kalerkantho


ইসলামে মাতা-পিতার অধিকার

আবুল কালাম আজাদ   

২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মাতা-পিতার অধিকার সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। মহাগ্রন্থ আল-কোরআনেও মাতা-পিতার অধিকার সম্পর্কে বিশেষ বর্ণনা রয়েছে। মহানবী (সা.) মাতা-পিতার অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট ছিলেন। মাতা-পিতার সন্তুষ্টির ওপর পরকালে মুক্তির শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। মাতা-পিতার অধিকার পালন মুক্তি ও সৌভাগ্যের সোপান।

মাতা-পিতা সন্তানের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেন, যে গুরুদায়িত্ব পালন করেন, তা তুলনাহীন। সন্তানের ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগ থেকে সন্তান স্বনির্ভর হওয়া পর্যন্ত মাতা-পিতা তার লালন-পালন, ব্যয়ভার বহনসহ সব সময় তার পাশে থাকেন।

মানবসন্তান জন্মগ্রহণ করে সম্পূর্ণ পরনির্ভরশীল হয়ে। সে পারে না চলতে, পারে না কিছু বলতে। মা বুকের দুধ পান করিয়ে তাকে বড় করেন। পিতা তার সেবার সব উপকরণ জোগান দেন। আদর-যত্ন, স্নেহ, মায়া-মমতায় তাকে বড় করে তোলেন। নিজেরা কষ্ট করে হলেও সব দিক থেকে সন্তানকে নিরাপদে রাখেন। মমতাময়ী মা মাতৃস্নেহে সন্তানকে বড় করেন। সন্তানকে কথা বলতে শেখান ও হাঁটাচলায় তাকে সাহায্য করেন। এভাবেই মাতৃস্নেহে একটি শিশু বড় হতে থাকে। সন্তান যেখানেই থাকে, মা তাকে চোখে চোখে রাখেন। সন্তানের কোনো সমস্যা বা রোগবালাই হলে সবার আগে মাতা-পিতা তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়ান, সন্তানের জন্য বিচলিত হয়ে যান। সন্তানের থাকা-খাওয়া, পড়ালেখা, খেলাধুলা, চলাফেরা ইত্যাদি এমন কোনো কাজ নেই, যাতে মাতা-পিতা অবদান রাখেন না।

পৃথিবীতে কেউ শিক্ষিত হয়ে জন্মায় না। মানবসন্তানকে সোনার মানুষে পরিণত করতে শিক্ষার বিকল্প নেই। সন্তানের এই শিক্ষাজীবন শুরু হয় মাতা-পিতার মাধ্যমেই। তাই বলা হয়, ‘মাতা-পিতা হলেন আদর্শ শিক্ষক, আর পরিবার হলো আদর্শ বিদ্যালয়।’

মাতা-পিতার সঙ্গে করণীয় সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আমি মানুষকে তাদের মাতা-পিতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। (কেননা) তার মা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে তাকে গর্ভে ধারণ করেছে এবং দুই বছর পরে তার বুকের দুধ ছাড়ানো হয়। সুতরাং আমার প্রতি ও তোমার মাতা-পিতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। প্রত্যাবর্তন তো আমার কাছেই।’ (সুরা : লোকমান, আয়াত : ১৪)

মাতা-পিতা হৃদয়ে ব্যথা অনুভব করবেন—এমন আচরণ প্রদর্শন করা নিষিদ্ধ। সন্তান যেকোনো প্রতিকূলতায় তাঁদের সঙ্গে সম্মানসূচক আচরণ দেখাতে বাধ্য। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন তিনি ছাড়া অন্য কারো উপাসনা না করতে ও মাতা-পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে। তাদের উভয়ই বা কোনো একজন তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে (কোনো কারণে বিরক্ত হয়ে) তাদের ‘উফ্’ বোলো না। তাদের ধমক দিয়ো না। বরং তাদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বলো।’ (সুরা : বনি ইসরাইল, আয়াত : ২৩)

আজকাল সন্তান অর্থ উপার্জন করে মাতা-পিতা থেকে আলাদা হয়ে যায়। অথচ সন্তানকে শিক্ষিত করতে ও তার মানসিক বিকাশে মাতা-পিতা যারপরনাই চেষ্টা করেন। মহানবী (সা.) জনৈক পিতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সন্তানের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘তুমি ও তোমার সম্পদের মালিকানা তোমার পিতার।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৩৫৪)

এ সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে ইসলামের আলোকে মাতা-পিতার অধিকার স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। আসুন, আমরা মাতা-পিতার অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হই।

লেখক : মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক



মন্তব্য