kalerkantho


নির্বাচনী জোকস : এখন হাতে হারিকেন নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হ...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৫:১৭



নির্বাচনী জোকস : এখন হাতে হারিকেন নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হ...

মন্টুর বাপ ভোটকেন্দ্রে গেছে ভোট দিতে। ব্যালট পেপার দেওয়ার আগে পোলিং অফিসার তার হাতে অমোচনীয় কালি লাগালেন। এ সময় মন্টুর বাপ অফিসারকে জিজ্ঞেস করল

- স্যার এই কালি কি সাবান দিলে উঠে যাবে? 
- না। 
- তাহলে শ্যাম্পুতে তো যাবে? 
- না! তাতেও যাবে না। এটা সহজে মোছার নয়!

এবার মন্টুর বাপ আরো একটু নরম গলায় জিজ্ঞেস করে 
- তাহলে এই কালির দাগ কবে যাবে, স্যার? 

এমন প্রশ্নের পর প্রশ্নে বিরক্ত পোলিং অফিসার এবার বললেন
- আগামী ভোট পর্যন্ত থাকবে এটা। এতে চলবে?
 
মন্টুর বাপ এবার খুশিতে পোলিং অফিসারের হাত জড়িয়ে ধরল
- স্যার, দয়া করে আমারে এই কালি এক শিশি দেবার ব্যবস্থা করেন। নইলে কোন কম্পানির কালি তার নামটা বলেন, প্লিজ!
- পাগল নাকি! এই কালি দিয়ে করবেনটা কি আপনি?
-স্যার, যত দামি কলপই দেই না কেন, চুলে ১৫ দিনের বেশি থাকে না। তাই এইবার থেইকা এইটাই লাগামু চুলে... পাঁচ বছরের জন্য নিশ্চিন্ত...


                                                (২)

মোমবাতি আর হারিকেন মার্কায় সমানে সমানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই যাকে বলে। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মোমবাতির প্রার্থী শহরে থাকেন, ব্যবসায়ী মানুষ, নির্বাচন উপলক্ষে এলাকায় এসেছেন। তবে হারিকেনওয়ালা এলাকায়ই থাকেন, ঝানু পলিটিশিয়ান। ভোটের আগের দিন সন্ধ্যায় এক টেবিলে আড্ডা দিচ্ছে দুই দোস্ত।

মোমবাতি : বুঝলি দোস্ত। যত কায়দাই করিস তুই, আমার সঙ্গে জিততে পারবি না!

হারিকেন : কেন কেন!?

মোমবাতি : কারণ আমার কর্মিদল। তারা যখন রিকশায় ওঠে তখন রিকশাঅলার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে, ভালোমন্দ খোঁজখবর নেয়। রিকশা থেকে নামার সময় ২০ টাকা করে বকশিশও দেয়। এ সময় হাতে হাত মিলিয়ে রিকশাওয়ালাকে বলে, ‘ভাই সাহেব, ভোটটা কিন্তু মোমবাতিতেই দিয়েন!’

হারিকেন : বলিস কি! আর কি কি করছে তোর কর্মীরা?

মোমবাতি : আরো আছে, হাটে-বাজারে সব জায়গায় লোকজনের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছে, দামের চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে জিনিস কিনছে। বিদায়ের সময়ে বলছে, ভাই- ভোটটা কিন্তু... জানিস তো, সাধারণ মানুষের মন জয় করতে পারলেই নির্বাচনে...

হারিকন : কিন্তু দোস্ত, আফসোস তারপরও তুই জিততে পারবি না। এত টেকা-পয়সা ঢাইল্যাও হারতেছোস- কষ্টই লাগতেছে ব্যাপারটা ভাইবা। 

মোমবাতি : এরপরও হারমু! কেন কেন? 

হারিকেন : কারণ, আমার লোকরা গত একমাস ধরে রিকশায় উঠেই ড্রাইভারকে গালিগালাজ শুরু করে।

মোমবাতি : কী আশ্চর্য! কেন এমন করছে তারা?

হারিকেন : সেটাই তো বলছি। আগে পুরোটা শোন। আমার কর্মীরা রিকশা ছেড়ে নামার সময় ভাড়া অর্ধেক দেয়। আর যতক্ষণ রিকশায় থাকে ততক্ষণ শুধু মোমবাতির গুণগান গায়। 

মোমবাতি : বলিস কি? কী সাংঘাতিক কুটিল চিন্তা তোর! তুই মানুষ না...

হারিকেন : এত তাড়াতাড়ি-ই চিনলি আমারে। কাহিনি আরো আছে, দোস্ত! গত একমাস ধরে এই এলাকায় আমার দুই শ লোক ধরা খাইছে পুলিশের হাতে। 

মোমবাতি : কী দোষ করেছে তারা!

হারিকেন : ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা বিক্রির দায়ে। গ্রেপ্তার হওয়ার সময় প্রত্যেকে পুলিশকে বলেছে যে তারা সব মোমবাতির কর্মী-সমর্থক। স্থানীয় পত্রিকাগুলোয় ছাপা হয়েছে সেসব খবর...

মোমবাতি : হায় হায়! এটা কী শুনতাছি আমি... আমার ইমেজ তো শেষ! আমরা না ছোটবেলার বন্ধু! তারপরও তুই...

হারিকেন : রাজনীতির মাঠে সব ভুইলা যা, দোস্ত! এখন হাতে হারিকেন নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হ...



মন্তব্য