kalerkantho


জাপানের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ মার্চ, ২০১৮ ১৮:৩৫



জাপানের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ

জুনাইদ আহমেদ পলক। ছবি: কালের কণ্ঠ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ২০ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান ও পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে জাপানের আইটি খাতে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতিকে বাংলাদেশ কাজে লাগাতে উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

আজ দুপুরে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জাইকা) আয়োজিত বাংলাদেশ-জাপান আইসিটি ইঞ্জিনিয়ারস ট্রেনিং প্রোগ্রাম (বি-জেট) এ অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানের আইটি খাতে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। ৬৫ শতাংশের অধিক তরুণ জনশক্তি নিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পপুলেশন ডিভিডেন্ড উপভোগ করছে। অপরদিকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশ্বের মধ্যে ৩য় বৃহত্তম বাজার ও ৩য় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপান তাদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রয়োজনীয় কর্মক্ষম মানুষের সংকটে ভুগছে। বাংলাদেশ সেই সুযোগটাই গ্রহণ করতে চায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াসু ইজুমা বলেন, জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সবসময়ই অনন্য। সেই সম্পর্কের সুত্র ধরে এই বি-জেট প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যারা জাপানের আইটি খাতে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছে, তারাও জাপানের আইটি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রত্যেকেই একেক জন জাপানি উন্নয়নের অগ্রদূত হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশে জাইকার প্রধান প্রতিনিধি টাকাটোসি নিশিকাটা বলেন, জাপান আগামী দিনগুলোতে আইটি প্রকৌশলীর চরম ঘাটতি অনুভব করবে। বাংলাদেশের মেধাবী তরুণদেরকে জাপানি বাজারের চাহিদামত সক্ষম করে তুলতে বিসিসি’র সাথে যৌথভাবে বি-জেট প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণার্থীরাই জাপানের আইটি খাতকে আগামীতে এগিয়ে নেবে বলে আমার বিশ্বাস।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) এর নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়। এই প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণার্থীগণকে জাপানি ভাষা, জাপানি ব্যবসায়িক প্রথা ও আইটি ইঞ্জিনিয়ারস এক্সামিনিশেন (আইটিইই) এর মাধ্যমে তিন মাসের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে প্রশিক্ষণার্থীগণ জাপানের আইটি কোম্পানিগুলোতে দুই মাসের ইন্টার্ণশীপে অংশ নেয় এবং কম্পানিগুলো তাদেরকে নিয়োগ দেয়।

প্রথম ব্যাচে অংশ নেয়া ২০ প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ইতিমধ্যে ১৩ জন জাপানের বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরি নিশ্চিত করেছেন। বাকীরাও বিভিন্ন কোম্পানীতে ইন্টার্ণ করছে। প্রকল্পের আওতায় প্রতিবছর ১২০ জনকে জাপানের বিভিন্ন আইটি কোম্পানীতে চাকরি দেয়ার লক্ষ্যে জাইকার সহযোগিতায় বিসিসি এই প্রশিক্ষণ বাস্তাবয়ন করছে।



মন্তব্য