kalerkantho


চালু হলো মোবাইল নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদলের সেবা

বিশেষ প্রতিনিধি    

১ অক্টোবর, ২০১৮ ০২:২৮



চালু হলো মোবাইল নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদলের সেবা

দেশে চালু হলো মোবাইল নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদল করার সেবা। ‘মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি’ বা এমএনপি নামের এ সেবাটি গতকাল রবিবার রাত ১২টা থেকে চালু হয়। আজ সোমবার সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এমএনপির বিভিন্ন দিক তুলে ধরবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন—বিটিআরসি। 

এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে এ সেবার উদ্বোধন করানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছি। তিনি রাজি হলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হতে পারে।’

গত ১ আগস্ট গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক  বৈঠকে ১ অক্টোবর থেকে এমএনপি চালুর সময় নির্ধারণ করা হয়। 

এমএনপি লাইসেন্সের গাইডলাইন অনুসারে এ সেবা চালু হওয়ার শেষ সময় ছিল গত ৩০ মে। পরে মোবাইল ফোন অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের দ্রুত সহযোগিতার অভাবে নির্ধারিত সময়ে এ সেবা চালু হয়নি। পরে এর সময়সীমা ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু সরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক ওই সময় এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত হতে পারেনি। প্রস্তুত ছিল না বিটিসিএলসহ অন্যান্য পিএসটিএন অপারেটররাও। এ ছাড়া দেশে আসা আন্তর্জাতিক ভয়েসকলের ক্ষেত্রে রাউটিংয়ের ব্যবস্থা মোবাইল অপারেটররা করবে, নাকি  ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে অপারেটররা করবে—সেটিও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপারেটর বদলের ক্ষেত্রে গ্রাহক যে অপারেটরের সেবা গ্রহণ করতে চায়, সেই অপারেটরের সেবাকেন্দ্রে যেতে হবে। বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে নতুন সিম নিতে হবে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপারেটর বদলের কাজ সম্পন্ন হবে। এই বদল প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহক বিদ্যমান অপারেটরের সেবা পাবে। অপারেটর বদলের পর কমপক্ষে ৯০ দিন সেবা নিতে হবে নতুন অপারেটরের। 

গত বছর ৭ নভেম্বর দেশে প্রথমবারের মতো এমএনপি সেবার লাইসেন্স হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই দিন বিটিআরসির সম্মেলন কক্ষে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও স্লোভেনিয়ার যৌথ কনসোর্টিয়াম ‘ইনফোজিলিয়ান বিডি টেলিটেক’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাবরুর হোসেন এবং  স্লোভেনিয়ার টেলিটেক ডিওও-এর  প্রতিনিধি টমির হাতে এ লাইসেন্সের নোটিফিকেশন পত্র হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন বিটিআরসির পক্ষ থেকে বলা হয়, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে লাইসেন্স অ্যাকুইজিশন ফিসহ বিটিআরসির অন্যান্য চাহিদা পূরণ করে লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। লাইসেন্স গ্রহণের পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের কমপক্ষে এক শতাংশ, এক বছরের মধ্যে ৫ শতাংশ এবং পাঁচ বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ মোবাইল গ্রাহককে এ সেবার আওতায় আনার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। 

এ বিষয়ে মাবরুর হোসেন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ১ অক্টোবর রাত ১২টার পর থেকে এ সেবা চালু করব। গ্রাহকরা সকাল থেকে এ সেবা পেতে পারেন।’

বিটিআরসির তথ্য অনুসারে, প্রায় ৭২টি দেশে এমএনপি চালু আছে। গভর্ন্যান্স মডেল হিসেবে বিশ্বব্যাপী দুটি মডেলে এমএনপি চালু রয়েছে। একটি হলো অপারেটরদের সমন্বয়ে কনসোর্টিয়াম মডেল। এ মডেলে অপারেটররা সবাই মিলে একটি কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে এমএনপি পরিচালনা করে থাকে। থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক ও পাকিস্তানে এ মডেল চালু আছে। আরেকটি মডেল হলো রেগুলেটর/সরকার নির্ধারিত থার্ড পার্টি মডেল। এতে রেগুলেটর/সরকার নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে এক বা একাধিক প্রতিষ্ঠানকে এমএনপি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকো, তুরস্ক, গ্রিস ও ভারতে এ মডেল চালু আছে। কিন্তু বাংলাদেশে মোবাইল ফোন অপারেটররা এ সেবা চালুর বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করলে বিটিআরসি রেগুলেটর/সরকার নির্ধারিত থার্ড পার্টি মডেলের পক্ষে অবস্থান নেয়।



মন্তব্য