kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শেষ বয়সে এত অপমান বোধ হয় প্রাপ্য ছিল না

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



শেষ বয়সে এত অপমান বোধ হয় প্রাপ্য ছিল না

ছবি : মীর ফরিদ

সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে গেলে আপনার চোখ ভিজে যাবে। যখন শুনবেন, জাতীয় পর্যায়ে ৬৯টি সোনার পদক জেতা একজন কিংবদন্তি দৌড়বিদ ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে না পেরে ঢাকায় আসতে পারেন না।

দখলদারদের কবলে পড়ে জমিজমা হারিয়ে জেলের ঘানি টানতে হয়। দূরপাল্লার দৌড়ে ২০ বছর রাজত্ব করা মোস্তাক আহমেদ জীবনের দৌড়ে এমনই পিছিয়ে। নোমান মোহাম্মদ তাঁর সাফল্যের গল্প শুনতে শুনতে আপ্লুত হচ্ছিলেন শুরুতে আর শেষে এসে পেলেন লজ্জা। একজন মুক্তিযোদ্ধা আর চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়কে পরাজিত চেহারায় দেখার লজ্জা।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ জাতীয় অ্যাথলেটিকসে দূরপাল্লার দৌড়ে আপনি চ্যাম্পিয়ন ছিলেন অনেকটা সময়। ঠিক কত বছর, মনে আছে?

অনারারি ক্যাপ্টেন (অব.) মোস্তাক আহমেদ : ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় অ্যাথলেটিকস হয়। তখন থেকেই আমার দৌড় শুরু। দৌড়াই ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত। প্রতিবার চার-পাঁচটি করে ইভেন্টে হই প্রথম। আর তা-ও রেকর্ড গড়ে। নিজের রেকর্ড নিজে ভেঙেছে বহুবার।

প্রশ্ন : ইভেন্ট ছিল কোনগুলো?

মোস্তাক : ৮০০ মিটার, ১৫০০ মিটার, পাঁচ হাজার মিটার, ১০ হাজার মিটার, ম্যারাথন—এগুলো ব্যক্তিগত ইভেন্ট। পাশাপাশি ৪ী৪০০ মিটার রিলেতে দৌড়াই। একবার তো সেনাবাহিনীর প্রয়োজনে ৪ী১০০ মিটার রিলেতেও অংশ নিই। প্রথম হই সেখানেও। তবে প্রতিবার যে সব ইভেন্টে খেলি, তা নয়। ১৯৯৩ সালে সর্বশেষ দৌড়াই যেমন পাঁচ হাজার মিটার ও ৪০০ মিটার রিলেতে। দুটিতেই সোনার পদক জিতে আমার শেষ।

প্রশ্ন : টানা ২০ বছর এত ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন। সোনার পদকের সংখ্যা নিশ্চয়ই অনেক?

মোস্তাক : যতটুকু হিসেব আছে, সোনার পদক ৬৯টি।

প্রশ্ন : ৬৯! জাতীয় অ্যাথলেটিকসে?

মোস্তাক : হ্যাঁ। আমার কাছে ওই আমলের পেপার কাটিং আছে। তা দেখাচ্ছি...

প্রশ্ন : টানা ২০ বছর জাতীয় প্রতিযোগিতায় দৌড়ানোই অবিশ্বাস্য। সেখানে আবার এত এত সোনার পদক! পেপার কাটিং না হয় একটু পর দেখছি। আগে বলুন তো, অন্য কোনো পদক পাননি? মানে দ্বিতীয়-তৃতীয় হন কখনো?

মোস্তাক : জাতীয় অ্যাথলেটিকসে আমি একবারই শুধু দ্বিতীয় হই। ১৯৭৩ সালের প্রথম অংশগ্রহণে ১৫০০ মিটারে। তখন নতুন খেলোয়াড় তো, একটু ভুল হয়ে যায়। কিন্তু পরের বছর থেকে আর কোনো ইভেন্টে আমার ধারেকাছেও আসতে পারেনি কেউ।

প্রশ্ন : কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পারেনি?

