kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

৫০০

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



৫০০

দল ১৮ জনের। তাঁরা কথা বলেন ৯ রকম ভাষায়! ছয়জন হিন্দু, পাঁচজন মুসলমান, চারজন পারসি, শিখ দুজন, আরেকজন অন্য ধর্মের।

অ্যালকোহল ছুঁয়ে দেখতেন না মুসলিম ক্রিকেটাররা। অন্যদের আবার এসব ছাড়া চলেই না। এমন বিচিত্র দল নিয়ে সিকে নাইডুর নেতৃত্বে ১৯৩২ সালে প্রথম টেস্ট খেলতে ইংল্যান্ড যায় ভারত। ভালো খেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ছিল এই ১৮ জনের একটা দলে পরিণত হওয়া। সেই সফরে তাই ভারতের স্লোগান, ‘রাজনীতি নয়, জাত-পাত নয়; শুধুই ক্রিকেট। ’

লর্ডসে ২৪ হাজার দর্শকের সামনে দুরন্ত না খেললেও শ্রদ্ধা করার মতোই খেলেছিল ভারত। নিজেদের ইতিহাসের প্রথম টেস্টটা তিন দিনে তারা হারে ১৫৮ রানে। তবে হার্বার্ট সাটক্লিফ, ওয়ালি হ্যামন্ড, গডলাস জার্ডনদের মতো তারকা নিয়ে গড়া ইংল্যান্ডকে প্রথম ইনিংসে ২৫৯ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৭৫-এ বেঁধে রাখাটা ছিল কৃতিত্বের। মোহাম্মদ নিসার প্রথম ইনিংসে নেন ৫ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে জাহাঙ্গীর খানের শিকার ৪ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ নম্বরে নেমে অমর সিংয়ের ৫১ রান ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ। লর্ডসে প্রথম টেস্ট আঙিনায় পা রাখা ভারত কানপুরে খেলছে ৫০০তম টেস্ট। এ  নিয়ে ব্যাপক আয়োজনও করেছে বিসিসিআই। চলছে বিশেষ উদযাপন। জীবিত সাবেক সব অধিনায়ক আমন্ত্রণ পেয়েছেন কানপুরে। ম্যাচ চলার ফাঁকে টিভি পর্দায় ভেসে উঠছে ভারতের ৫০০তম টেস্টের পথচলা। এসব মাঠে দাঁড়িয়ে দেখে হয়তো আফসোসে পুড়ছেন কিউইরা। কেননা ভারতের দুই বছর আগে টেস্ট আঙিনায় পা রাখা নিউজিল্যান্ডের। তবে কানপুরে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ভারত যেখানে খেলছে ৫০০তম টেস্ট সেখানে নিউজিল্যান্ডের এটা ৪১৩তম ম্যাচ! ভারতের দুই বছর আগে প্রথম টেস্ট খেলেও ব্যবধান ৮৭ ম্যাচের। হতাশ হতেই পারেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।

হতাশার কারণ আছে অস্ট্রেলিয়ারও। ১৮৭৭ সালে টেস্ট ইতিহাসের প্রথম ম্যাচটা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিল তারাই। গত ১৩৯ বছরে ইংল্যান্ড খেলে ফেলেছে ৯৭৬ টেস্ট। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ৭৯১টি। একসঙ্গে শুরু করে তাদের টেস্ট কম ১৮৫টি। ৫০০-র চূড়ায় দুই বছর আগেও নাম ছিল কেবল ক্রিকেটের বনেদি এই দুই দেশের। ২০১৪ সালে তৃতীয় দল হিসেবে তাদের পাশে নাম লেখায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কানপুরে মাত্র চতুর্থ দল হিসেবে এই তালিকায় যোগ হলো ভারতের নাম। এ ছাড়া নিউজিল্যান্ড ৪১৩, দক্ষিণ আফ্রিকা ৪০৩, পাকিস্তান ৩৯৯, শ্রীলঙ্কা ২৫১, জিম্বাবুয়ে ৯৯ আর বাংলাদেশ খেলেছে ৯৩ টেস্ট। কপাল মন্দ দক্ষিণ আফ্রিকার। প্রোটিয়ারা প্রথম টেস্ট খেলে ১৮৮৯ সালে। ভারতে, নিউজিল্যান্ডের চেয়ে তাদের পিছিয়ে পড়ার কারণ বর্ণবাদের অভিশাপ। ২২ বছর নিষিদ্ধ থাকায়ই ৪০৩ টেস্টে আটকে আছে তারা। এই ২২ বছর খেললে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারতের আগে ৫০০তম টেস্টের মাইলফলকে নাম লেখাতে পারত প্রোটিয়ারাই।

ইংল্যান্ডের আছে আবার বিরল এক রেকর্ড। টেস্ট খেলুড়ে ছয়টি দল যেখানে ৫০০ ম্যাচ খেলতে পারেনি সেখানে ইংল্যান্ড নিজেদের মাটিতেই করে দেখিয়েছে সেই কৃতিত্ব! পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজের এজবাস্টনের ম্যাচটা ছিল নিজেদের দেশে ইংল্যান্ডের ৫০০তম। এই ৫০০ টেস্টের ১৩১টি লর্ডসে খেলেছে ইংল্যান্ড। নিজেদের দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪০৪ টেস্ট আয়োজনের নজির অস্ট্রেলিয়ার। এ ছাড়া ভারত ২৪৯, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৩৫, দক্ষিণ আফ্রিকা ২১৫টি আর পাকিস্তান নিজেদের মাটিতে খেলেছে ১৫১টি টেস্ট।

ম্যাচের সংখ্যায় ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও সাফল্যে সবাইকে ছাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া। ৭৯১টি টেস্টের ৩৭২টিই জিতেছে তারা। জয়ের হার ৪৭.০২ শতাংশ। টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৫০টি জয় ইংল্যান্ডের, সাফল্যের হার ৩৫.৮৬ শতাংশ। অভিষেকের দুই দশক পর প্রথম জয়ের স্বাদ পায় ভারত। এরপর থেকেই তাদের উত্থান। ২৫.৮৫ শতাংশ হারে তারা জিতেছে ১২৯টি টেস্ট।


মন্তব্য