kalerkantho


খ্যাতিমানদের কৌতুক

‘মফিজের’পাল্লায় মুকেশ আম্বানি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৮:৫৭



‘মফিজের’পাল্লায় মুকেশ আম্বানি!

মুকেশ আম্বানি -ফাইল ফটো

রাশভারী অভিব্যক্তির আড়ালে বিশাল যশ-খ্যাতি-সম্পদের মালিকরাও মাঝেমধ্যে তরল হাসি-আমোতে মেতে ওঠেন। ভারতের শীর্ষ ধনী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক মুকেশিআম্বানিও সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এমনি হাসি-কৌতুকের আবহ সৃষ্টি করেন।

ইঙ্গিতে নিজেকে নিয়ে করা তার ওই কৌতুকে অতিথি-অভ্যাগতরা হাসিতে গড়াগড়ি গিয়েছেন।

মুকেশ আম্বানির প্রভাব প্রতিপত্তি সম্পর্কে সমালোচকরা কৌতুকচ্ছলে  বলে থাকেন, ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি আর বিরোধী দলে থাকা কংগ্রেস- উভয় দলের বাসস্থানই তার পকেটে।  

যাহোক, এবার আসা যাক ঘটনায়। মুকেশ আম্বানির কৌতুকটি ছিল অনেকটা এমন- 

ইন্টারনেট জগতের এক বিশ্বখ্যাত ব্যক্তি প্লেনে যাচ্ছিলেন। তার পাশের সিটে বসেছেন এক অতি সাধারণ গেঁয়ো লোক। লম্বা যাত্রায় এমন একজন নিচুস্তরের লোকের সঙ্গে সময় পার করতে হবে- বিষয়টি অস্বস্তিতে ফেলে দিল তাকে। প্রখর ব্যবসাবুদ্ধিসম্পন্ন আইটি গুরুর মাথায় হঠাৎ এক বুদ্ধি এল। তিনি ভাবলেন গেঁয়ো ভূতটির সঙ্গে ধাঁধাঁর লাড়াই চালিয়ে সময় পার করবেন এবং একই সঙ্গে কিছু নগদ পয়সাও কামিয়ে নেবেন। কারণ চেহারা-সুরত বলছে, ব্যাটা পুরাই একটা ‘মফিজ’, তার কোনো প্রশ্নেরই উত্তর দিতে পারবে না।

 

ধাঁধাঁর লড়াইতে আসতে ‘ইডিয়টটাকে’ গডফাদারটাইপ লোভনীয় প্রস্তাব দিলেন, যাতে রাজি না হয়ে তার উপায় থাকবে না।  

তিনি বললেন, আমার প্রশ্নের উত্তর না দিতে পারলে তোমাকে দিতে হবে মাত্র ১০ টাকা। আর আমি যদি তোমার প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারি তবে তুমি পাবে এক শ টাকা। লোভে চকচকে চোখ নিয়ে লোকটি খুশিমনে রাজি হয়ে গেল। আইটিওয়ালা বাঁকা হাসি হাসলেন।  

প্রথম প্রশ্ন করলেন গডফাদার: বল দেখি ফোর জি আর থ্রি জি-এর পার্থক্য কী?

‘মফিজ’ ফ্যালফ্যাল করে কিছুক্ষণে তাকিয়ে থেকে পকেট থেকে একটা নোট বের করে বিগ বসকে দিয়ে বললো, স্যার, পারলাম না। এই নেন আপনার জিতের দশটাকা।

খুশি মনে টাকাটা পকেটে রেখে এবার তিনি তাচ্ছিল্যের সুরে বললেন, এবার তোমার প্রশ্ন কর। ভেবেচিন্তেই কর।

স্যার, বলেন দেহি জন্তুর তিন চোখ, চাইর নাক আর মাথা দুইডা?

মুকেশ আম্বানি     -ফাইল ফটো

মিনিটখানেক মুখে কথা রইলো না সাহেবের। এরপরেও কথা বের হলো না। তারপরও তিনি নিশ্চুপ। হঠাৎ তার হাতের আঙুলগুলো নেচে উঠলো কোলের ‍ুপর ফেলে রাখা ট্যাবে। গুগলের ওপর ভর করে দ্রুত তামাম দুনিয়া ঘুরে এলেন।  দশ মিনিট পার, তার মুখে এবার ঘাম দেখা দিল। ওদিকে বিটকেলে গেঁয়োটা শরীরে সূঁচ ফোটানোর মতো বলছে, স্যার সময় নেন, অসুবিধা নাই। আমি ঘুমাই। উত্তর পাইলে আমারে জাগাইয়েন!

ইজ্জত তো গেছে, এবার ধের্যের বাঁধটাও ভেঙে গেল। বাবুসাহেব চিৎকার করে উঠলেন, পারলাম না! রাগে কাঁপতে কাঁপতে তিনি পকেট থেকে একশ টাকার নোট বের করে দিলেন। ভদ্দরলোকের হঠাৎঅমন  চিৎকারে উড়োজাহাজের সব যাত্রী ঘুরে তাকালো। তার মুখচোখ অগ্নিশর্মা, তিনি রাগে কাঁপছেন।

স্যার এইবার আপনের দ্বিতীয় প্রশ্ন করেন।

অভিজাত বস তেঁতে উঠে ইতর ভাষায় জবাব দিলেন, আমার আর প্রশ্ন নাই, তুই তর প্রশ্নের জবাবটা ক এইবার। এইটাই আমার প্রশ্ন। ক, ওই প্রাণীটার নাম ক! এত দেশ ঘূরলাম, বাপের জন্মে হুনি নাই এই কিসিমের জানোয়ার আছে, থাকতে পারে! ক, তাড়াতাড়ি নামটা ক! আমার মাথা ঘুরাইতাছে!

মফিজ পকেটে হাত দিয়ে তেলচিটচিটে আরেকটা দশটাকা বের করে বসের হাতে দিয়ে বললো- স্যার, আমিও জানি না। এই নেন আপনার দশ টাকা। এইবার আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন হইলো...

বস হঠাৎ একদিকে ঢলে পড়লেন। তিনি জ্ঞান হারিয়েছেন... 

 

 

 

 

  


মন্তব্য