kalerkantho


ফেসবুকে 'ভাল্লাগে না', মুক্তির উপায়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০৯:৩৭



ফেসবুকে 'ভাল্লাগে না', মুক্তির উপায়

বাংলাদেশে সোশ্যাল সাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফেসবুক। নিত্যদিনের সঙ্গী ফেসবুক।

  কিশোর থেকে শুরু করে সত্তোরর্ধ্ব বৃদ্ধের হাতের মুঠোয় ফেসবুক।   বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম সবসময়ই হাতে রাখছে মুঠোফোন।   আমাদের দেশের ফেসবুক প্ল্যাটফরমে প্রায় অধিকাংশ মানুষই একবার না একবার স্ট্যাটাস দিচ্ছেন 'ভাল্লাগে না। ' কেন ভালো লাগে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে কেন এই অবসাদ। এখানেই তো বন্ধুর প্রাচুর্যতা রয়েছে। আর এখানেই বিস্বাদ?  

শহুরে প্রজন্ম যেমন সোশ্যাল মিডিয়াকে কাছে টেনেছে ঠিক একইভাবে কাছেরজনকেও দূরে ঠেলে দিচ্ছেন।   যে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রিয় মানুষটির সাথে পরিচয় সেই সোশ্যাল মিডিয়াই সম্পর্কের মধ্যে কাল হয়ে দাঁড়ায়। কেন?  সন্দেহ।

   ধরুন ফেসবুকে একজনের সাথে পরিচয় হলো, ধীরে ধীরে ভালো লাগা তৈরি হলো, চ্যাটিং-এর হার বাড়তে থাকলো, কিন্তু সম্পর্ক প্রণয়ে গড়ানোর পর চ্যাটিং হার কমে যেতে থাকে। প্রয়োজনীয় কথা ফোনে। একটা সময়ে ফোনেও কথা কমে আসে।   তখন উভয়েই আশ্রয় নেয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এদেশের তরুণ-তরুণীদের প্রেক্ষাপটে বলতে গেলে ফেসবুকে।   ঝামেলাটা শুরু হয় অনলাইনেই। অনলাইনে থেকেই দুজনই অন্যত্র সময় দেয়,  আবার দুজনের মধ্যেই প্রশ্ন জাগে সে কি অন্যের সাথে কথা বলছে?  ধীরে ধীররে দুশ্চিন্তা থেকে আসে বিষণ্ণতা।   বিষণ্ণতার অপর নাম খারাপ লাগা। ডিপ্রেশন থেকে খারাপ লাগার গভীরতর হয়।   একটা সময় তাঁদের ফেসবুক স্ট্যাটাসে জায়গা করে নেয় ভাল্লাগে না।

একাকীত্ব দূরীকরণের অন্যতম জায়গা ফেসবুক। সববয়সীরাই ফেসবুকে বিনোদনের জন্য আসেন।   বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যারা খুব কম সময় অনলাইনে থাকেন তাদের মধ্যে তুলনামূলক কম মানুষ ডিপ্রেশনে ভোগেন।   একাকীত্ব দূর করতে আসা মানুষজনও অনেক সময় বেশি একা হয়ে যান।   এদেশের সোশ্যাল মিডিয়ার দিনের অধিকাংশ পোস্টগুলো থাকে, খাওয়া ঘোরা, বন্ধুত্ব আড্ডা এসবের ছবি।   বেশকিছু ব্যবহারকারী রয়েছেন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে লেখালেখি করেন। এসবেরও পাঠক রয়েছে।    কাপল ছবি দেওয়া, আবার কিছুদিন পর ব্রেক আপ হয়ে যাওয়া। কোথাও কোথাও ব্রেক আপ পার্টিও হয়। এসব কিছুই আসে ফেসবুকে।   দিন শেষে অনেকের মাউজ দিয়েই চলে আসে 'ভাল্লাগে না। '  

গট এনগেজমেন্ট, ইন এ রিলেশনশিপ।   আবার কিছুদিন এসব স্ট্যাটাসই চেঞ্জ হয়ে যায়।   তারপরেও ইউজাররা পড়ে থাকেন ফেসবুকে।   খারাপ লাগা নিয়েইও এই পড়ে থাকা।   প্রতিদিন কি রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাওয়া যায়, প্রতিদিনই কি ঘোরা যায়?  প্রতিদিন কি সোশ্যাল মিডিয়া তার নিজস্ব গতিতে চলে?  আবার কেউকেউ আছেন প্রচুর সময় ব্যয় করেন ফেসবুকে। একটা সময় এদের মনেও বিতৃষ্ণা জন্মে।   আবার অনেকেই রয়েছেন জগত সংসারের ঝামেলা থেকে ফেসবুকে এসে ঢুঁ মারেন। এসে দেখেন এখানেও সেই ঝামেলা। সেই বিষণ্ণতা। সেই খারাপ লাগা।

 আর এজন্যই দরকার সবকিছু পরিমিত।   সোশ্যাল মিডিয়ার চেয়ে কাছের বন্ধুদের সময় বেশি দিতে হবে, পরিবারকে সময় বেশি দিতে।   পরীক্ষার রুটিন হয়েছে? যথাসময় পড়াশোনা মেক-আপ করুন।   কাপড় ময়লা হয়েছে, সময় মতো ধুয়ে ফেলুন। সবচেয়ে বড় কথা রুটিন অনুযায়ী কাজ করুন আর 'ভাল্লাগে না' থেকে দূরে থাকুন। রুটিন মানুষকে ঝরঝরে রাখে, অবসাদ থেকে দূরে রাখে।
 


মন্তব্য