kalerkantho


বাস্তব জীবনের জোকস : ডাইল-পুলিশ-সাংবাদিক

হিটলার এ হালিম   

১০ মার্চ, ২০১৭ ২০:২৪



বাস্তব জীবনের জোকস : ডাইল-পুলিশ-সাংবাদিক

একবার একটা ঘটনা ঘটলো। সে ঘটনাটা এমন আচম্বিতেই ঘটে গেল যে আমি হঠাৎ সহকর্মী থেকে দর্শক হয়ে গেলাম।

এক সহকর্মীর সঙ্গে নটরডেম কলেজের সামনে বাস থেকে নামতেই সহকর্মীর কাছে দুই টহল পুলিশ জানতে চাইল, ‘অ্যাই,পকেটে কি?

‘ক্যান, ডাইল’। সহকর্মীর জবাব।  

‘ডাইল মানে, ফেন্সি?’ দুই পুলিশ হুলস্থূল করে সহকর্মীর হাত ধরে ফেলে। এরপর তাদের সেকি চোটপাট, ‘কত্তবড় সাহস। দিনের বেলা পকেটে ডাইল নিয়া ঘুরে!’

আমার সহকর্মী সাংবাদিকও কম যায় না। ‘ক্যান, দিনের বেলা পকেটে ডাইল নিয়া ঘুরা নিষেধ?’ 

সহকর্মীটি মেজাজ হারাতে শুরু করেছে।  

ওদিকে, পুলিশ তার পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা মোজোর বোতল বের করে আনে। বিস্ময়ে পুলিশ চোখ কপালে তুলে একজন আরেকজনকে বলে, 
‘দেখছো, কারবারডা। পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্য কোল্ড ড্রিঙ্কসের বোতলে ডাইল নিয়া ঘুরে! সুযোগ পাইলে চুমুক দিবো।

আর মাইনয়ে ভাবব, পোলায় মোজো খায়। ’
পুলিশ,আমার সহকর্মীর কাছে জানতে চায়, ‘ডাইলের নাম কি, কোন দেশি?’
‘মুসুরির ডাইল!’
‘কি, নতুন নামও বাইর করছো। দাঁড়াও মজা দেখাইতাছি। ’ বলেই একজন, অন্যজনকে বলে, ‘ওই পকেটটায় কী আছে চেক কর। আমি বোতলের মুখ খুলি’- বলে ছিপি খুলে তিনি নাকের কাছে বোতল নিয়ে গন্ধ শোঁকার চেষ্টা করেন। এরপর চোখটা একটু কুঁচকে বলেন, ‘গন্ধটা তো চেনা চেনা মনে হয়। ’ অন্য পুলিশ সদস্য আমার সহকর্মীর পকেট থেকে খবরের কাগজে রোল করা কিছু একটো বের করতে করতে বলে, ‘আইজ মুরগি পাইছি। ’

সহকর্মীটি ওদের এতক্ষণকার কাণ্ডকারখানা দেখে ধৈর্য রাখতে না পেরে এবার বলেই বসলো, ‘আমি যদি ডাইল খাই তাইলে সমস্যা কিসের? আমার আয় করা টাকায় ডাইল খাব না কি খাব তাদে আপনাদের এতো মাথা ব্যথা কিসের? বোতল দেন! অফিসে যাব। ’
পুলিশ দুজন একসঙ্গে খেঁকিয়ে ওঠে, ‘কচি খোকা, কিসসু বোঝে না! থানায় নিয়া রাম ধোলাই দিলে সাথে আর কে কে ডাইল খায় সব বারাইবো’- বলতে বলতে একজন বোতলের ভেতরে আসলে কী আছে বোঝার চেষ্টা করেন।  

হিটলার এ হালিম

ওদিকে আরেকজন রোল করা কাগজ খুলে তার ভেতর থেকে ৫টা আটার রুটি বের করে। দুই পুলিশের চোখ এবার কপালে। পুলিশটি আমার সহকর্মীকে থতমত গলায় বলছে, ‘এ ভাই এটা কিসের রুটি?’

তোতলানোর সমস্যা থাকা আমার সহকর্মী বললো, ‘ক্যা...ক্যান আ... আটার রুটি। আর বো... বোতলে ডাইল। দুপুরে খাব বলে বাসা থেকে নিয়া আসলাম। ’

বোতলের ভেতরটা দেখতে থাকা পুলিশ ‘জুতা আবিষ্কার’ কাহিনীর মতো এবার মিইয়ে যাওয়া গলায় বললো, ‘মুসুরির ডাইল! গন্ধটা চেনা চেনা মনে হচ্ছিল আগেই। ’ 

রুটি হাতে ধরা তার সঙ্গী পুলিশ শেষ চেষ্টো করে। বলে, ‘একবার টেস্ট করা দরকার, আসলেই ওতে ফেন্সি মেশানো আছে কিনা!’

আমার সহকর্মীটি তোতলাতে তোতলাতে বলে, ‘টেস্ট করা লা... লাগবে না। রুটি আর ডা...ডাইল দিয়া আপনারা লাঞ্চ করেন...’

(হিটলার এ হালিমের ফেসবুক পোস্ট থেকে)


মন্তব্য