মোস্তাক : চেষ্টা করে অনেকে। চ্যালেঞ্জ পর্যন্ত করে। কিন্তু লাভ হয়নি। ১৯৭৪ সালে দ্বিতীয় জাতীয় অ্যাথলেটিকসের একটি ঘটনা বলি। পেপারে নিজের ছবি দিয়ে মীনু খাদেম বলে, ‘এবার ঘুমন্ত সিংহ জাগবে। আমার সঙ্গে ১৫০০ মিটারে মোস্তাক পারবে না। ’ সে কথা অবশ্য আমি জানি না। ম্যারাথন দৌড়ে রেকর্ড করে সোনার পদক জিতি। এর দুই ঘণ্টা পরই ১৫০০ মিটার। আমি তখন হাবিলদার। সেনাবাহিনীর সৈনিকরা এসে আমাকে ওই পেপার দেখিয়ে বলে, ‘হাবিলদারজি, মীনু খাদেম কী বলেছে দেখুন। আপনাকে তো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। ’ সংবাদপত্রে তা দেখে জেদ চেপে যায়। এমনিতে ম্যারাথন করে এসেছি, কয়েক ঘণ্টা পরই ১৫০০ মিটার দৌড়ানোর ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু মীনু খাদেম চ্যালেঞ্জ করার পর মনে হয়, আমাকে দৌড়াতে হবে। ১৫০০ মিটার দৌড়াই এবং নতুন রেকর্ড করে সোনার পদক জিতি। পরে ‘ঘুমন্ত সিংহ’ আর কী বলবে! আস্তে করে চলে যায় মাঠ থেকে।

প্রশ্ন : দৌড় তো ঠিক ফুটবল না যে ছোটবেলায় সবার মতো বলে লাথি মেরে এর শুরু। এই দৌড়ে আপনার আগ্রহ হয় কিভাবে?

মোস্তাক : ছোটবেলা থেকে আগ্রহ খেলাধুলায়। সিলেটের বিয়ানীবাজার থানার বাড়ইগ্রামে আমার জন্ম। বাবা মো. তকলিম আলী কৃষক। মা মকলিসা বেগম পরিবার সামলান। চার ভাই, তিন বোনের মধ্যে আমি দ্বিতীয়। কৃষকের ছেলে হিসেবে বাবাকে ক্ষেতে সাহায্য করতে হয়। স্কুল থেকে ফিরে ক্ষেতে যাই। আর আমার দৌড় শুরু বলতে পারেন স্কুলে। সেখানে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয়। তাতে দৌড়ে আমি প্রথম। পুরস্কার হিসেবে দেয় টিন দিয়ে বানানো পদক। তা নিয়েই আমার কী খুশি! বাসায় এনে দেখানোর পর মা-বাবাও খুশি হন অনেক।

প্রশ্ন : স্কুলের দৌড় মানে তো ১০০ মিটার, বড়জোর ২০০ মিটার। দূরপাল্লার দৌড়ে আসেন কিভাবে?

মোস্তাক : কিভাবে আসি, তা পরের কথা। আগের কথা হলো, জীবনে প্রথম লম্বা দৌড় দৌড়াই জীবন বাঁচানোর জন্য। মুক্তিযুদ্ধের সময়।

প্রশ্ন : কাহিনীটি একটু যদি বলেন।

মোস্তাক : অনেক লম্বা কাহিনী। শুনবেন?

প্রশ্ন : হ্যাঁ, বলুন না...

মোস্তাক : আমি ইপিআরে ভর্তি হই ১৯৭০ সালে। ১৯৭১ সালে পোস্টিং ছিল পার্বত্য অঞ্চলে। হেলিকপ্টারে করে আমাদের সেখানে দিয়ে আসা হয়। দেশে স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হলে ওয়ারলেসে খবর পাঠায় চট্টগ্রামে আসার জন্য। দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ বলে কথা, হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারি! দুই দিন-দুই রাত জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হেঁটে আমরা ৩৫ জনের প্লাটুন আসি চট্টগ্রামের কালুরঘাটে। সেখানে পাই ক্যাপ্টেন হারুনকে। তিনি কিছু নির্দেশনা দিয়ে আমাদের বলেন চট্টগ্রাম কোর্ট বিল্ডিংয়ে অবস্থান নিতে। কিন্তু ওখানে পাঞ্জাবিরা আক্রমণ করে। ঘেরাও করে চতুর্দিক। ওরা নিচ থেকে গুলি করে, আমরা ওপর থেকে। টানা তিন দিন এই অবস্থা। এরপর আমাদের খাওয়া শেষ, পানির লাইনও ওরা কেটে দেয়। সিঁড়ি দিয়ে পাঞ্জাবিরা উঠতে চায়, আমরা গুলি করে ফেলে দিই। তিন দিন পর ওরা একটু পিছু হটে। আমরা নিউমার্কেটে গিয়ে দোকান ভেঙে চিঁড়া এনে খাই। কিন্তু ওতে কি পেট ভরে! সবার তখন কাহিল অবস্থা। আবার কোর্ট বিল্ডিংয়ে গেলে কয়েকজন এসে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনারা কী মুক্তিযোদ্ধা?’ উত্তর শুনে বলে, ‘আমরাও মুক্তিযোদ্ধা। এখানে থাকেন, আমরা খাবার নিয়ে আসি। ’ কিন্তু ওরা ছিল রাজাকার। খাবারের বদলে আবার পাঞ্জাবি নিয়ে আসে। এবার যখন হঠাৎ আক্রমণ করে, আমাদের ডিফেন্স করার উপায় থাকে না। চারপাশে দেখি একের পর এক সবাই পড়ে যাচ্ছে। আমি দিলাম দৌড়। কোনোদিকে না তাকিয়ে শুধু দৌড়াই আর দৌড়াই। দেড় মাইল-দুই মাইল দৌড়ে পাই এক বুড়িকে। তাঁর কাছে জিজ্ঞেস করে যাই নোয়াপাড়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে। ওই যে দেড়-দুই মাইল দৌড়ে দিলাম, তা-ই আমার জীবনের প্রথম দূরপাল্লার দৌড়। কোনো পদকের জন্য ওই দৌড় না, জান বাঁচানোর জন্য।

