kalerkantho


জোকস: লোভ আমাকে শেষ করে দিয়েছিল...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১২:১১



জোকস: লোভ আমাকে শেষ করে দিয়েছিল...

                                                (১)

কীরে শ্যামল, অতো মন খারাপ করে বসে আছিস কেন?

আর বলিস না মিজান, গত সেপ্টেম্বরের শুরুতেই আমার নিঃসন্তান চাচা মারা গেল..

সেজন্য এখনও মন খারাপ?

আরে আগে পুরোটা শুনে নে! চাচা মারা যাওয়ায় ওয়ারিশ হিসেবে তার রেখে যাওয়া ২০ লাখ টাকা, একটা বাড়ি আর দুইটা দোকান পেলাম! 

এটা তো খুশির কথা!

খুশির কথা আরও আছে! পরের মাসে মানে গত অক্টোবরের শুরুতেই মারা গেল আমার এক মামা! তিনিও নিঃসন্তান থাকায় তার প্রায় ৫০ লাখ টাকার সহায় সম্পত্তি পেলাম! 

শোকের মধ্যেও স্বস্তি আর আনন্দের সংবাদ দুটোই! তারপরও তুই মন খারাপ করে আছিস! কেন?

আজ নভেম্বরের ১৯ তারিখ! মাস প্রায় শেষ- এখনও সেরকম কোনো খবর পেলাম না...

                                                (২)
স্কুল-কলেজ পড়ুয়া সন্তানদের সম্পর্কে সব বাবা-মা’ই প্রতিবেশীদের কাছে যে সত্য বা মিথ্যাটা হামেশাই বলেন তা হচ্ছে- বাচ্চার মাথা ভাল কিন্তু পড়ায় অমনোযোগী... মন্টুর বাপের ডায়েরি থেকে

                                               (৩) 
সম্পদশালী এক ব্যবসায়ী হঠাৎ অসুখে পড়লেন এবং শেষ সময় ঘনিয়ে এল। তিনি ঘনিষ্ঠ তিন বন্ধুকে ডাকলেন মৃত্যুশয্যায়।

ব্যবসায়ী: প্রিয় বন্ধুরা! সারাজীবন টাকার পেছনে ছুটে অন্যদিকে নজর দিতে পারি নাই, বিয়েও করি নাই। দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার আগে তোদের একটা দায়িত্ব দিতে চাই। আমার অর্জিত শতকোটি টাকা বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানকে এরই মধ্যে দান করে দিয়েছি। শুধু ১৫ কোটি টাকা নগদ বাঁচিয়ে রেখেছি। যেহেতু টাকা খুব ভালোবাসি তাই চাই আমাকে দাফন করার সময়ে সঙ্গে কিছু নগদ টাকাও যাক। আমার বিছানার নিচে তিনটে ব্যাগ আছে তাতে তোদের তিনজনের নাম লেখা আছে। প্রত্যেকটিতে ৫ কোটি করে টাকা আছে। তোরা যাওয়ার সময় যার যার ব্যাগ নিয়ে যাবে। আমি মারা গেলে কফিন প্রস্তুতের সময় সবার অগোচরে তোরা প্রত্যেকে ৪ কোটি করে টাকা বিছিয়ে দিবি আমার শবদেহের তলায়।

আর এক কোটি টাকা করে তোরা প্রত্যেকে নিস- এটা তোদের প্রতি আমার মৃত্যুকালীন শুভেচ্ছা... এরপর ব্যবসায়ী মারা গেলেন। বন্ধুরা দায়িত্ব পালন করলো।

বিশ বছর পর এক অনুষ্ঠানে দেখা হয়ে গেল তিনবন্ধুর। সবাই অশীতিপর বৃদ্ধ। নানান গালগল্পে কথা উঠলো কে কীভাবে ব্যবসায়ী বন্ধুর দেওয়া শেষ দায়িত্ব পালন করেছেন।  

ডাক্তার: আমি সবার আগে টাকা রেখেছিলাম। তবে তোদের কাছে বলতে লজ্জা নেই, তোরা তো জানিস, আমি আসলে কমিশনখোর ডাক্তার ছিলাম। ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো থেকে নিয়মিত কমিশন, ওষুধ কোম্পানি থেকে কমিশন, রোগীদের থেকে প্রত্যেক দেখায় ফি আদায়... যাহোক, মূল কথা হচ্ছে আমি আসলে একজন অসৎ এবং লোভী ব্যক্তি। তাই বন্ধুর কথা মতো ৪ কোটি টাকা আমি তার কফিনে রাখি নাই। দুই কোটি টাকা রেখে দিয়েছিলাম...

