kalerkantho


বাংলাদেশেও র‍্যানসমওয়্যারের আক্রমণ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ মে, ২০১৭ ২২:২৪



বাংলাদেশেও র‍্যানসমওয়্যারের আক্রমণ

সাইবার হামলায় আক্রান্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের নাম না থাকলেও গতকাল থেকে দেশটির প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি খাত থেকে বেশ কটি র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখাও র‍্যানসমওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পর ওই এলাকায় ব্যাংকটির সকল কম্পিউটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং সবগুলো এটিএম বুথ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

তবে নিরপেক্ষভাবে এসব খবর যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তবে ব্যাংকটিকে সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা দিচ্ছেন, এমন একজন ব্যক্তি বিবিসির কাছে ঘটনাটির সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন এবং নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এও বলেছেন যে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ব্যাংকটি যথাসম্ভব গোপনে ও দ্রুত সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে বিনামূল্যে সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রদানকারী সংগঠন ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস ফাউন্ডেশন বা ক্র্যাফের মহাসচিব মিনহার মোহসিন উদ্দিন বিবিসিকে বলেছেন, গতকাল শুক্রবার থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে বেশ কিছু ব্যবহারকারীর কাছ থেকে তারা অভিযোগ পাচ্ছেন যে তাদের কম্পিউটারে র‍্যানসমওয়্যারের হামলা হয়েছে।

এমনিতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশে র‍্যানসমওয়্যার হামলার বেশ কিছু নজির পাওয়া গেছে, তবে গতকাল শুক্রবার আর আজই পাওয়া গেছে সবচাইতে বেশি, বলেছেন মি. উদ্দিন।

র‍্যানসমওয়্যার হচ্ছে এমন একধরণের কম্পিউটার ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার যার মাধ্যমে আক্রান্ত কম্পিউটারে রক্ষিত সব ফাইল এনক্রিপ্ট হয়ে যায় এবং হ্যাকারকে মুক্তিপণ দিয়ে কি-কোড সংগ্রহ করা ছাড়া সেগুলোকে ডিক্রিপ্ট করার আর উপায় থাকে না।

এসবের মধ্যে একটি ঘটনা ঘটেছে ঢাকার কাফরুল এলাকায়। ব্যবহারকারী একজন মাধ্যমিক পড়ুয়া কিশোর।

বিবিসির সাথে আলাপে সে বলছিল, গতকাল রাতে আবিষ্কার করে সে তার কম্পিউটারে রক্ষিত ফাইলগুলো খুলতে পারছে না, খুলতে গেলেই অদ্ভুত সব বার্তা আসছে এবং একটি ঠিকানা দিয়ে বলা হচ্ছে সেখানে যদি সে দেড়শ ডলার না পাঠায় তাহলে আর এই ফাইলগুলো উদ্ধার করতে পারবে না।

এটা একটা র‍্যানসমওয়্যার অর্থাৎ একটি ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে এই কিশোরের কম্পিউটার দখল করে নিয়েছে অজ্ঞাত হ্যাকার, এখন মুক্তিপণ চাইছে।

র‍্যানসমওয়্যার হচ্ছে এমন একধরণের কম্পিউটার ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার যার মাধ্যমে আক্রান্ত কম্পিউটারে রক্ষিত সব ফাইল এনক্রিপ্ট হয়ে যায় এবং হ্যাকারকে মুক্তিপণ দিয়ে কি-কোড সংগ্রহ করা ছাড়া সেগুলোকে ডিক্রিপ্ট করার আর উপায় থাকে না।
গতকাল থেকে বিশ্বের প্রায় একশটি দেশের লাখ লাখ কম্পিউটার এরকম র‍্যানসমওয়্যার হামলার শিকার হচ্ছে, সারা পৃথিবীই এখন তটস্থ হয়ে আছে এই সাইবার হামলার আতঙ্কে।

যদিও আক্রান্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ নেই, কিন্তু মি. উদ্দিন বলছেন, সপ্তাহান্তের ছুটি থাকায় এখনই পরিস্থিতি বোঝা যাচ্ছে না, রবিবার অফিস আদালত খুলবার পরই একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশে তথ্য বাতায়ন নামে সরকারি ওয়েবপোর্টাল তৈরি ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন বা এইটুআই নামের প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বাংলাদেশে কোন সরকারি ওয়েবসাইট বা সার্ভারে বৈশ্বিক এই সাইবার হামলা শিকার হওয়ার কোন নজির এখনো পাওয়া যায়নি।

যদিও এটুআইয়ের মুখপাত্র নাইমুজ্জামান মুক্তা বিবিসিকে বলছেন, তাদের কর্মপ্রক্রিয়ার কারণে তাদের এই তথ্য বাতায়নের নিরাপত্তা অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ যার ফলে অতীতে বহুবার এই তথ্য বাতায়ন দেশী বিদেশী হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশে সরকারি বেসরকারি ব্যাংকগুলোর এটিএম ও অনলাইন লেনদেন ব্যবস্থা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার লেনদেন ব্যবস্থা, বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ডের লেনদেন ব্যবস্থা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ ও বিআরটিএর সার্ভার যদি সাইবার আক্রমণের শিকার হয়, তাহলে দেশটির নাগরিকদের ব্যক্তিগত আর্থিক নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

যদিও বলা হচ্ছে এগুলোর ক্ষেত্রে বহু স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

কিন্তু সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মিনহার মোহসিন উদ্দিনের বক্তব্য, সাইবার দুনিয়ায় কোন নিরাপত্তাই দুর্ভেদ্য নয়।

- বিবিসি বাংলা


মন্তব্য