প্রশ্ন : এমনিতে এর আগের সময়টায় কি দৌড়ে আগ্রহ ছিল?

মোস্তাক : ওই যে বললাম না, স্কুলে দৌড়েছি। কিন্তু পরে যে দূরপাল্লার দৌড়বিদ হই, সেই দূরপাল্লার দৌড় স্কুলে ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের সময় জান বাঁচানোর জন্য দৌড়াই প্রথম দূরপাল্লার দৌড়।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় বারবার নিশ্চয়ই মৃত্যুর মুখোমুখি হন?

মোস্তাক : অনেকবার। ইপিআরে থাকলেও স্বাধীনতার সময় আমি যুদ্ধ করি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে থেকে। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে বেতন পাই মাসে ৭৫ টাকা। প্রথমে যুদ্ধ করি চট্টগ্রামের কালুরহাট, মদিনাঘাট, কুমিরা, বেলুনিয়ায়। ওখানে টিকতে না পেরে চলে যাই ভারতে। পরে দেশে ফিরে চার নম্বর সেক্টরের অধীনে সিলেটে যুদ্ধ করি। কত যুদ্ধে আমার কত ভাই শহীদ হয়েছেন! এই দেখুন, আমার কাঁধেও লাগে গুলি। যে দাগ এখনো আছে। সিলেটর গুটারগ্রাম যুদ্ধে গুলি লাগে। একটু ভালো হয়ে আবার যোগ দিই যুদ্ধে।

প্রশ্ন : ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় অ্যাথলেটিকসে অংশ নেওয়ার কথা বলেছেন। অ্যাথলেটিকসের মূল স্রোতে আসেন তাহলে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরই?

মোস্তাক : এখানে একটি সিদ্ধান্ত আমার অ্যাথলেট হওয়ার পর তৈরি করে দেয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমাদের জিজ্ঞেস করা হয়, কে কোন বাহিনীতে যাবে। আমি থেকে যাই সেনাবাহিনীতে। কারণ ছোটবেলা থেকে আমার খেলাধুলার শখ; আর জানি যে সেনাবাহিনীতে খেলাধুলার সুযোগ বেশি। উৎসাহ বেশি। ইপিআর তখন বিডিআর হয়েছে। সেখানে গেলে সীমান্তে সীমান্তে থাকতে হবে। এখানে আবার আরেকটি জেদও কাজ করে। যুদ্ধের আগে ইপিআরে নিজেদের মধ্যে দৌড়ের ট্রায়ালে আমি আরেকজনের পায়ে বাড়ি লেগে পড়ে যাই। তবু হই দ্বিতীয়। পায়ে বাড়ি লেগে না পড়ে গেলে প্রথমই হতাম। কিন্তু ওই দ্বিতীয় হওয়ার কারণে ইপিআরের মূল অ্যাথলেটিক দলে যেতে পারিনি। মনে তাই জিদ ছিল, যাদের পেছনে পড়ে গেলাম, তাদের আমি একদিন পেছনে ফেলব। যুদ্ধের সময় তো আর এসব ভাবার সুযোগ ছিল না। কিন্তু যুদ্ধ শেষে যখন বাহিনী বেছে নেওয়ার প্রশ্ন আসে, তখন সেনাবাহিনীতে খেলার উৎসাহ বেশি বলে আমি সেখানেই যাই।

প্রশ্ন : ইপিআরের ওই অ্যাথলেটদের পরে পান ট্র্যাকে?

