kalerkantho

26th march banner

সবাইকে ছাড়িয়ে

ক্রিকেটের হাজারও রেকর্ডের ভিড়ে অনন্য এক চূড়ায় চড়ে বসেছেন তামিম ইকবাল। টেস্ট, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি, তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান এখন এই বাঁ-হাতি ওপেনারের। এই কীর্তি নেই অন্য দেশের আর কারো (এই পরিসংখ্যান ১৬ মার্চ পর্যন্ত)। লিখেছেন রাহেনুর ইসলাম

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সবাইকে ছাড়িয়ে

ডন ব্র্যাডম্যান এই সময়ে খেললে টেস্ট গড়টা কি ৯৯.৯৪ হতো? ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি কেমন খেলতেন তিনি? প্রশ্নগুলোই অবান্তর। সময়ের ভেলায় ভেসে দুই যুগকে এক করা যায় না। তাই শচীন টেন্ডুলকার একটা মাত্র টি-টোয়েন্টি খেলে অবসর না নিলে কী হতো সেই গবেষণারও দরকার নেই। তিনি নিজে ভাবতেন এটা তরুণদের খেলা। এ জন্য ২০০৭ সালে খেলেননি বিশ্ব টি-টোয়েন্টি। শুরুতেই প্রশ্নগুলো আসছে তামিম ইকবালের কারণে। ক্রিকেটের হাজারও রেকর্ডের ভিড়ে অনন্য এক চূড়ায় যে চড়ে বসেছেন তামিম। টেস্ট, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি, তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান এখন এই বাঁ-হাতি ওপেনারের। এই কীর্তি নেই আর কারো।

শচীন টেন্ডুলকার, রিকি পন্টিং, ব্রায়ান লারা, জ্যাক ক্যালিস, স্টিফেন ফ্লেমিং বা কুমার সাঙ্গাকারারা দেশের হয়ে করেছেন টেস্ট আর ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি রান। কিন্তু তিন ফরম্যাটেই দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রানের কীর্তিটা শুধুই তামিমের। শুধু তাই নয়, দেশের হয়ে তিন ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশি রানের মতো সর্বোচ্চ রানের ইনিংসও তামিমের। এই কীর্তিও নেই কারো। তাই অন্তত একটা দিক দিয়ে ক্রিকেটের সব কীর্তিমানকে পেছনে ফেলেছেন এই বাংলাদেশি। ব্র্যাডম্যান, টেন্ডুলকার, পন্টিংদের পেছনে ফেলেছেন শুনলে হয়তো বিব্রতই হবেন তামিম। কিন্তু পরিসংখ্যান তো এড়ানোর উপায় নেই। তাই তামিমই এখন তিন ভুবনের রাজা!

এখন দেখে নেওয়া যাক নিজেদের দেশের হয়ে তিন ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন কারা? শুরুটা তামিম দিয়েই হোক। ৪২ টেস্টে তাঁর রান ৩১২৮, দ্বিতীয় স্থানে থাকা হাবিবুল বাশার সুমনের রান ৩০২৬। ২৮২৩ রান নিয়ে তিন নম্বরে সাকিব আল হাসান। অর্থাত্ তামিমকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ এখনো আছে সাকিবের। ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতেও তামিমের পেছন পেছন হাঁটছেন সাকিব। ১৫৩ ওয়ানডেতে তামিমের রান ৪৭১৩ আর ১৫৭ ম্যাচে সাকিবের ৪৩৯৮। ৫০ টি-টোয়েন্টিতে তামিম যেখানে করেছেন ১১১৬ সেখানে এক ম্যাচ বেশি খেলা সাকিবের রান ১০৪৬। টেস্টে তামিমের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ২০৬, ওয়ানডেতে ১৫৪ আর টি-টোয়েন্টিতে ১০৩*। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টি-টোয়েন্টির সেঞ্চুরির কীর্তিটাও তাঁর। বুঝতেই পারছেন বাংলাদেশের ব্যাটিং কতটা তামিমময়।

অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের মধ্যে টেস্টে ১৩৩৭৮ আর ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি ১৩৭০৪ রানের মালিক রিকি পন্টিং। তবে টি-টোয়েন্টির রানের চূড়ায় ডেভিড ওয়ার্নার। ৫৭ ম্যাচে করেছেন ১৫৯৫। পন্টিং টি-টোয়েন্টি একেবারেই খারাপ খেলতেন তা নয়। ১৭ ম্যাচে ১৩২.৭৮ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ৪০১। ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই অপরাজিত ছিলেন ৫৫ বলে ৯৮ রানে। কিন্তু ২০০৯ সালের পর এই ফরম্যাটে আর আন্তর্জাতিক ম্যাচে নামেননি।

