kalerkantho


শনি গ্রহে আত্মাহুতি দেবে ক্যাসিনি, চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে তার অভিযান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৩:৩৭



শনি গ্রহে আত্মাহুতি দেবে ক্যাসিনি, চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে তার অভিযান

শনি আর তার চাঁদগুলোর এমন অনেক ছবিই তুলেছিল ক্যাসিনি

আজ শুধু নাসারই নয়, পৃথিবীর জন্য বিশেষ এক দিন। আজই ক্যাসিনি মহাকাশযানটির নাক সোজা শনি গ্রহ বরাবর ছুটে যাবে।

সেই গ্রহের বায়ুস্তরে নিজেকে ধ্বংস করবে সেটি। এই যানটি বিজ্ঞানীদের সূর্যের ষষ্ঠ গ্রহের বিস্ময়কর বলয়গুলো সম্পর্কে অনেক তথ্য সরবরাহ করেছে। কাজ সেরে আত্মঘাতী হতে চলেছে যানটি। ক্যাসিনি তার মিশনে শেষ করেছে। শনিকে আরো পরিষ্কারভাবে বুঝতে সহায়তা করে গেছে বিজ্ঞানীদের। সেই সঙ্গে তার দুটো উপগ্রহ টাইটান এবং এন্সেলাডাসের এলিয়েনে অস্তিত্ব নিয়েও গবেষণা চালিয়েছে।  

ক্যাসিনির ভক্ত আছেন অনেকে। তাদের মতে, এটি ধ্বংসের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ একটি যুগের অবসান ঘটবে। সেই ২০০৪ সাল থেকে স্কুল বাসের সাইজের মহাকাশযানি শনিকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।

১৯৯৭ সালের ১৫ অক্টোবরসে পৃথিবী থেকে শনির উদ্দেশে শত কোটি মাইল পাড়ি দিতে উড়ায় দেয়। এর নাম রাখা হয়েছে মহাকাশচারী জিওভান্নি ক্যাসিনির নামে। তিনিই শনির চারটি চাঁদ আবিষ্কার করেন। তাদের বলয়গুলোর মধ্যে যে ফাঁক রয়েছে তাও তিনিই দেখান। ক্যাসিনিতে কিন্তু যাত্রীও ছিল। ওটা ক্যাসিনির একটি অংশ 'হুইজেন্স ল্যান্ডার'। এটা ইউরোপিয়ান স্পেন এজেন্সি ডাচ বিজ্ঞানীর নামে বানানো হয়। তিনিই প্রথম টাইটানকে খুঁজে পেয়েছিলেন।  

পৃথিবীর মাটি থেকে উড়াল শুরুর ৭ বছর পর ২০০৪ সালে শনির কক্ষপথে পৌঁছা। হুইজেন্স আলাদা হয়ে যায় এবং টাইটানের তরল মিথেনের লেকে অবতরণ করে। নিজের গ্রহের চাঁদ ছাড়া অন্য কোনো চাঁদে এটাই প্রথম অবতরণ। সৌরজগতের বাইরের অংশে কোনো উপগ্রহে এটাই ছিল প্রথম অবতরণ।  

মহাকাশে এ যাবতকালে যত বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে, তার মধ্যে ক্যাসিনি অন্যতম সফল মিশন হিসাবে ইতিহাস হয়ে থাকবে। মসৃণভাবে যানটি তার লক্ষ্যে পৌঁছে। যন্ত্রপাতি চমৎকার কাজ করেছে। হুইজেন্স নিখুঁতভাবে অবতরণ করে। শনির বলয়ের আচরণ ও গঠন পর্যবেক্ষণ করে ক্যাসিনি। ওটা শনির দক্ষিণ মেরুতে ৫ হাজার মাইল বিস্তৃত এক হ্যারিকেন আবিষ্কার করে। ক্যাসিনিই জানায় যে, শনির বলয়ে অনেকগুলো ত্রিমাত্রিক কাঠামো রয়েছে। এমন অনেক বিস্ময়কর তথ্য মিলেছে ওই যান থেকে।  

অবশেষে নিজের সফল মিশনই তার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্যাসিনির মৃত্যদণ্ড জারি হয়েছে। ২০০৯ সালে যানটি জ্বালানি সংকটে পড়ে। ফলে আশপাশের কোনো উপগ্রহে বিধ্বস্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে এটাকে অন্য কোনো গ্রহে বা আরো দূরের কক্ষপথে পাঠানো হবে। শেষে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন যে, শেষবারের মতো ক্যাসিনি টাইটানকে প্রদক্ষিণ করবে খুব কাছ থেকে। শনির বলয়গুলোর মধ্যকার পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করবে। পরে তা নিজে থেকেই শনিতে আত্মাহুতি দেবে।  

আজই সেই দিন। ক্যাসিনি যুগের অবসানের মাধ্যমে শনিতে পৃথিবীবাসীর কর্মকাণ্ডের ইতি ঘটবে। অবশ্য অনেক ধরনের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। এমন একটা মহাকাশযান তৈরি করা অনেক কঠিন বিষয়। পৃথিবী থেকে ৭৫০ মিলিয়ন মাইল পাড়ি দিয়েছে তা। এখানে ধ্বংস করতে কারই বা ভালো লাগে? 
সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট 


মন্তব্য