মোস্তাক : ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালের জাতীয় অ্যাথলেটিকসে ওদের অনেকেই ছিল। তারা আমার কাছে মার খেয়ে যায়। ফলে আর মাঠে আসে না। এদিকে আমি চার-পাঁচটি করে পদক পাই প্রতিবার। এর মধ্যে আমাকে নিয়ে আবার টানাটানি শুরু হয় সেনাবাহিনী ও বিডিআরের মধ্যে।

প্রশ্ন : কেন?

মোস্তাক : আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু যুদ্ধ শেষ করে বসে থাকিনি। কিভাবে দেশের নাম বাড়ানো যায়, সে চেষ্টা করি দৌড়ের মাধ্যমে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রতিবছর জাতীয় অ্যাথলেটিকসে চার-পাঁচটি করে সোনার পদক এনে দিই। এই বাহিনীর হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিই, তাদের সোনার পদক জেতানো আমার কাছে তাই বিরাট ব্যাপার। আর টানাটানির কথা যে বলছিলাম? জাতীয় অ্যাথলেটিকসে রেকর্ড করে সোনার পদক পাওয়ার পর আমাকে নিয়ে দেশের সব সংবাদপত্র মশহুর, পুরো বাংলাদেশ মশহুর। তখন সেনাবাহিনীকে চিঠি দেয় বিডিআর, ‘মোস্তাক তো আগে আমাদের বাহিনীতে ছিল, ওকে আমাদের কাছে ফেরত দেওয়া হোক। ’ কিন্তু আমি সেনাবাহিনী ছাড়ব না। সেনাবাহিনীর প্যাডে তা লিখে জানিয়ে দিই। এর পরও বিডিআরের জওয়ানরা প্রতিযোগিতার সময় দেখা হলেই বলত, ‘মোস্তাক ভাই, আপনি থাকলে আমরা চার-পাঁচটি করে সোনার পদক জিততাম। ’ দাঁড়ান, পদক জেতার পেপার কাটিংগুলো দেখাই।

প্রশ্ন : হ্যাঁ, শিরোনাম দেখছি ‘মুস্তাকের ২৯তম স্বর্ণপদক’...

মোস্তাক : এটি তো শুরুর দিকের। সামনে পৃষ্ঠা ওল্টান। (আরেকটি পেপার কাটিং দেখিয়ে) এই দেখুন ‘মুস্তাকের ৪৫তম স্বর্ণপদক’, ‘ষোড়শ জাতীয় অ্যাথলেটিকসে মুস্তাকের ৬৪তম এবং লুবনার প্রথম স্বর্ণ’।

প্রশ্ন : সত্যি অবিশ্বাস্য। এখানে ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’য় সংবাদ শিরোনাম দেখছি, ‘দৌড়ে মুস্তাক ইতিহাস সৃষ্টি করলেন’। কোন ইতিহাস?

মোস্তাক : ওই যে ম্যারাথন করে এসে ঘণ্টাদুয়েকের মধ্যে ১৫০০ মিটার দৌড়ে সোনার পদক জেতার গল্পটি বললাম, সেই ইতিহাস। এ ছাড়া সেবার চারটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে চারটিতেই জাতীয় রেকর্ড গড়ে প্রথম হই। সে কারণেও লিখেছে ইতিহাস সৃষ্টি করার কথা।

প্রশ্ন : আরেক শিরোনাম, ‘মুস্তাককে দেড় মিনিটের ব্যবধান ঘোচাতে হবে। ’ এই দেড় মিনিটের ব্যাপার কী?

মোস্তাক : তখন পাঁচ হাজার মিটারে আমার দৌড়ের যে টাইমিং ছিল, তা বিশ্ব রেকর্ডের চেয়ে দেড় মিনিট বেশি। ১৯৭৫ সালে রাশিয়া যাই দৌড়াতে। ওখানে দৌড়ানোর পর এ লেখা। এ কারণেই তো বলি, যদি ভালো প্রশিক্ষণ পেতাম, খাওয়া-দাওয়া পেতাম, তাহলে অলিম্পিকে সোনার পদক জেতা আমার জন্য অসম্ভব ছিল না। এই দেখুন আমার একসময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী মীনু খাদেমও লিখেছেন, ‘কৃতী অ্যাথলেট মুস্তাককে নিয়ে অনেক আশা। ’

প্রশ্ন : এখানে শিরোনাম ‘চারদিকে মুস্তাক, মুস্তাক ধ্বনি’। আরেকটি ‘শাবাশ মুস্তাক’। দর্শকদের কাছেও তখন জনপ্রিয় ছিলেন দেখছি...

