kalerkantho


জোকস: ভ্যালেন্টাইনস রঙ্গ এবং চোখে চোখে চা...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৪:৪২



জোকস: ভ্যালেন্টাইনস রঙ্গ এবং চোখে চোখে চা...

চাকরির ইন্টারভিউ চলছে। চাকরিপ্রার্থী ইন্টারভিউ বোর্ডকে প্রভাবিত করতে সব প্রশ্নের উত্তর ইংরেজিতে দিতে চাচ্ছে। কিন্তু ব্যাকরণে দুর্বলতার কারণে তার উত্তর কেউ বুজছে না। এমন অবস্থায় বোর্ড সভাপতি তাকে বিনীতভাবে বললেন- প্রশ্নের উত্তর বাংলাতে দিলেই ভালো।

চাকরিপ্রার্থী : ওকে, স্যার।  

চেয়ারম্যান : এবার বলুন, আপনার যোগ্যতা কি?

চাকরিপ্রার্থী : চোখে চোখে চা!

চেয়ারম্যান : শাট আপ! বেআদব কোথাকার!

চাকরিপ্রার্থী : স্যার, রাগ করছেন কেন?

চেয়ারম্যান: রাগ করব না মানে? তোমাকে প্রশ্ন করলাম কি আর জবাব দিলে কি! এ ছাড়া ভাষার কী ছিরি... চাকরির ইন্টারভিউয়ে এমন ভাষায় কথা বলে কেউ? 

চাকরিপ্রার্থী : স্যার, আমার কোয়ালিফিকেশন আইআইটি মানে ইনভেন্টরি ইনফর্মেশন টেকনোলজিস্ট। উত্তর বাংলায় দিতে বললেন তো স্যার, তাই আইআইটি-এর অনুবাদ করে বলেছি। মানে, চোখ চোখ চা। আই মানে তো ‘চোখ’ আর টি মানে হচ্ছে ‘চা’। তবে এতে একটু প্রাণ আনতে গিয়ে স্যার ‘চোখ চোখ চা’ না বলে বলেছি- চোখে চোখে চা...

সভাপতি চেয়ার ছেড়ে উঠে দরজার দিকে দৌড় দিলেন- ওরে কে আছিস! আমার মাথায় ঠাণ্ডা পানি ঢাল জলদি...

                                               (২)
প্রেমিকের বুকে মাথা রেখে আপ্লুত গার্লফ্রেন্ড : তোমার হৃৎপিণ্ডটা কী মধুর ছন্দে স্পন্দিত হচ্ছে জান আমার... শুধু যেন লাভ লাভ বলছে...

প্রেমিক : আরে পাগলি ওটা আমার হৃৎপিণ্ডের ছন্দ না, তোমার!

গার্ল ফ্রেন্ড : কী বলছ? তুমি শুধু শুধু দুষ্টুমি করো...

প্রেমিক : এখন আমার মানিব্যাগ ভর্তি কড়কড়ে নোট, ক্রেডিট কার্ডেও অনেক ব্যালেন্স। এগুলোর গরম টের পেয়েই তোমার হৃৎপিণ্ড তেজি ভাব নিয়েছে শেয়ারবাজারের মতো...

গার্ল ফ্রেন্ড : ধ্যাৎ, তুমি রোমান্সও বোঝ না! এ সময় কেউ এসব বলে?

প্রেমিক : এই যে আমি বলছি! ভুলে গেছ তুমি? গত বছর এই আমিই বেকার ছিলাম, জুতা পালিশ করানোর পয়সাটাও ছিল না পকেটে। তখন ভালোবাসা দিবসে তোমাকে কমপক্ষে ৩২ বার ফোন করেছি, একবারও রিসিভ করনি আমার কল... আর আমারি সামনে দিয়ে মহল্লার ফেন্সি ব্যবসায়ী গুল্লুর সঙ্গে ডেটিংয়ে গেছ...

গার্ল ফ্রেন্ড এবার রেগে গেল। প্রেমিককে এক ধাক্কায় সরিয়ে দিয়ে বলল : তুমি আসলে খুব বাজে একটা লোক...

প্রেমিক : আমি বাজে না সুইট হার্ট! আমার পকেটের টাকাগুলো বাজে। ওরাই আমাকে সাহস দিচ্ছে তোমার সঙ্গে এভাবে অভদ্রতা দেখানোর...

                                                (৩)
মন্টুর বাপ : এবারের ভ্যালেন্টাইনস দিবসে তোমাকে কী উপহার দেব, বল?

মন্টুর মা : আমার ব্যক্তিত্বকে সম্মান কইরো...শুধু একটু ইজ্জত দিয়ে কথা বইলো, তাতেই হবে...

