kalerkantho


নির্বাচিত কলাম

টি-টোয়েন্টিতে চাই ছক্কা

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



টি-টোয়েন্টিতে চাই ছক্কা

অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে টি-টোয়েন্টির সাফল্য। যেমন দলের সেরা তিন ব্যাটসম্যানের চার-ছক্কায় দ্রুত রান করতে হবে। ছক্কা মারার সামর্থ্যই এই ফরম্যাটে সাফল্যের চাবিকাঠি। নতুন বলে বল করতে পারে এমন একজন বোলার থাকতে হবে যে কি না দুই প্রান্ত থেকে উইকেট নিতে পারে। এ ছাড়া একজন স্পিনার দরকার যে ইনিংসের মাঝপথে উইকেট তুলে নিতে পারে। শেষদিকে ব্যাট হাতে ঝড় তুলতে পারে এবং বল হাতে দারুণ বোলিং করতে পারে এমন খেলোয়াড়ও থাকতে হবে। ফিল্ডারদের হতে হবে চনমনে, যাদের হাতের ফাঁক গলে বল পড়ে যাবে না। চমৎকার ফিল্ডিংয়ে রান বাঁচাতে পারবে আর দূর থেকে বল ছুড়ে স্টাম্প ভাঙতে পারবে।

এই খেলোয়াড়রা মাঠে মূল ভমিকা পালন করবে। তাদের সঙ্গে কিছু সাপোর্টিং খেলোয়াড় থাকতে হবে। যেমন মিডল অর্ডারে ভালো করতে পারে এমন খেলোয়াড় থাকতে হবে, যারা কি না প্রয়োজনে এক বা দুটি ওভার বোলিং করতে পারবে এবং ফিল্ডিংয়েও দুর্দান্ত হবে। আর একজন থাকতে হবে যে কি না উইকেট শিকার না করতে পারলেও সমস্যা নেই, তবে বল হাতে কৃপণ হতে হবে। এ ছাড়া থাকতে হবে একজন নির্ভরযোগ্য উইকেটরক্ষক, যার ব্যাটিংয়ের হাতটাও পাকা হতে হবে। একটা টেস্ট দল গঠন করতে পাঁচজন সেরা ব্যাটসম্যান, চারজন ভালো বোলার, একজন সেরা উইকেটরক্ষক ও একজন অলরাউন্ডার নিয়ে গঠন করা হয়। কিন্তু টি-টোয়েন্টি দল গঠনে আরো বেশি কিছু নজর দিতে হয়।

৯ বছর আগে যখন টি-টোয়েন্টি শুরু হয় তখন থেকে খেলায় ছক্কা মারতে পারে এমন ব্যাটসম্যানের গুরুত্ব বেড়েছে। ভারতীয় পিচ ফ্লাট ও বাউন্ডারি সীমানা তুলনামূলক ছোটো হওয়ায় ২০১৬ টুর্নামেন্টে এমন ব্যাটসম্যানের গুরুত্ব আরো বেড়েছে। এবার দেখে নেওয়া যাক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের উপযোগী অস্ত্র কার কেমন আছে এবং কার ভালো করার সম্ভাবনা আছে।

ভারতের লোয়ার অর্ডারে বড় শট খেলার মতো ব্যাটসম্যানের অভাব আছে। তবে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের বড় শট খেলার সক্ষমতা ও অধিনায়ক মহেন্দ  সিং ধোনির দারুণভাবে ম্যাচ শেষ করার সক্ষমতায় এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার সামর্থ্য আছে তাদের। এদিকে ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত স্বল্প দৈর্ঘ্যের খেলায় নিজেদের ছন্দে আনতে পেরেছে। সব মিলিয়ে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া বিশ্ব টুর্নামেন্টে স্থায়ী ফেভারিট, তাদের সঙ্গে তৃতীয় দল হিসেবে যোগ দিতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্তত নক আউট পর্বে তারা সহজে পৌঁছে যাবে। এ ক্ষেত্রে আমি নিউজিল্যান্ডকে যোগ করতে চাই। যদিও তাদের দলে এ মুহূর্তে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের মতো খুনে ব্যাটসম্যান নেই, তার পরও যথেষ্ট শক্তিশালী ব্যাটসম্যান তাদের আছে। যদি খেলোয়াড় ও প্রশাসনের মধ্যে সাধারণ যুদ্ধ অব্যাহত না থাকে তাহলে আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বাদ দিতে চাই না।

পাকিস্তান দল সব সময় আনপ্রেডিক্টেবল, আর এটাই তাদের শক্তিশালী দিক। তবে পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা এখন তাদের একটা দুর্বলতা হিসেবে দেখা দিয়েছে। দুই সেরা ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনের অবসরে যাওয়ার শূন্যতা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়তে পারে শ্রীলঙ্কার।

আমার মতে সেমিফাইনালে চারটি দল এমন হতে পারে—গ্রুপ ১ থেকে ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ চারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আর গ্রুপ-২ থেকে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাবনা থাকলেও যেকোনো একটা দলকে সরে গিয়ে নিউজিল্যান্ডকে জায়গা করে দিতে হতে পারে। এই দলগুলোর মধ্যে অন্য দলের তুলনায় ভারতকে একটু এগিয়ে রাখতে হবে। কেননা তাদের অলরাউন্ডিং সামর্থ্যটা অন্যদের তুলনায় এগিয়ে, তা ছাড়া নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধাও পাবে তারা। পাশাপাশি ধোনির ম্যাচ শেষ করে আসার সামর্থ্য ও টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দ্রুত রান তোলার সক্ষমতা তো আছেই। টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়া মিচেল স্টার্কের অভাব বোধ করবে। তা ছাড়া তারা ভারতের মাটিতে ভালো স্পিন খেলতে পারে তার প্রমাণও দিতে হবে। এটা করতে পারলে তাদের ভালো সম্ভাবনা আছে, কেননা তাদের যেমন লম্বা ব্যাটিং লাইন আপ আছে তেমনি দলে অলরাউন্ডারের অভাব নেই।

স্টিভ ফিনের ইনজুরিটা ইংল্যান্ডকে ভালো ভোগাতে পারে। তা ছাড়া ভালো স্পিনের বিপক্ষে তাদেরও সমস্যা রয়েছে। তবে এখন তারা অনেকটা স্বাধীনভাবে খেলতে পারছে। জো রুট ও ইওন মরগান নামের প্রতি যদি সুবিচার করতে পারে তাহলে তাদের ভালো করার সম্ভাবনা আছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা হয়তো সাম্প্রতিক সময়ের আত্মবিশ্বাসের অভাব থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছে।

     অনুবাদ : শামীম হাসান


মন্তব্য