মোস্তাক : কেমন জনপ্রিয় ছিলাম, সে আমলের দর্শকদের কাছে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারবেন। চট্টগ্রাম, যশোর যেখানে খেলতে যাই, উৎসাহ পাই খুব। আমি যখন মাঠে নামি, লোকজন গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে যায়। সবাই চিৎকার করে ‘মোস্তাক ভাই, মোস্তাক ভাই’। ওই যে ম্যারাথন দিয়ে এসে ১৫০০ মিটারে প্রথম হই, এরপর মানুষ আমাকে আরো বেশি ভালোবাসা শুরু করে। সবাই শাবাশি দেয়, হাততালি দেয়। পাঁচ হাজার মিটারে যে দ্বিতীয় হয়, সে আমার দুই-তিন চক্কর পেছনে থাকে। ১০ হাজার মিটারে থাকে চার-পাঁচ চক্কর পেছনে। এগুলোয় দর্শকরা মজা পায়। দৌড়ের পর আমাকে কাঁধে নিয়ে ঘোরায় পুরো স্টেডিয়াম। সেই ভালোবাসার কথা মনে পড়লে এখনো চোখে পানি এসে যায়।

প্রশ্ন : তখন তো বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবলাররা। তাঁদের সঙ্গে আপনার জনপ্রিয়তার তুলনা যদি করেন?

মোস্তাক : ওদের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিলাম না। মনে রাখতে হবে, ফুটবলে মোহামেডান-আবাহনীর খেলোয়াড়রা শুধু নিজ দলের সমর্থকদের উৎসাহ পায়। কিন্তু আমার বেলায় কোনো ভাগ নেই। সবাই সমর্থন দেয়। সালাউদ্দিন, মনজু, টুটুল, রামা ওরা সবাই তো হিরো। আমিও একরকম হিরো ছিলাম। মানুষ আমাকে মনে হয় আরো বেশি ভালোবাসত।

প্রশ্ন : সেনাপ্রধান কেএম শফিউল্লাহর প্রশংসাপত্র দেখছি। জেনারেল এরশাদের কাছ থেকে পুরস্কার নেওয়ার ছবিও। সেনাপ্রধানদের কাছ থেকে উৎসাহ পান কেমন?

মোস্তাক : অনেক। তাঁরা স্পোর্টস ডিরেক্টরকে বলে দিতেন, ‘মোস্তাককে অন্য কোনো ডিউটি দেবে না। ও শুধু দৌড়ের অনুশীলন করবে। ’ জেনারেল শফিউল্লাহ, জেনারেল এরশাদ সবাই উৎসাহ দেন। কাঁধে হাত রেখে হাল-হকিকত জিজ্ঞাসা করেন। সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিতেন জেনারেল নুরুদ্দিন সাহেব। খেলাধুলা শেষে ১৯৯৪ সালে সেনাবাহিনী থেকে কুয়েত সিকিউরিটি ব্যাটালিয়নে যাই। সেখান দুই বছর চার মাস থেকে বেশ কিছু টাকা কামাই করে নিয়ে আসি। এ সুযোগও সেনাবাহিনী করে দেয় আমাকে।

প্রশ্ন : আপনার দৌড়ের অনুশীলন ছিল কী রকম?

মোস্তাক : অনুশীলন করি একা একা। রাস্তায় রাস্তায় গাড়ির সঙ্গে দৌড়াই। বাস-ট্রাকের পেছনে ছুটে নিজে নিজে বুঝি কত সময় দৌড়াতে পারি। রাস্তায় সাইকেলে চড়া কাউকে পেলে বলি, ‘ভাই, তুমি জোরে জোরে চালাও, দেখি তোমার সঙ্গে আমি দৌড়ে পারি কি না। ’ ও চালাতে চালাতে ক্লান্ত হয়ে পেছনে পড়ে যায় কিন্তু আমি ক্লান্ত হই না। ম্যারাথন দৌড় তো ২৬ মাইলের কিছু বেশি। আমি অনুশীলনে দৌড়াই ৪০ মাইল, ৪৫ মাইল। একবার তো কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে দৌড়ে ব্রাক্ষণবাড়িয়া পর্যন্ত যাই চলে। টানা ৫৫ মাইল দৌড়! এরপর আর ফেরার শক্তি নেই। বাসে করে ফিরি কুমিল্লায়। অনুশীলনে ৪০-৫০ মাইল করে দৌড়ানোর পর প্রতিযোগিতায় গিয়ে ম্যারাথনের ২৬ মাইল আমার কাছে কোনো ব্যাপার মনে হয় না। প্রথম জাতীয় অ্যাথলেটিকসে ম্যারাথনে আমি যখন দৌড় শেষ করি, দ্বিতীয়তে থাকা প্রতিযোগী তখন সাত মাইল পেছনে। ওর ২০ মাইলও হয়নি।

