kalerkantho


সেমিনারে তথ্য

দেশে বাড়ছে ই-বর্জ্য কেন্দ্রিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি

ঢাকাতেই বছরে মাথাপিছু .২৬ কিলোগ্রাম ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২০:৫৬



দেশে বাড়ছে ই-বর্জ্য কেন্দ্রিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি

প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে বাড়ছে ই-বর্জ্যের বোঝা; বাড়ছে ই-বর্জ্যকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি। শুধু ঢাকাতেই বছরে মাথাপিছু .২৬ কিলোগ্রাম ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বাতিল হওয়া কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ফটোকপি মেশিন, মাইক্রোওভেন, ব্যাটারী ইত্যাদি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আইনি কাঠামো: পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের উদ্যোগে এ সেমিনারে জানানো হয়, সঠিক ও নিরাপদভাবে ই-বর্জ্য না ফেলা হলে তা স্বাস্থ্য  ঝুঁকি তৈরি করে। ই-বর্জ্যে থাকা ক্ষতিকর লেড, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, ব্রমিনেটেড ফ্লেম রির্টাডেন্ট, বেরিলিয়াম, এন্টিমনি, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি), মার্কারী বা পারদ, আর্সেনিক, পলিক্লোরিনেটেড বাইফিনাইল (পিসিবি) ইত্যাদি মাটি, পানি ও বাতাসের সঙ্গে মিশে মানুষের জন্য এক বিষাক্ত পরিবেশের তৈরি করে। যার মাধ্যমে মানুষের স্নায়ূতন্ত্র, রক্ত পরিসঞ্চালন ব্যবস্থা, কিডনী ও প্রজনন ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্থ করে থাকে এবং ক্যান্সার, জন্মগতত্রুটি ও প্রতিবন্ধিতা মতো রোগ ও সমস্যার জন্ম দিতে পারে।

সেমিনারে ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটির স্টেপ ইনিশিয়েটিভের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়,  ২০১২ সালে বিশ্বে ৪৫.৬ মিলিয়ন টন ই-বর্জ্য সৃষ্টি হয়েছে।  ২০১৬ সালে যা হয় ৯৩.৫ মিলিয়ন টন। বিশ্বে এখন ৩৫৬ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহার হচ্ছে, ২০১৮ সালে বিশ্বে ৪০০ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করবে। বিটিআরসি-এর তথ্য মতে বাংলাদেশে ১১.৬৫ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহার হচ্ছে যার ওজন ১ হাজার ১২৫ টন। 

সেমিনারে জানানো হয়, প্রতিবছর বিশ্বে এই ই-বর্জ্য শতকরা ৫-১০শতাংশ হারে বাড়ছে এবং এই বর্জ্যের শতকরা ৫ ভাগের বেশী পুনরুদ্ধার করা যায়না। মানুষ ও পরিবেশের জন্য বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণেই এখন আইন করে নিয়ন্ত্রিতভাবে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। ই-বর্জ্য যে কোন সাধারণ পৌর বর্জ্য থেকে অধিক ক্ষতিকর। 

বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম-এর মহাসচিব খায়রুজ্জামান কামালের সভাপতিত্বে এ সেমিনারে আরও আলোচনা করেন গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটির নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মাকসুদ, খন্দকার রিয়াজ হোসেন, এ বি কে রেজা, তাহমিনা আক্তার, ইমতিয়াজ রসুল, সৈয়দ মাহবুবুল আলম, সায়মা সাইদ প্রমুখ।



মন্তব্য