kalerkantho


সাইবার হামলার পর এবার 'র‍্যানসমওয়্যারের' হামলা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ মে, ২০১৭ ১২:০১



সাইবার হামলার পর এবার 'র‍্যানসমওয়্যারের' হামলা!

বিশ্বের অন্তত ১৫০টি দেশের দুই লাখেরও বেশি কম্পিউটার একযোগে সাইবার হামলার শিকার হওয়ার পর আজ সোমবার আরো বড় ধরনের হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা৷ গতকাল রবিবার ব্রিটিশ গবেষণা সংস্থা 'ম্যালওয়্যার টেক' এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, 'র‍্যানসমওয়্যার আবার সোমবার ফিরে আসতে পারে৷  গত শুক্রবার ওই ভাইরাসের হামলায় ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার বহু দেশ নজিরবিহীনভাবে শিকার হয় সাইবার হামলার৷ বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয় ভারতের অনেক সিস্টেমেও৷ যদিও সারা বিশ্বকে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় উদ্বেগে রেখে শনিবার রাতে ওই ম্যালওয়্যারকে আপাতত আটকে দেওয়ার জন্য 'কিল সুইচ' খুঁজে পান বিশেষজ্ঞরা৷ তবে তাতে  শঙ্কা পুরোপুরি দূর হয়েছে বলে মনে  করছেন না তারা৷ গোটা বিশ্বকে একসঙ্গে বেঁধে রেখেছে সাইবার কানেকশন৷ তাই সাইবার 'মহামারী' দেখা দেওয়ায় গোটা বিশ্বেই বিপদ ছড়িয়ে পড়েছে৷

প্রায় ১০০টি দেশে 'র‍্যানসমওয়্যার' দিয়ে হামলা চালায় একদল হ্যাকার৷ অকেজো হয়ে যায় কোটি কোটি যন্ত্র৷ বিশাল অঙ্কের অর্থের দাবিতে এ হামলা চালাচ্ছে হ্যাকাররা৷ আমেরিকার ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) কিছু 'সাইবার অস্ত্র' কয়েকদিন আগে চুরি হয়েছিল৷ তা দিয়েই এ হামলা চালানো হয়৷ এতে  অকেজো হয়ে যায় অনেক কম্পিউটার৷

হ্যাকাররা এনএসএ নজরদারির কাজে যে সফটওয়্যার ব্যবহার করত, তার গলদ খুঁজে বের করেছে ৷ গত বছর ওই গলদ ধরা পড়ে৷ চলতি বছরের মার্চে মাইক্রোসফট সমস্যার সমাধান করলেও ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল৷ নিজেদের 'শ্যাডো ব্রোকার' বলে পরিচয় দিয়ে একদল হ্যাকার এপ্রিলে সেই সফটওয়্যার অনলাইনে ফাঁস করে দেয়৷ তারাই এ কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷

শুক্রবার প্রথমে সুইডেনে এই ম্যালওয়্যার লক্ষ করা যায়৷ কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে৷ কেউ বলছে ৭৫ হাজার, কারও মতে এক লাখ সিস্টেম এর ফলে আক্রান্ত হয়েছে৷ অ্যান্টিভাইরাস প্রস্তুতকারী সংস্থা ক্যাসপারস্কাই ল্যাবের নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষকরা জানিয়েছেন, অন্তত ৯৯টি দেশ এই হামলার শিকার৷ ভারত, রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ মন্ত্রক, স্পেনের টেলিকমিউনিকেশন সংস্থা টেলেফ-নিকা, ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস, ইউক্রেন, চিন, ইতালি, মিশর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত৷ ব্রিটেনের বহু হাসপাতাল ও ক্লিনিক রোগীদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়৷ আক্রান্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি প্রথমসারির গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা৷ তিনশো মার্কিন ডলার বা সমমূল্যের 'ক্রিপটোকারেন্সি' বিটকয়েন না দিলে কম্পিউটার 'লক' হয়ে যাচ্ছে৷

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে বলেন, "এটা একটা আন্তর্জাতিক হামলার অংশ৷ শুধু ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস নয়, বিশ্বের বহু দেশের নানা সংস্থা র‍্যানসমওয়্যারে আক্রান্ত৷ আমাদের বিশেষজ্ঞরা সমস্যা মেটানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন৷" জরুরি না হলে রোগীদের হাসপাতালে আসতে নিষেধ করা হচ্ছে৷ জরুরিকালীন অস্ত্রোপচারের জন্য নথিভুক্ত রোগীদের যেসব হাসপাতালে সাইবার হানা হয়নি, সেখানে পাঠানো হচ্ছে৷ তবে রোগীদের তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছে কি না, সে বিষয়ে ব্রিটিশ সরকার নিশ্চিত নয়৷ দেশের সমস্ত সংস্থাকে সফটওয়্যার আধুনিকীকরণ করতে বলেছেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রসচিব অ্যাম্বার রুড৷ সফটওয়্যারের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে অতীতে এভাবেই বিভিন্ন দেশে চরবৃত্তি চালাত আমেরিকার ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি৷ সাইবার হামলার পর তাদেরকে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে৷

 

। ।

মন্তব্য