প্রশ্ন : কোনো কোচ ছিল না?

মোস্তাক : তেমন একটা না। ১৯৭৫ সালে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন একজন রাশিয়ান কোচ আনে। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখে রাখি। সেগুলো পরে অনুসরণ করি নিজে নিজে। আবার ভারতে গিয়ে ওখানকার দৌড়বিদ-কোচদের কাছ থেকে অনুশীলনের বিভিন্ন নিয়ম শিখি। এগুলোও কাজে লাগে।

প্রশ্ন : অ্যাথলেটদের জন্য খাওয়া-দাওয়া তো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার খাওয়ার রুটিন ছিল কেমন?

মোস্তাক : খাওয়া-দাওয়া ছিল খুব দুর্বল। অনেক অনুশীলন করায় আমার খিদা লাগে খুব। কিন্তু সে অনুযায়ী খাওয়ার উপায় ছিল না। সেনাবাহিনীর মেসের খাওয়া দিয়ে পেট ভরে না। নিজের বেতনের টাকা দিয়ে মুরগির বাচ্চা, কবুতরের বাচ্চা, ডিম-দুধ-কলা খাই। কিন্তু বেতন তো আর খুব বেশি টাকা না। সেনাবাহিনীতে ঢুকি সৈনিক হিসেবে। ৪৫০ টাকার মতো বেতন। তা দিয়ে কী হয়! জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে রেকর্ড করার পর সেনাবাহিনী থেকে আমার নামে দৈনিক এক কেজি দুধ ইস্যু করা হয়। আধা কেজি মাংস দেয় পরে। ফল এলে দেয় ফল। এ কারণেই মনে হয়, এখনকার মতো সুযোগসুবিধা পেলে অলিম্পিকে দুই-একটা সোনার পদক থাকত আমার।

প্রশ্ন : আপনি যে জাতীয় অ্যাথলেটিকসে সোনার পদক জেতা শুরু করেন, সংবাদপত্রে নাম আসে, তখন মা-বাবা খুশি হন কেমন?

মোস্তাক : খুব খুশি। কৃষকের ছেলের নাম পুরো বাংলাদেশ জানে, তাঁরা খুশি হবেন না! পদক জয়ের পর সেগুলো গলায় ঝুলিয়ে বাড়ি যাই। মা-বাবা, ভাইবোন সবাই খুশি হয়। গ্রামের লোক খুশি।

প্রশ্ন : জাতীয় প্রতিযোগিতায় টানা সাফল্য সত্ত্বেও সাফ গেমসে তেমন সফল হননি। কারণটা কী বলে মনে হয়?

মোস্তাক : আমি আসলে নিজের সেরা টাইমিংয়ের চেয়েও ভালো টাইমিং করি সাফে। কিন্তু ভারতের ওরা এত এগোনো যে সোনার পদক জিততে পারিনি। দুটি সাফ খেলি আমি। ১৯৮৫ সালে ঢাকা সাফে ১৫০০ মিটার দৌড়ে পাই ব্রোঞ্জ। সোনা-রুপা দুটিই ভারতের। তিনজন প্রায় একসঙ্গে ফিনিশিং লাইনে যাই। কিন্তু একটুর জন্য আমি পড়ে যাই পেছনে। এরপর ১৯৮৭ সালে কলকাতা সাফ গেমসে ৪ী৪০০ মিটার রিলেতে পাই ব্রোঞ্জ।

প্রশ্ন : আর কোন কোন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন?