ব্যারিস্টার: ডাক্তারের পরে টাকা রেখেছিলাম আমি। তবে আমিও যে খুব সৎ ব্যক্তি সেই দাবি এই অশীতিপর বয়সে এসে করতে পারছি না, অন্তত তোদের কাছে নয়। তো আমিও প্রচুর আইনি অসততা করেছি জীবনে। খুনের আসামিকে নির্দোষ প্রমাণ করে ছাড়িয়ে এনেছি আবার নিরপরাধ ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন দণ্ড ভোগ করিয়েছি। খারাপ লাগে এসব ভেবে মাঝে মাঝে; লোভ আমাকে শেষ করে দিয়েছিল... যাহোক, আমি বন্ধুর কফিনে মাত্র এক কোটি টাকা রেখেছিলাম!

ব্যাংকার: আমি ছিলাম সবার শেষে। তো আমি আবার তোদের মতো অসৎ ছিলাম না। ব্যাংকার হিসেবে একটা পয়সারও গুরুত্ব আমি বুঝি। আর টাকার প্রতি বন্ধুর আবেগ বুঝতে পেরে ৫ কোটিই দিয়ে দিয়েছিলাম!

ব্যাংকারের কথায় অপর  দুই বন্ধু তাকে জড়িয়ে ধরে ডুঁকরে কেঁদে উঠলো অনুশোচনায় আর চিৎকার করে বলতে লাগলো: তুই আমাদের মান বাঁচিয়েছিস, বন্ধু! আমরা নিচ, অপদার্থ! কটা টাকার লোভ সামলাতে পারিনি।

একটু কান্না সামলে ডাক্তার বললো: তবে কাজটা খুব কঠিন ছিল তোর পক্ষে, অতগুলো টাকার লোভ সামলানো.. তুই মানুষ না দোস্ত! তুই ফেরেস্তা...

হঠাৎ ব্যারিস্টার কপাল কুঁচকে বললো: তবে আমার যতটুকু মনে আছে তোর হাতে তো টাকার ব্যাগ দেখিনি সেদিন। তুই তো খালি হাতে গিয়েছিলি কফিনের ঘরে...

ব্যাংকার: তুই ঠিকই দেখেছিলি দোস্ত! ৫ কোটি টাকার বেয়ারার চেকটা আমার পকেটে ছিল তখন। তবে বিশ্বাস কর- কফিনের ডালা আটকে দেওয়ার আগে আমি চেকটা ঠিকই রেখে দিয়েছিলাম,ওর পিঠের ঠিক নিচে!   

                                                (৪)
প্রাইমারি স্কুল পরিদর্শনে আসবেন এলাকার এমপি। ক্লাসটিচার রমিজ খুব চিন্তিত। কারণ, পুরো স্কুলের দুষ্টু ছাত্রদের অর্ধেকের বেশি জায়গা নিয়েছে তার ক্লাসেই।   

শিক্ষক: পরিদর্শনের সময় যে কোনো প্রশ্নে উত্তর হবে ফটাফট। অন্য কিছু যেন না হয়। উত্তর দেবে শুধু ফার্স্ট বয় মঞ্জুর আর সেকেন্ড বয় মানিক। মনে থাকবে তো গাধার দল?

পুরো ক্লাস জবাব দিল: জ্বী স্যার, একদম তাই হবে...

এমপি এসে রমিজ স্যারের ক্লাসে ঢুকলেন।

সামনের বেঞ্চেই মঞ্জুর ও মানিক বসে। মঞ্জুরকে প্রশ্ন করলেন: বল দেখি বাংলাদেশের রাজধানী কোথায়?

মঞ্জুর: ফটাফট, স্যার।

এমপি: মানে? এটা কী বলছো তুমি?

মঞ্জুর: ফটাফট, স্যার।

রমিজ স্যার: মানিক্যা! এসব কী বলছেরে মঞ্জুইর‌্যা! আমি কি তোদের এই শিখিয়েছি?

রতন: ফটাফট, স্যার।

রমিজ: আমি কিছুই বুঝতে পারছি না এমপি সাহেব! বান্দরগুলার কী হইলো...

এমপি: আমি বুঝতে পেরেছি; আপনি একটা ফটাফট টাইপের শিক্ষক!

রমিজ: স্যার ভুল বুঝবেন না প্লিজ...

এমপি: এখন আমাকে এখান থেকে ফটাফট বের হতে দিন। আপনিও তাড়াতাড়ি বের হন এই স্কুল থেকে- ফটাফট!


মন্তব্য