kalerkantho


স্টেডিয়ামে দোকান ফুঁসছে রাজশাহী

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



স্টেডিয়ামে দোকান ফুঁসছে রাজশাহী

রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধ স্টেডিয়ামের জায়গায় দোকান নির্মাণের নামে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এতে স্টেডিয়ামে আগত দর্শনার্থীদের কার পার্কিংয়ের জায়গাটিও এখন হারাতে হয়েছে। ফলে দর্শনার্থীদের গাড়ি রাখতে হচ্ছে বাইরের কোনো গ্যারেজে বা খোলা স্থানে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগীদের মধ্যে। প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন স্টেডিয়াম মার্কেটের ব্যবসায়ীসহ রাজশাহীর ক্রীড়ানুরাগীরা। সম্প্রতি এর প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেয়া বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রফিউস সামস প্যাডি ও  রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্টেডিয়াম মার্কেট সমিতির সভাপতি দুলাল হোসেন নিজেদের মধ্যে যোগসাজশে স্টেডিয়াম মার্কেটের সামনের জায়গায় অবৈধভাবে ৫০-৬০টি দোকান নির্মাণ করছেন। স্টেডিয়ামের গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে সেখানে দোকানগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে করে স্টেডিয়ামের সৌন্দর্যহানির পাশাপাশি ওই দোকানগুলো বরাদ্দের নামে কয়েক কোটি টাকা লুটপাটের পাঁয়তারা করছেন তাঁরা।

স্টেডিয়াম মার্কেট ব্যবসায়ীরা আরো জানান, এর আগেও সেখানে দোকান নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন প্যাডি ও দুলাল। কিন্তু স্টেডিয়াম মার্কেটের অন্য দোকানদারদের বাধায় তা তাঁরা করতে পারেননি। কিন্তু এখন সেই কাজ তাঁরা আবার শুরু করেছেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দোকান প্রতি ১০-১২ লাখ টাকা করে সিকিউরিটির নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু নামমাত্র টাকা জমা করা হচ্ছে জেলা ক্রীড়া সংস্থার তহবিলে। সেই হিসাবে ৫০-৬০টি দোকান নির্মাণ করে অন্তত তিন-চার কোটি টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনাও করছেন প্যাডিসহ তাঁর লোকজন।

তবে এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রফিউস সামস প্যাডি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজশাহীর ক্রীড়ার উন্নয়নে দোকানগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। ওই দোকানগুলো নির্মাণ করা হলে সেখানকার আয় দিয়ে ক্রীড়ার উন্নয়ন হবে। তবে এগুলো বরাদ্দ নিয়ে কোনো অনিয়ম করা হচ্ছে না। ’

এদিকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার নানা অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ক্রীড়ানুরাগীদের পক্ষ থেকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে একাধিকবার ও দুর্নীতি দমন কমিশনেও অভিযোগ করা হয়েছে।  

সম্প্রতি পাঠানো ওই অভিযোগে স্বাক্ষর করেন রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ শামসুল হুদা কিসলু, সাবেক সদস্যসচিব রইচ উদ্দিন বাবু, জেলা হকি সমিতির সাবেক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য মনিরুজ্জামান বদিসহ ক্রীড়ানুরাগীরা।

ওই অভিযোগে জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান পরিষদের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি অভিযোগ আনা হয়। এগুলো হলো, দোকান নির্মাণের নামে অর্থ লোপাট ও অনিয়ম, গুরুত্বপূর্ণ ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের আগে সাধারণ পরিষদের অনুমতি গ্রহণ না করা, দোকান নির্মাণের আগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমতি না নেওয়া, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম, দোকান নির্মাণের কারণে স্টেডিয়ামের পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ তোলা হয়।

অন্যদিকে গত বছরের ২৫ নভেম্বর রাজশাহীর ক্রীড়ানুরাগীদের করা আরেকটি অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান কমিটির কার্যকালীন মেয়াদে এক মৌসুমে কোনো খেলাধুলার আয়োজন করেনি। এর বাইরে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে স্বল্পমেয়াাদ প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখা, বি ডিভিশনে সাতটি ইভেন্টে ৬৮টি ক্লাবের লিগ বন্ধ করা, মহানগরের ৬০টি স্কুলের বিভিন্ন ইভেন্টের প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

অপরদিকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রধান আয়ের উৎস হাউজির শিটের মূল্য বৃদ্ধি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু জেলা স্টেডিয়ামের পরিবেশ বিঘ্নিত করে পার্কিংয়ের জায়গা দখল করে সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে দোকান। আবার সেই দোকান নির্মাণের নামে দুই ব্যক্তি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।

রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ শামসুল হুদা কিসলু অভিযোগ করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমান কমিটি রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনকে ধ্বংস করছে। অথচ এই রাজশাহী ক্রীড়া সংস্থা সর্বোচ্চ খেলার আয়োজন করে জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছে ২০০৯ সালে। কিন্তু এই কমিটি আসার পর থেকে সব ধরনের খেলোয়াড়রা এখন প্রায় বেকার বসে আছেন। নতুন খেলোয়াড়ও সৃষ্টি হচ্ছে না। কিন্তু অর্থ লুটপাটে বর্তমান কমিটি ব্যাপক চাতুরতা অবলম্বন করেছে। যা রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গন ক্রমেই ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাচ্ছে। ’

রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সদস্যসচিব রইচ উদ্দিন বাবু বলেন, ‘আমরা রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনকে রক্ষার জন্য এরই মধ্যে কয়েক দফা আন্দোলন করেছি। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। এবার দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজনে আরো জোরালো আন্দোলন করা হবে। ’


মন্তব্য