kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ব্যাটসম্যানদেরই দাপট

রাহেনূর ইসলাম   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ব্যাটসম্যানদেরই দাপট

লম্বা-ভারী ব্যাট, পাওয়ার প্লে, ফিল্ডিং সীমাবদ্ধতা—সবই ব্যাটসম্যানদের উড়িয়ে-ঘুরিয়ে মারার জন্য। বোলাররা একেবারে অসহায়।

চার-ছক্কার পসরা সাজিয়ে দর্শক মাতানোর নামই যেন ক্রিকেট। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে আরো প্রকট হয়ে ওঠে ব্যাপারটা। তাই ২০১৫ সালের ৫ জুলাই থেকে প্রবর্তন নতুন নিয়মের। তাতে কিছুটা স্বস্তি বোলারদের। এখন আর শেষ ১০ ওভারে ৩০ গজ বৃত্তের বাইরে চারজন ফিল্ডার নিয়ে হাত কামড়াতে হয় না বোলারদের। পাঁচজন ফিল্ডার নিয়ে রান স্রোতে বাঁধ দেওয়াটা স্বস্তিরই হওয়ার কথা। কিন্তু আসলেই হয়েছে কি?

ওয়ানডের নতুন নিয়ম চালুর পর ইংল্যান্ড-পাকিস্তানের চতুর্থ ওয়ানডে পর্যন্ত ম্যাচ হয়েছে ১১৩টি। এত ওয়ানডের পর নিয়ম বদলের সুফল বা কুফল দৃশ্যমান হওয়ার কথা। হয়েছেও। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের ৪ জুলাই পর্যন্ত শেষ ১৫ ওভারে বোলারদের ওপর রোলার কোস্টার চালিয়ে ব্যাটসম্যানরা রান নিয়েছেন ওভারপিছু ৭.৮১ রেটে। বাউন্ডারি হয়েছে প্রতি ৬.৭ বল অন্তর। এর কারণও আছে। শেষ ১৫ ওভারের মধ্যে ৩৬ থেকে ৪০ পর্যন্ত পাওয়ার প্লে নিতেন ব্যাটসম্যানরা। তখন ৩০ গজের বাইরে থাকতে পারতেন তিনজন ফিল্ডার। শেষ ওভারেও পাওয়ার প্লের ‘মুড’। বৃত্তের বাইরে ফিল্ডার যে মাত্র চারজন! সেই নিয়মটি বদলে ৪১ থেকে ৫০ ওভারে বৃত্তের বাইরে থাকতে পারেন এখন পাঁচজন ফিল্ডার। নেই এর আগের পাঁচ ওভারে ব্যাটসম্যানদের প্রিয় পাওয়ারপ্লে। তাই নতুন নিয়মে শেষ ১৫ ওভারে ১১৩ ওয়ানডেতে ওভারপিছু রান হয়েছে ৬.৯৫ রেটে। বাউন্ডারি হয়েছে প্রতি ৮.৭ বল পর। পরিসংখ্যানই বলছে বোলাররা কিছুটা সুবিধা পেয়েছেন এই সময়ে।

এসব অবশ্য দমিয়ে রাখতে পারেনি ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের। বরং তাঁদের ব্যাটে ধার বেড়েছে আরো। পাকিস্তানের বিপক্ষে তো ৪৪৪ রানের নতুন বিশ্ব রেকর্ডই গড়েছে এউইন মরগানের দল। এত দিন ২০০৬ সালে দুর্বল নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার ৪৪৩ ছিল ওয়ানডের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ। ‘সবল’ পাকিস্তানি বোলারদের পাড়ার মানে নামিয়ে ট্রেন্টব্রিজে সেই রেকর্ডই ভেঙেছে ইংলিশরা। মোহাম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজ, ইয়াসির শাহর মতো বোলার অসহায়ই ছিলেন সেদিন। বাংলাদেশের কাছে হেরে গত বিশ্বকাপে পরের রাউন্ডে যাওয়া হয়নি ইংলিশদের। এরপর থেকে তারা কিন্তু বদলে যাওয়া দল। বিশ্বকাপের পর খেলা ২৮ ওয়ানডের ৬টিতে ৩৫০ বা এর বেশি রানের ইনিংস খেলেছে তারা। এ ছাড়া ৩০০ থেকে ৩৪৯ পর্যন্ত আছে আরো ছয়টি ইনিংস। অথচ এর আগে খেলা ৬৪৪ ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের ৩৫০ ছড়ানো ইনিংস মাত্র দুটি। এমন দুরন্ত ছন্দ নিয়ে বাংলাদেশ সফরে নিশ্চয়ই বিশ্বকাপের প্রতিশোধ নিতে আসবে তারা। নিরাপত্তার কারণে শেষ পর্যন্ত সেরা দলের কতজন আসেন এর ওপরও অবশ্য নির্ভর করবে সিরিজের ভাগ্য।

ইংল্যান্ডের ফর্মে বাংলাদেশের ভয়ে কুঁকড়ে যাওয়ারও কিছু নেই। কেননা নতুন নিয়ম চালুর পর বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরাও ঘুম কেড়ে নিয়েছেন প্রতিপক্ষ বোলারদের। এই সময়ে খেলা ছয়টি ওয়ানডের পাঁচটিতে জিতেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও সিরিজ জয়ের পর হোয়াইটওয়াশ করেছে জিম্বাবুয়েকে। এই সময়ে মাশরাফির দল ওভারপিছু রান নিয়েছে ৫.৬৭ রেটে আর ব্যাটিং গড় ৩৭.৫৫। এই দুটি পরিসংখ্যানে নতুন নিয়ম চালুর পর বাংলাদেশ পেছনে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলোকেও। নতুন নিয়মে ওভারপিছু ৬.৩৯ রেট আর ৪১.৫৩ ব্যাটিং গড় নিয়ে শীর্ষে ইংল্যান্ড। ৬.০৫ রেট আর ৪১.১৫ ব্যাটিং গড় নিয়ে দুইয়ে নিউজিল্যান্ড। এরপর একে একে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

গত ১৪ মাসে ১১৩টি ওয়ানডের মধ্যে জয়-পরাজয় হয়েছে ১০৮টিতে। আর পরিত্যক্ত হয়েছে পাঁচটি। আগে ব্যাটিং করে বা রান তাড়া করে জেতা ম্যাচের সংখ্যাটা কাকতালীয়ভাবে সমান ৫৪! তবে প্রথমে চাপমুক্ত হয়ে ব্যাটিং করা যায় বলে এগিয়ে আছে রান রেটটা। শুরুতে ব্যাটিং করা দলের রান রেট যেখানে ৫.৪০ আর গড় ৩২.৮৩, সেখানে পরে ব্যাট করা দলের রান রেট ৫.২৫ ও গড় ৩১.০৭। নতুন আইনের আগে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রথমে ব্যাট করা দলের রান রেট ছিল ৫.৫৫ ও গড় ৩৪.১২। রান তাড়া করা দলের বেলায় রান রেট ৫.৩২ ও গড় ৩০.৫৯। বুঝতেই পারছেন নতুন নিয়মের পরও রান তাড়া করা দলের রান রেট বা গড় আগের তুলনায় বেশি। ওয়ানডেটা তাই এখনো ব্যাটসম্যানদেরই খেলা।


মন্তব্য