kalerkantho


ভাষা আন্দোলনের সাক্ষী চাঁদপুরের ওসমানিয়া কওমি মাদরাসা

মুহাম্মদ আরিফুর রহমান   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আল্লাহ তাআলা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের ওপর নাজিলকৃত আসমানি কিতাব তাঁরা নিজ জাতির মাতৃভাষায় প্রচার করতেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি সব রাসুলকে তাদের নিজ জাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, যাতে তারা পরিষ্কার করে বোঝাতে পারে।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৪)

হজরত মুসা (আ.)-এর জাতির ভাষা ছিল ইবরানি। তাই তাওরাত নাজিল হয়েছে ইবরানি ভাষায়। হজরত দাউদ (আ.)-এর জাতির ভাষা ছিল ইউনানি। তাই জাবুর কিতাব নাজিল হয়েছে ইউনানি ভাষায়। হজরত ঈসা (আ.)-এর গোত্রের ভাষা ছিল সুরিয়ানি। তাই এ ভাষায় ইনজিল কিতাব নাজিল হয়। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের ভাষা ছিল আরবি। তাই আরবি ভাষায় কোরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘জিবরাইল (বিশুদ্ধ হলো জিবরিল) এটা নিয়ে অবতরণ করেছে তোমার অন্তকরণে, যাতে তুমি ভয় প্রদর্শনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারো। অবতীর্ণ করা হয়েছে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।’ (সুরা : শুআরা, আয়াত : ১৯৩-১৯৫)

মাতৃভাষা গর্ব করার বিষয়। নিজ মাতৃভাষা সম্পর্কে গর্ব করে মহানবী (সা.) বলতেন, ‘আরবদের মধ্যে আমার ভাষা সর্বাধিক সুললিত। তোমাদের চেয়েও আমার ভাষা অধিকতর মার্জিত ও সুললিত।’ (আল-মুজাম, হাদিস : ২৩৪৫)

মাতৃভাষার প্রতি ইসলামের এমন দৃষ্টিভঙ্গিতে অনুপ্রাণিত হয়ে মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বাঙালি মুসলমান। ইতিহাস থেকে প্রমাণিত যে ভাষা আন্দোলন ঢাকাকেন্দ্রিক কোনো আন্দোলন নয়। একেবারে বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মাতৃভাষার লড়াইয়ের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছিল। ঢাকা শহরের বাইরে ১১ মার্চ, ১৯৪৮ সালে বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের প্রতিবাদ হয়েছিল। দমনের চেষ্টার ফলে প্রতিবাদ তীব্রতর হয়েছিল। অনেক জায়গায় দেখা গেছে, শাসকদল মুসলিম লীগের একটি অংশ সক্রিয়ভাবে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলনে যোগ দিয়েছে অথবা তা সমর্থন করেছে। (সূত্র : একুশের সংকলন, রাজনীতি ৮০, বাংলা একাডেমি)

এই ভাষা আন্দোলনের মিছিলে শরিক হয়েছে আলেমসমাজও। এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। এক তথ্য মতে, চাঁদপুর শহরের পুরান বাজার ওসমানিয়া কওমি মাদরাসা প্রাঙ্গণে টাউন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস সাত্তারের সভাপতিত্বে দুপুর ২টায় একটি ছাত্র-গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। তার আগে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্র-জনতার মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে। বেশির ভাগ দোকান বন্ধ ছিল এবং মাদরাসা ছাত্রদের সংগঠন ‘তালাবায়ে আরাবিয়া’ ও ধর্মভিত্তিক দল ‘জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম’ প্রভৃতি দলের পক্ষ থেকে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানানো হয়। (খন্দকার মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেপথ্য কাহিনি, দিব্যপ্রকাশ, বাংলাবাজার, ঢাকা, প্রথম প্রকাশ ২০১৭, পৃষ্ঠা ৯৫)

লেখক : ইসলামী গবেষক



মন্তব্য