kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

চূড়ায় ৩

২৪ বছরেও পারেননি শচীন টেন্ডুলকার। অথচ ১১ বছরের ক্যারিয়ারে একই মাঠে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সেঞ্চুরি করেছেন মুশফিকুর রহিম। মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আগামীকাল সেঞ্চুরি করবেন সাকিব আল হাসানও। একই মাঠে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকার তিনে আবার বাংলাদেশেরই তামিম ইকবাল। লিখেছেন রাহেনুর ইসলাম

রাহেনুর ইসলাম   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চূড়ায় ৩

চূড়ায় মুশফিকুর রহিম। এরপর সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল।

বিশ্ব ক্রিকেটের যেকোনো নিক্তিতে তিন বাংলাদেশির সেরা তিনে থাকাটা রঙিন কল্পনা নয়। ক্রিকেটের হাজারও রেকর্ডের ভিড়ে অন্তত একটা ক্ষেত্রে সেরা এই তিনজনই। প্রথম ও একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে একই মাঠে আন্তর্জাতিক ম্যাচ (টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে) খেলার সেঞ্চুরির কীর্তি মুশফিকুর রহিমের। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক খেলেছেন ১০৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। তাঁর ঠিক পেছনেই সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। মিরপুরে সাকিব খেলেছেন ৯৯ আর তামিম ৯৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আগামীকাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় সাকিব। অনন্য সেই সেঞ্চুরির চূড়ায় পা রাখতে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয় তামিমেরও। একই মাঠে চতুর্থ সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার কীর্তি জিম্বাবুয়ের হ্যামিল্টন মাসাকাদজার। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে তিনি খেলেছেন ৯১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সেই হারারে স্পোর্টস ক্লাবে পঞ্চম সর্বোচ্চ ৮৯ ম্যাচ খেলার কীর্তি জিম্বাবুয়ের এলটন চিগুম্বুরার।

একসময় তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন মুশফিকুর রহিম। চাপ কমাতেই দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানটি এখন শুধু টেস্টের নেতৃত্বে। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে একই মাঠে শততম ম্যাচ খেলার কীর্তিটা তাঁরই। সব মিলিয়ে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে তিনি খেলেছেন ১০৭টি ম্যাচ। এর ১৩টি টেস্ট, ৭৫ ওয়ানডে আর ১৯টি টি-টোয়েন্টি। এখানে তাঁর অনন্য সেঞ্চুরি গত এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২৮ ফেব্রুয়ারির টি-টোয়েন্টি ম্যাচটিতে লঙ্কানদের ২৩ রানে হারিয়ে মুশফিকের রেকর্ডটা স্মরণীয় করে রাখে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। তবে মুশফিক ফিরেছিলেন মাত্র ৪ রানে। এই ভেন্যুতে তাঁর আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেক ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে। ৮ উইকেটে জেতা ম্যাচটিতে অবশ্য সুযোগ হয়নি ব্যাটিংয়ের। তবে ডিসমিসাল ছিল দুটি। ৪৮টি টেস্টে তিন সেঞ্চুরি থাকলেও মিরপুরে এই ফরম্যাটের ১৩টি ম্যাচে তিন অঙ্কের দেখা পাননি এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬৯ রানের ইনিংসটিই হোম অব ক্রিকেটে মুশফিকের সেরা। টেস্টে তাঁর ক্যারিয়ার গড় ৩২.৩১, ওয়ানডেতে ৩১.৬১, টি-টোয়েন্টিতে ১৭.৫৭। তুলনায় মিরপুরে টেস্ট গড় ৩২.০০, ওয়ানডেতে ৩৩.৮৬ আর টি-টোয়েন্টিতে ২০.১৩। ওয়ানডের ৪টি সেঞ্চুরির দুটিই মিরপুরে। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের একমাত্র ফিফটিটিও এই ভেন্যুতে ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। প্রিয় এই ভেন্যুতে খেলেছেন ৭৫টি ওয়ানডে, যা একই মাঠে খেলা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওয়ানডের কীর্তি। শারজায় সবচেয়ে বেশি ৭৭টি ওয়ানডে খেলার রেকর্ডটা পাকিস্তানি কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরামের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই রেকর্ডটি নিশ্চিতভাবে ভাঙতে চলেছেন মুশফিক।

মিরপুরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের পা রাখা ২০০৬ সালের ৮ ডিসেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে। উপলক্ষটা এই অলরাউন্ডার স্মরণীয় করেন অপরাজিত ৩১ রানের পাশাপাশি ২টি উইকেট নিয়ে। ম্যাচটাও বাংলাদেশ জেতে বড় ব্যবধানে। এরপর শুধুই এগিয়ে যাওয়ার গল্প। ক্যারিয়ারের ৪২ টেস্টের ১৪টি খেলেছেন মিরপুরে। তাঁর টেস্টে রান গড় যেখানে ৩৯.৭৬ সেখানে মিরপুরে ৪৫.৫৪। উন্নতির চিত্রটা আছে ওয়ানডেতেও। ১৫৯টি ওয়ানডের ৭০টি খেলেছেন মিরপুরে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৫.১৮ গড়ের বিপরীতে মিরপুরে গড় ৩৯.১৬। পিছিয়ে অবশ্য টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং গড়ে। ৫৪টি টি-টোয়েন্টিতে রান করেছেন ২৩.৯৭ গড়ে। আর মিরপুরে খেলা ১৫টি টি-টোয়েন্টিতে গড় ২২.৩০। টেস্টে ১৪৭ উইকেটের ৪৪টি সাকিব নিয়েছেন মিরপুরে। ক্যারিয়ার গড়ের চেয়ে মিরপুরের গড় খারাপ কিছুটা। ক্যারিয়ার গড় যেখানে ৩৩.৩১ সেখানে মিরপুরে ৩৭.০৫। ওয়ানডেতে ২৭.৮৯ গড়ের বিপরীতে মিরপুরে ২৫.৩৬। টি-টোয়েন্টিতে বোলিং ক্যারিয়ার গড় ২০.৩৩ আর মিরপুরে ২৩.১৩। তিন ফরম্যাটে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসগুলোর মধ্যে টেস্টের সেরা ১৪৪ রানের ইনিংস মিরপুরে খেলেছেন সাকিব। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৪৪ রানের পাশাপাশি নেন ৬ উইকেটও। সেই ম্যাচে ২১তম ক্রিকেটার আর প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেটের কীর্তি গড়েন সাকিব।

ওয়ানডের ৬ সেঞ্চুরির ২টি মিরপুরে সাকিবের। তবে ক্যারিয়ার সেরা ১৩৪* রানের ইনিংসটি এই ভেন্যুতে নয়। আফগানিস্তান সিরিজের আগে মিরপুরে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেন গত বছরের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। সেই ম্যাচের ৪৭ রানে ৫ উইকেট ক্যারিয়ার সেরা সাকিবের। তবে ব্যাট বা বলে টি-টোয়েন্টির সেরা কোনোটিই মিরপুরে নেই এই অলরাউন্ডারের।

তামিম ইকবাল ৪২ টেস্টের ১৩টি খেলেছেন মিরপুরে। এখানে টেস্টে ব্যাট হাসেনি সেভাবে। ৩৪.৪১ গড়ে একমাত্র সেঞ্চুরিতে করেছেন ৮২৬ রান। অথচ তাঁর ক্যারিয়ার গড় ৩৯.৪৬ আর সেঞ্চুরি ৭টি। ওয়ানডেতে অবশ্য ৩১.৬৩ গড়ের বিপরীতে মিরপুরের গড় ৩২.৬৬। টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ার গড় ২৪.৫৫ আর মিরপুরে ১৯.৬৯। ২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে খেলেন ১৫১ রানের ইনিংস। ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ রানের জন্য মিস করেন সেঞ্চুরি। ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টির সেরা রানের ইনিংসও মিরপুরে খেলেননি বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যান। ওয়ানডেতে তামিমের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ১৫৪ আর টি-টোয়েন্টিতে অপরাজিত ১০৩। তবে মিরপুরে খেলা ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ইনিংস ১৩২ আর টি-টোয়েন্টিতে অপরাজিত ৮৮। ওয়ানডের সেরা ইনিংসটা খেলেছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে গতবছর। ১৩৫ বলে ১৫ বাউন্ডারি ৩ ছক্কায় ১৩২ রানের ইনিংসে বাংলাদেশ গড়ে ৬ উইকেটে ৩২৯ রানের পাহাড়। এর নিচে চাপা পড়ে পাকিস্তান হারে ৭৯ রানে। ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৯৭ রানের জবাবে ৬১ বলে ১০ বাউন্ডারি ২ ছক্কায় অপরাজিত ৮৮তেও জেতাতে পারেননি বাংলাদেশকে। মুশফিকের রহিমের দল ১ উইকেটে ১৭৯ করে হার মানে ১৮ রানে।


মন্তব্য