন)

নব্বইয়ের দশকে ঘন ঘন কোচ বদলের বাতিক ছিল সোয়ানসির। সবচেয়ে খারাপ ভাগ্য কেভিন কুলিসের। ১৯৯৬ সালে মাত্র সাত দিন দায়িত্বে ছিলেন এই ক্লাবের। তাও দেড় ম্যাচ! তাহলে কি ম্যাচ চলার বিরতিতে চাকরি গেছে কুলিসের? কাগজে-কলমে না হলেও অনেকটা তাই। ব্ল্যাকপুলের সঙ্গে সেই ম্যাচে ০-৪ গোলে হারে সোয়ানসি। বিরতির সময়ই ক্লাব কর্তৃপক্ষ খেলোয়াড়দের জানিয়ে দেয় দায়িত্ব হারাতে যাচ্ছেন কুলিস। তাই বিরতির পর নিজেরাই নিজেদের কোচ হয়ে যান সোয়ানসি খেলোয়াড়রা! কুলিস সাইডলাইন থেকে নির্দেশ দিলেও এর কোনোটিই মানেননি তাঁরা। দুই বছরের চুক্তিতে সোয়ানসিতে যোগ দেওয়া কুলিস এরপর পাওনা আদায়ে মামলা করেন আদালতে। সাত দিনে চাকরি হারানোর পর কোচিং পেশাই ছেড়ে দেন কুলিস।

 

লেস রিড (৪২ দিন)

তিনি ছিলেন মূলত পরামর্শক। কোচ আর খেলোয়াড়রা নিতেন নানা পরামর্শ। ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডকে হারানো নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের পরামর্শকও ছিলেন লেস রিড। ২০০৫ সালে ছিলেন চার্লট অ্যাথলেটিকের কোচ ইয়ান ডোইসের সহকারী। ১৪ নভেম্বর ডোইসের চাকরি গেলে মূল কোচের দায়িত্ব পান রিড। ৪২ দিনের বেশি থাকা হয়নি তাঁর। কেননা সেই সময় একটা মাত্র ম্যাচ জিতেছিল চার্লটন। আর লিগ কাপ থেকে ছিটকে গিয়েছিল ফুটবল লিগ টুয়ের দল ওয়াইকোম্বে ওয়ান্ডারার্সের কাছে হেরে। একটা ইংলিশ অনলাইন জরিপে ‘সর্বকালের সবচেয়ে বাজে কোচ’ পর্যন্ত নির্বাচিত হয়ে যান রিড। তাই চাকরিটা হারান ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনে!

 

ব্রায়ান ক্লফ (৪৪ দিন)

নটিংহাম ফরেস্টের রূপকথার সাফল্যের নায়ক ব্রায়ান ক্লফ। তাঁর জাদু ছোঁয়ায় ১৯৭৮-৭৯ ও ১৯৭৯-৮০ সালের ইউরোপিয়ান কাপ (চ্যাম্পিয়নস লিগ) জিতেছিল নটিংহাম। প্রথম বিভাগের একটি শিরোপা আর চারটি লিগ কাপও জিতিয়েছিলেন তাদের। সেই ক্লফ কি না ১৯৭৪ সালে লিডস ইউনাইটেডে থাকতে পেরেছিলেন মাত্র ৪৪ দিন। এই ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়াটাই ছিল বিস্ময়ের। কেননা এর আগে লিডসের খেলোয়াড়দের অনেকবারই কড়া সমালোচনা করেছিলেন ক্লফ। এমনকি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম অনুশীলনে খেলোয়াড়দের বলেছিলেন, ‘তোমাদের পদকগুলো ময়লার ঝুড়িতে ছুড়ে ফেলতে পার, কেননা এগুলো জিতেছো অনৈতিক উপায়ে। ’ তখন থেকেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ তাঁর। ফলাফল প্রথম ৬ ম্যাচে জয় মাত্র একটি! তাই বিদায় নিতে হয় ৪৪ দিন পর।

 


মন্তব্য