মন্টুর বাপ : না না, ভালো কিছু বল! বড় দান মারছি এইবার। প্রচুর টাকা পাইছি একটা কাজে। তোমারে দামি কিছু উপহার দিতে চাই।

মন্টুর মা : একটু শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেইখো আমারে, হুদাই জেদাজেদি কইরো না। মোট কথা আমারে ভুল বুইঝো না... সেটাই আমার জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার হবে... আমার কাছে ভালোবাসাটাই আসল...

মন্টুর বাপ : ধুত্তোর ভালোবাসা! গুষ্টি কিলাই তোর... আমি চাইছি ভ্যালেন্টাইনস দিবসে তোরে একটা দামি গিফট দিতে। আর তুই শুরু করলি ভালোবাসা... ঝগড়া এভাবেই শুরু হয় তোর সঙ্গে আমার!

মন্টুর মা : ঠিক আছে, ঠিক আছে। মাপ চাই! আমারে একটা দামি স্মার্ট ফোন দিও...

মন্টুর বাপ : কিচ্ছু দিমু না অহন, সব বাদ দিলাম। হুদাই তর্ক কইরা মুডটা অফ কইরা দিল আমার বেটির ঘরের বেটি...

                                                (৪)
স্ত্রী : ভালোবাসা যদি অন্ধ হয় তাহলে মানুষের কাছে বিয়েটা কী? আর মানুষ বিয়ে করেই কেন?

স্বামী : ভালোবাসা অন্ধ। আর সেই অন্ধ চোখের অপারেশন পর্বের নাম হচ্ছে- বিয়ে।

                                                (৫)

লম্বা ইনিংসের প্রেম-খেলায় মত্ত অতি সাবধানী বন্ধুটি এবার বিয়ের চিন্তা করছে। তো মন্টুর বাপের কাছে এলো পরামর্শ নিতে। 

দোস্ত, প্রেম তো এক স্বর্গসুখের ঠিকানা। কিন্তু বিয়ের জগতের খবর আমি জানি না। একটু বল দেখি, বিয়ের অর্থ কি?

বিয়ের অর্থ মানে! কী অর্থ জানতে চাস?

না, মানে... তোর বুদ্ধিশুদ্ধি তো অন্যদের চেয়ে ভালো। এ ছাড়া তুই তো অনেক বছর ধরে বিবাহিত... তাই তুই এই বিষয়ে ভালো পরামর্শ দিতে পারবি...

আরো পড়ুন : হেলমেট-জামানের স্ত্রী ও ভ্যালেন্টাইনস ডে পার্টি

তাই বল। তাহলে শোন- বিয়ে হচ্ছে নিজেকে হত্যার জন্য ধূমধামের সঙ্গে খুনি ভাড়া করা। যে খুনি ধীরে ধীরে তোকে নিজের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন করবে। এরপর ক্রমশ জিল্লতি ভরা এক মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাবে... তবে তুই টেরটিও পাবি না... টের পেলেও পালিয়ে বাঁচতে পারবি না বন্ধু...

ওরে বাপরে! অমন মৃত্যু কিংবা বিয়ে- কোনোটারই দরকার নেই আমার। আমি চললাম। আজ থেকে বিয়েকেও গুডবাই, প্রেমকেও বিদাই!

                                                (৬)
এলাকার মাদক ব্যবসা নিয়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সঙ্গে মারামারিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আছে হেলমেট-জামান। ডাক্তার-নার্সরা মহাব্যস্ত অপারেশন শুরুর প্রস্তুতিতে। পাশে উদ্বেগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন দুজন পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য।

হেলমেট-জামান : ডাক্তার সাহেব...

আরো পড়ুন : আপনাকে যারা মোটা বলে তারা...

ডাক্তার : আমাকে ডেকে লাভ নেই, আল্লাহকে ডাকুন।

জামান : ডাক্তার সাহেব। আমার অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে...

ডাক্তার : আরে রাখেন আপনার কাজ! আপনি যে কত ভাগ্যবান বুঝতে পারছেন না! র‌্যাব-পুলিশের অপারেশন থেকে বেঁচে গেছেন! 

জামান : সেটা অন্য কেস, ডাক্তার সাব। এখন বলেন, অপারেশনের পর হাসপাতালে কতক্ষণ থাকতে হবে আমাকে?

ডাক্তার : অপারেশন সাকসেসফুল হলে এক সপ্তাহ।

জামান: আর...

ডাক্তার : না হলে ঘণ্টাখানেক...

জামান : বুঝলাম না স্যার!

ডাক্তার : মানে আমাদের অপারেশন ব্যর্থ হলে... এখান থেকে মর্গে পাঠানো হবে আপনার লাশ। ময়নাতদন্তে কাটা-ছেঁড়া-সেলাই শেষে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে কফিনে ভরে, চা-পাতা দিয়ে, ট্রাকে তুলে পাঠানো হবে আপনার...

ডাক্তারের বয়ানে হেলমেট-জামান অ্যানেসথেসিয়া ছাড়াই অজ্ঞান।


মন্তব্য