kalerkantho


রিজার্ভ চুরি : উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ জুলাই, ২০১৭ ১৫:৫৮



রিজার্ভ চুরি : উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি প্রতিকী

গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার সম্পৃক্ততা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে মার্কিন তদন্তকারীরা। আর মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম হ্যাক করে বিপুল টাকা চুরি করায় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।  ইতিমধ্যেই মামলার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়ে যায়। এছাড়া ২০১৪ সালে সনি স্টুডিওতে হামলা সাথে উত্তর কোরিয়ার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় এ পদক্ষেপ নিচ্ছে দেশটি।

চুরি যাওয়া অর্থের কিছু ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের কয়েকটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে হ্যাকাররা। সেখান থেকে বড় অংশ বেহাত হয়ে যায়। তবে চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে ২ কোটি ডলার শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুরুতেই আটকে দেয় এবং পরে তা ফিরিয়ে দেয়। বাকি অর্থ এখনও ফেরত পায়নি বাংলাদেশ।

শুধু মার্কিন গোয়েন্দারাই নয়, রাশিয়াভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কিও জানিয়েছে, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার লুটের ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা জড়িত।

যে হ্যাকার গ্রুপটি এ অর্থ চুরি করে তাদের নাম ল্যাজারাস।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরি করে তারা। এর আগে একই হ্যাকার গ্রুপ ২০১৫ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে হামলা, ভিয়েতনামের ব্যাংকে সাইবার হামলা, ২০১৪ সালে সনি স্টুডিওতে হামলা এবং ২০১৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় ফিন্যান্সিয়াল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটে সাইবার হামলা চালায়।

ক্যাসপারস্কির প্রতিবেদনে বলা হয়, ল্যাজারাসের হ্যাকাররা শুরুতে উত্তর কোরিয়ার একটি আইপি অ্যাড্রেস থেকে ইউরোপের একটি সার্ভারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করে। ওই সার্ভার ল্যাজারাসের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ক্যাসপারস্কির গবেষক ভিটালি কামলুক প্রতিবেদনে বলেন, উত্তর কোরিয়া ও ল্যাজারাসের মধ্যকার যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছেন তারা। ২০০৯ সাল থেকেই এই হ্যাকিং গ্রুপটি সক্রিয় বলেও প্রমাণ রয়েছে।


মন্তব্য