kalerkantho


রোমান সম্রাট

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



 রোমান সম্রাট

তিনি ‘কিং অব রোম’। এএস রোমায় পদচারণ রাজার মতোই।

২৫ বছর কাটিয়ে ফেলেছেন ইতালিয়ান ক্লাবটিতে। এই দুই যুগের বেশি সময়ে কত উত্থান-পতন দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। কিন্তু ফ্রান্সেসকো তোত্তির প্রতি সমর্থকদের ভালোবাসা আগের মতোই। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ৪০ বছরে পা রাখছেন ইতালিয়ান এই কিংবদন্তি। ভক্তরা সেটা উদযাপন করেছে বিশেষ আয়োজনে। এর দুই দিন আগে আবার সিরি ‘এ’তে করেছিলেন নিজের ২৫০তম গোল। তোরিনোর বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে লক্ষ্য ভেদ করেন গোলরক্ষক জো হার্টকে বোকা বানিয়ে। জন্মদিনের আগাম উপহারই ছিল রেকর্ড গড়া সেই গোলটা।

সিরি ‘এ’র ইতিহাসে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এই মাইলফলকে পা রেখেছেন তোত্তি। ১৯৫৪ সালে অবসর নেওয়া ফরোয়ার্ড সিলভিও পিয়োলারই কেবল আছে ২৭৪ গোল। এই ২৪ গোলের ব্যবধান হয়তো পেছনে ফেলা হবে না তোত্তির। কেননা এই মৌসুম শেষে আনুষ্ঠানিক অবসর নিতে চলেছেন ফুটবল থেকে। কোচ লুসিয়ানো স্পালেত্তিও খেলাচ্ছেন বদলি হিসেবে। তোত্তিকে বেঞ্চে বসানোয় ভক্তদের রোষানলেও পড়েছেন কয়েকবার। এ কিংবদন্তির জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানালেন তিনিও, ‘রোমার জন্য আসলে এখন দরকার পাঁচজন তোত্তি। ওকে না খেলালে সবাই সমালোচনা করে আমার। কিন্তু ওর মতো কিংবদন্তি খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে আমাকে। এক তোত্তি দিয়ে তো হবে না। ’

১৯৯৪ বিশ্বকাপে আরিগো সাচ্চির হাত ধরে বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছিল ইতালি। এসি মিলানকে টানা দুইবার ইউরোপিয়ান কাপ (চ্যাম্পিয়নস লিগ) জেতানো সর্বকালের অন্যতম সেরা এই কোচ তোত্তির তুলনা করলেন বাস্কেটবলের মাইকেল জর্ডানের সঙ্গে, ‘এই ৪০ বছর বয়সেও ফ্রিকিক, পাস, গোল করায় আগের মতো রয়ে গেছে তোত্তি। আমার কাছে ও ফুটবলের মাইকেল জর্ডান। রিয়ালের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর থাকার সময় ওকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম স্প্যানিশ ক্লাবটিতে। কিন্তু এত বেশি টাকা আর রিয়ালে খেলার লোভ সামলে ভালোবাসার টানে থেকে গেছে রোমায়। ’ অনেকের কাছে এই ‘গ্ল্যাডিয়েটর’ বড়, এমনকি জুলিও সিজারের চেয়েও!

১৯৯৩ সালে রোমার জার্সিতে অভিষেক তোত্তির। ম্যাচটিতে ২-০ গোলে রোমা হারিয়েছিল ব্রেসিয়াকে। ১৯৯৮ সালে পান ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির নেতৃত্ব। এর দুই মৌসুম পর ১৮ বছরের আক্ষেপ মিটিয়ে রোমাকে জেতান সিরি ‘এ’। সে সময় বলেছিলেন, ‘চাইলে রিয়াল বা বার্সায় যেতে পারতাম। এই দিনটি দেখব বলে দল ছেড়ে যাইনি। ক্যারিয়ার শেষ করব রোমায়। সেটা অবশ্যই ৩৫ বছরের আগে। ’ কিন্তু এই ৪০ বছরেও একই দাপটে খেলে চলেছেন চিরসবুজ তোত্তি। তিনি থামবেন কোথায়?


মন্তব্য