ইংল্যান্ডের তিন ফরম্যাটে রান পাহাড়ে আলাদা তিনজন। টেস্টে অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক ৯৯৬৪, ওয়ানডেতে ইয়ান বেল ৫৪১৬ আর টি-টোয়েন্টিতে ১৩৩৩ রান এউইন মরগানের। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শচীন টেন্ডুলকার টেস্টে ১৫৯২১ আর ওয়ানডেতে করেছেন সবচেয়ে বেশি ১৮৪২৬। টেন্ডুলকার শুধু ভারতেরই নন টেস্ট আর ওয়ানডের  ইতিহাসেই করেছেন সবচেয়ে বেশি রান। তাঁর এ দুটো রেকর্ড ব্র্যাডম্যানের ৯৯.৯৪ গড়ের মতোই অস্পৃশ্য হয়ে যাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণীও করছেন অনেকে। টি-টোয়েন্টি খেললেও হয়তো খারাপ করতেন না তিনি। কেননা আইপিএলে সেঞ্চুরিও আছে সর্বকালের সেরা এই ব্যাটসম্যানের। কিন্তু ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একটা মাত্র টি-টোয়েন্টি খেলে মুখ ফিরিয়ে নেন এই ফরম্যাট থেকে। সেই ম্যাচে ১০ রানের পাশাপাশি নিয়েছিলেন ১ উইকেটও। তবে কী হলে কী হতে পারত সেই গবেষণা করা হচ্ছে না এখানে। টেন্ডুলকারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই রেকর্ডের পাতাটা বলছে ভারতের পক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ১৩৯১ রান বিরাট কোহলির। অনেকের বিশ্বাস, টেস্ট আর ওয়ানডেতে কেউ টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভাঙতে পারলে সেটা হয়তো কোহলিই।

পাকিস্তানের হয়ে তিন ফরম্যাটে সর্বোচ্চ রানের কীর্তি তিনজনের। টেস্টে ইউনিস খান ৯১১৬, ওয়ানডেতে ইনজামাম উল হক ১১৭০১ আর টি-টোয়েন্টিতে উমর আকমলের রান ১৬১১। ইউনিস খান ২৫ টি-টোয়েন্টিতে করেছিলেন ৪৪২। ইনজামামও খেলেছেন একটিই ওয়ানডে। তাতে করেছিলেন ১১। উমর আকমল টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান করলেও টেস্ট ও ওয়ানডেতে আছেন কয়েক শ মাইল পেছনে। দুই ফরম্যাটের কোনোটিতেই তিন হাজার রান হয়নি তাঁর।

জ্যাক ক্যালিসের দক্ষিণ আফ্রিকান দলে আসা অলরাউন্ডার হিসেবে। সেই ক্যালিসের মাথাতেই টেস্ট আর ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের মুকুট। টেস্টে ১৩২০৬ আর ওয়ানডেতে করেছেন ১১৫০ রান। টেস্টে তাঁর পেছনে থাকা গ্রায়েম স্মিথ এখন অবসরে। তৃতীয় আর চতুর্থ স্থানে থাকা এবি ডি ভিলিয়ার্স ও হাশিম আমলার রান ৯ হাজারই হয়নি এখনো। ওয়ানডেতেও দ্বিতীয় স্থানে থাকা এবি ডি ভিলিয়ার্সের রান ৮৪৭১। ক্যালিস অবশ্য ২০১২ পর্যন্ত সমান তালেই খেলেছেন টি-টোয়েন্টি। ১১৯.৩৫ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৬৬৬। টি-টোয়েন্টিতে প্রোটিয়াদের হয়ে সবচেয়ে বেশি ১৫৭১ রানের কীর্তিটা জেপি দুমিনির।

লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের মধ্যে টেস্টে ১২৪০০ আর ওয়ানডেতে ১৩৯৭৫ রান করে সবাইকে পেছনে ফেলেছেন কুমার সাঙ্গাকারা। তবে টি-টোয়েন্টিতে পিছিয়ে তিনি। করেছেন তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৩৮২। ১৭৫১ রান নিয়ে এই ফরম্যাটে এগিয়ে তিলকরত্নে দিলশান। সাঙ্গাকারার মতো ব্রায়ান লারাও ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে টেস্টে ১১৯১২ আর ওয়ানডেতে করেছেন সবচেয়ে বেশি ১০৩৪৮। তবে কোনো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেননি লারা। বিশ্বব্যাপি টি-টোয়েন্টির ফেরিওয়ালা হয়ে ওঠা ক্রিস গেইল ক্যারিবীয়দের হয়ে এই ফরম্যাটে করেছেন সবচেয়ে বেশি ১৪০৬। জিম্বাবুয়ের অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারও খেলেননি টি-টোয়েন্টি। টেস্টে ৪৭৯৪ আর ওয়ানডেতে দেশটির হয়ে সবচেয়ে বেশি ৬৭৮৬ রান তাঁরই। ২০০৩ সালে ফ্লাওয়ারের অবসরের সময় টি-টোয়েন্টিরই আবির্ভাব হয়নি। এখানেই সৌভাগ্য তামিম ইকবালের। তিনি সুযোগ পেয়েছেন তিন ফরম্যাটে খেলার, সেটা কাজেও লাগিয়েছেন দু হাত ভরে। হয়ে গেছেন তিন ভুবনের রাজা।

 


মন্তব্য