মোস্তাক : রাশিয়ার মস্কোতে যাই ১৯৭৫ সালে। ‘মুস্তাককে দেড় মিনিটের ব্যবধান ঘোচাতে হবে’ শিরোনামের পেপার কাটিং দেখলেন না, এটি তখনকার। ‘ওয়ার্ল্ড মুসলিম রান’ নামে প্রতিযোগিতা হয় কুয়েতে, সেখানে দৌড়াই। ইন্টারন্যাশনাল মিলিটারি মিটে অংশ নিতে যাই ফিনল্যান্ডে। ওসব জায়গায় দৌড়ান বিশ্বের সেরা দৌড়বিদরা। তাঁদের সঙ্গে পারিনি। এশিয়ান গেমস ব্যাংককে যাই ১৯৭৮ সালে। আর ইসলামিক গেমস খেলতে যাই পাকিস্তানে। সেখানে তৃতীয় হই রিলেতে।

প্রশ্ন : আপনার অনেক পুরস্কারের সার্টিফিকেটের ফটোকপি দেখলাম। কী কী পুরস্কার পেয়েছেন?

মোস্তাক : ১৯৭৭ সালে প্রথম যেবার স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়, তা পাই আমি। বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের পুরস্কার পাই ১৯৭৫ সালে। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থার সেরা অ্যাথলেট হই। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার পাই ১৯৮৯ সালে। সব পুরস্কার পেয়েছি শুধু জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার ছাড়া। সেটি দেওয়ার কথা ছিল শুনেছি কিন্তু এখনো দেওয়া হয়নি।

প্রশ্ন : বিয়ে করেন কবে?

মোস্তাক : ১৯৭৫ সালে। স্ত্রীর নাম আছিয়া বেগম। আমাদের চার ছেলে দুই মেয়ে। কুয়েতে গিয়ে যে টাকা পাই, তা খরচ করে এক ছেলেকে পাঠাই লন্ডনে। কিন্তু ওখানে গিয়ে ওর ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। নিজেই কাজ করতে পারে না, আমাদেরও তাই দেশে টাকা পাঠাতে পারে না। আরেক ছেলেকে দিয়েছিলাম বিকেএসপিতে। সেখানে জুনিয়র গ্রুপে ৪০০ মিটার, ৮০০ মিটারে প্রথম হয়। কিন্তু পরে আর দৌড় চালিয়ে যায়নি।

প্রশ্ন : বাবার কীর্তির কথা ছেলেমেয়েরা জানে?

মোস্তাক : জানে। বাবাকে নিয়ে খুব গর্ব করে, খুব ফুর্তি করে।

প্রশ্ন : সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান কবে?

মোস্তাক : ২০০২ সালে। ঢুকি সৈনিক হিসেবে, অবসর নিই অনারারি ক্যাপ্টেন হিসেবে।

প্রশ্ন : শেষ প্রশ্ন। সব মিলিয়ে জীবন নিয়ে, ক্যারিয়ার নিয়ে আপনার তৃপ্তি কতটা?

মোস্তাক : আমার খুবই আনন্দ। নিজে নিজে গর্ব করি যে দৌড় দিয়ে জীবনে অনেক কিছু করেছি। একজন কৃষকের ছেলে হয়েও সারা দেশের মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তাতে আমি ধন্য। তার পরও বালিশে মাথা দিয়ে চিন্তা করি, আমি আরো বেশি দৌড়ালাম না কেন? আরো জোরে দৌড়ালাম না কেন? কেন সাফ গেমসে সোনার পদক পেলাম না? কেন এশিয়ান গেমসে প্রথম হতে পারিনি? মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমার জওয়ানিটা যদি থাকত এখন! তাহলে এশিয়ার মধ্যে সোনার পদক জিততাম। অলিম্পিকে জিততাম। আর দৌড়ের ক্যারিয়ারের মতো জীবন নিয়েও আমার কোনো দুঃখ ছিল না। কিন্তু এখন শেষ জীবনে এসে অনেক দুঃখ।

প্রশ্ন : কেন? একটু যদি বলেন...

মোস্তাক : আমি ১৯৮৫ সালে বিয়ানীবাজারে ৪৫ শতক জায়গা সরকারের কাছ থেকে লিজ পাই। ২৫ বছর ভোগ করি তা। এই সময়ে নিয়ম অনুযায়ী খাজনা দিই সরকারকে। কিন্তু কিছু দুষ্টু লোক মিলে সে জায়গা থেকে ২০১১ সালে তুলে দেয় আমাকে। সরকার বুলডোজার দিয়ে সব ভেঙে দেয়। এখন আমি খুব দুরবস্থায়। এই যে আপনি বারবার অনুরোধ করেন সাক্ষাৎকার দিতে ঢাকায় আসার জন্য, আমি বারবার ঘুরাই। বলি, ‘সামনের সপ্তাহে আসব, সামনের মাসে আসব’। কেন অমন করি? কারণ ঢাকায় আসার টিকিটের টাকা জোগাড় করাও এখন আমার জন্য কঠিন। এখানে এসে এক দিন হোটেল ভাড়া দেওয়াও খুব কষ্ট। এবার মাসের শুরুতে পেনশনের যে টাকা পাই, তা দিয়ে চলে এসেছি। জওয়ানি থাকার সময় এই আমি জানবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করি দেশের জন্য। ২০ বছর ধরে জাতীয় দৌড়ে হই প্রথম। তবু এত দুর্দশা কি আমার প্রাপ্য ছিল?

