kalerkantho


মনের চিকিৎসায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ মার্চ, ২০১৭ ১৭:১২



মনের চিকিৎসায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট মুভি দেখা ও ভিডিও গেম খেলার কাজটাকে দারুণ আকর্ষণীয় করে দিয়েছে। কিন্তু নির্মাতারা এখন এই আধুনিক প্রযুক্তিকে ভিন্ন কাজে লাগাতে চাইছেন।

তারা মানসিক স্বাস্থ্যগত থেরাপি, ফোবিয়া, বিষণ্নতা এবং আসক্তি সংক্রান্ত চিকিৎসায় প্রয়োগ ঘটাবেন ভার্চুয়ার রিয়েলিটি হেডসেটকে।

যেমন কিছু ফোবিয়া রয়েছে যার চিকিৎসায় রোগীকে তার ভয়ংকরতম ভয়ের মুখোমুখি করলে বেশ উপকার মেলে। মাকড়সা, বিমান ভ্রমণ বা অন্যান্য বিষয়ের ফোবিয়ার মুখোমুখি করা যায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে।

টেলিসফ্টাস নামের এক লিথুওনিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে মোবাইল অ্যাপ। তাদের মতে, থেরাপি সংক্রান্তা চিকিৎসা প্রদান করা যেতে পারে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে। স্বাস্থ্য বিশারদদের কনসাল্টিংয়ের কাজেও এই হেডসেট বেশ নিরাপদ বলেই বিবেচিত হবে।

বার্সেলোনায় মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে টেলিসফ্টাসের সিইও আলগিরডাস স্টোনিস বলেন, ফোবিয়া বিষয়ক চিকিৎসায় নিরাপত্তার সঙ্গে অডিওভিজ্যুয়াল থেরাপি হিসাবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার ঘটানো যায়। কাজেই যে মানুষটি মানুষের সামনে কথা বলতে ভয় পান, তার ফোবিয়া দূর করা যায় দর্শকদের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়ে। আর ভিআর হেডসেটের মাধ্যমে নিমিষেই তাকে একদল মানুষের সামনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

ইতিমধ্যে এ প্রতিষ্ঠান ভার্চুয়াল হেডসেটের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক অ্যাপ তৈরির জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে ফান্ড পেয়েছে। এতে যোগ হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই খাতে কাজ করেছে আরেক স্প্যানিশ কম্পানি সিয়াস।

মনের যেকোনো সমস্যায় রোগীকে কোনো পরিবেশের মুখোমুখি করতে ভার্চুয়াল হেডসেট দারুণ মাধ্যম। বাস্তবে তাদের অবাস্তব কোনো পরিবেশে দাঁড় করিয়ে চিকিৎসা দেওয়া যায়। প্রযুক্তির এই যুগে মানসিক রোগের চিকিৎসায় এটা অন্যতম উপায় হতে পারে।

যারা এর পেছেন কাজ করছেন তাদের রোগীদের রোগ অনুযায়ী প্রয়োজনে বিশেষ অ্যাপ ডিজাইন করতে বলা হয়েছে। যেন রোগীরা সত্যিকার উপকার পায় প্রযুক্তিগত থেরাপির মাধ্যমে।

অনেকে আছেন বিমানে চড়তে অর্থাৎ আকাশে উড়তে ভয় পান। তাদের জন্য বিশেষ অ্যাপ বানানো হয়েছে যা কিনা সাইকোথেরাপিস্টের কাজ করবে। এটা ডাউনলোড করে ভার্চুয়াল হেডসেটের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে। সেখানে এমন চিত্র দেখানো হবে যে ওই ব্যক্তি কোনো পাহাড় বা নদীর ওপর দিয়ে উড়ছেন। একটা সময় তার ভয় কেটে যাবে। বার বার দেখলে অবশ্যই ভয় কেটে যাওয়ার সমূহ সম্ভবনা রয়েছে। প্রয়োজনে তাকে আরো অনেক ওপরের দিকে উড়িয়ে নেওয়া হবে ভিআর এর মাধ্যমে।

সিয়াস নামের প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ সালে এক মিলিয়ন ইউরো এই প্রজেক্টের পেছনে ঢেলেছে। প্রায় ৬০০ বিশেষজ্ঞের কাছে এই প্রযুক্তি পাঠিয়েছে। তারা এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল নিয়ে ব্যস্ত আছেন।

এদিকে টেলিসফ্টাস আশা করছে তারা অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার, পোস্ট-ট্রমাটিক সিনড্রোম, অ্যালকোহলিজম এবং ধূমপানের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিকে সফলতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে পারবে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

 


মন্তব্য