প্রশ্ন : জায়গাটায় কী করেছিলেন?

মোস্তাক : ছয়টি দোকান করি, একটি বাসা করি। যে ছেলে বিকেএসপিতে ছিল, ওকে খাবার হোটেল করে দিই। ও তা চালাত। আর এই দোকানগুলো বানাই কিছু লোকের কাছ থেকে সালামির টাকা নিয়ে। সে টাকা কম না, ২০-২২ লাখের মতো। দোকানগুলো থাকলে কোনো সমস্যা ছিল না। ভাড়া থেকে শোধ করে দিতাম। কিন্তু এখন আমি কিভাবে সে টাকা দেব?

প্রশ্ন : এখন সংসার চলে কিভাবে?

মোস্তাক : মুক্তিযোদ্ধা ভাতা হিসেবে পাই ১০ হাজার টাকা। সেনাবাহিনী থেকে পেনশনের আরো ১০-১২ হাজার। সব মিলিয়ে এই ২০-২২ হাজার টাকা মাসের আয়। অথচ আমার ঋণ ২০-২২ লাখ টাকার।   পাওনাদাররা বাড়ি আসে টাকার জন্য; আমি পালিয়ে পালিয়ে থাকি। বাড়িতে থেকেও বলি নেই। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার ভয়ে পাঞ্জাবি-রাজাকাররা পালিয়ে থাকত। এখন স্বাধীন দেশে আমাকে পালিয়ে থাকতে হয়। এর চেয়ে বড় লজ্জা আর কি হতে পারে!

প্রশ্ন : জায়গা নিয়ে মামলা করেননি?

মোস্তাক : করেছি। হাইকোর্টের রায়ও আমার পক্ষে। কিন্তু জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। বোঝেনই তো, আমার বিপক্ষে নানা দুষ্টু লোক লেগে গেছে। তাদের কারণে ২০০৯ সালে একবার পুলিশ এসে আমাকে ধরে নিয়ে যায়। জেলে ছিলাম ৯ দিন। এই কষ্টের কথা বলতে গেলে বুক ফেটে যায়! আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। শেষ জীবনে যে এত কষ্ট আল্লাহ কপালে লিখে রাখবে, কখনো ভাবিনি। তা-ও তো যাঁদের কাছ থেকে সালামির টাকা নিই, তাঁদের অনেকে আমাকে সম্মান করেন। আমার দিকে চেয়ে কিছু হয়তো বলতে পারেন না। আবার অনেকে অনেক খারাপ খারাপ কথা বলেন। নিজে তাই সব সময় ভয়ে থাকি, কখন আবার হাতে হাতকড়া ওঠে। কত রাজাকার তো সরকারি প্লট পায়। এখন সরকার যদি এই মুক্তিযোদ্ধার দিকে একটু দৃষ্টি দেয়, ফিরিয়ে দেয় আমার লিজের জমি—তাহলে আমি ছেলেমেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকতে পারি। মাঝেমধ্যে কি মনে হয় জানেন? (এরপর চুপ করে থাকেন অনেকক্ষণ। হোটেল ঘরের জানালাহীন দমবন্ধ ছোট্ট কামরায় যেন খাবি খান বাতাসের জন্য। চোখ ভিজে ওঠে জলে...)

প্রশ্ন : কী মনে হয়?

মোস্তাক : মনে হয়, যে ৬৯টি সোনার পদক জিতেছি, সেগুলো যদি সত্যি সোনার হতো! ওগুলো তো নামমাত্র সোনা। আসলে ভেতরে কিছু নেই। বেশ কটিতে জং ধরে গেছে, নষ্ট হয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে মনে হয়, পদকগুলো সত্যিকারের সোনার হলে আমি সেসব বিক্রি করে মানুষের ঋণ শোধ করে দিতাম। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে, একজন দেশসেরা দৌড়বিদ হিসেবে যে অপমানের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি, তা আর সহ্য হয় না।


মন্তব্য