kalerkantho


পারদ ও চুম্বক ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি    

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৮:২৫



পারদ ও চুম্বক ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন

পারদ ও চুম্বক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ফ্রি এনার্জি ম্যাগনেটিক পাওয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন করে কেরানীগঞ্জে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন শরীফুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবক। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানাধীন বাসিরা গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মোঃ আনোয়ার হোসেন ভাষানী।  

একটি বিশেষ কায়দায় যন্ত্রটি তিনি তৈরী করেছেন। এর জন্য তার পার করতে হয়েছে প্রায় এক যুগ। ঘুরতে হয়েছে দেশ-বিদেশ। শরীফুলের আবিষ্কৃত যন্ত্রের ভেতর পারদ ও চুম্বক ব্যবহার করে তৈরী হচ্ছে বিদ্যুৎ। দীর্ঘদিন গবেষণার পর তিনি এ সাফল্য পেয়েছেন বলে দাবি শরিফুলের। তার উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি নামও দিয়েছেন তিনি ফ্রি এনার্জি ম্যাগনেটিক পাওয়ার। শরীফুলের ভাষ্য অনুযায়ী, তার যন্ত্রের ভেতরে শুধুমাত্র পারদ ও চুম্বক ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই চুম্বক থেকে প্রতিদিন ৯০০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

যা দিয়ে ১টি ফ্রিজ, ১টি টিভি, ২টি ফ্যান ও ৩টি বাতি জ্বালানো যায়। যন্ত্রটি তৈরীতে খরচ পড়বে ১৫ হাজার টাকার মতো। শরীফুলের দাবি, একবার যন্ত্রটি চালু করা হলে ৩০ বছর ধরে নিরবিচ্ছন্নভাবে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। শরিফুলের উদ্ভাবিত বৈদ্যুতিক যন্ত্রটি আজ বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদকে দেখাতে নিয়ে আসেন। পরে তিনি রাজেন্দ্রপুর মনোয়ারা কমপ্লেক্স ভবনের বিদ্যুৎ উৎপাদন করে টেলিভিশন ও কয়েকটি বাতি জ্বালিয়ে দেখান। এ সময় শত শত লোক শরীফুলের উৎপাদিত বিদ্যুৎ দেখার জন্য ভিড় জমান ।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ বলেন, শরীফুলের আবিস্কৃত যন্ত্রটি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। আমরা টিভি ও বাতি জ্বালিয়ে তার প্রমান পেয়েছি। এটা অবশ্যই তার সাফল্য। আশা করি সরকার যদি শরীফুলের এ আবিস্কারকে পৃষ্টপোষকতা করে তা হলে আবিষ্কৃকারটি দিয়ে বিশ্বে যেমন তাক লাগানো যাবে তেমনি বাণিজ্যিকভাবেও এই সেক্টরে বিশাল সাফল্য পাওয়া যাবে।

শরীফুল ইসলাম জানান, অভাব অনটনের কারনে তিনি বেশী পড়াশুনা করতে পারেন নি। এরপর জীবিকার তাগিদে ২০০৩ সালে একটি ইলেক্ট্রনিক পন্য তৈরীর কারখানায় কাজ নিয়ে চলে যান দক্ষিণ কোরিয়া। পথঘাট ও ভাষা না জানা থাকার কারনে তাকে বসে থাকতে হতো কারখানায়। সেখানে অবসর সময়ে ওই কারখানায় বসেই বসে চিন্তা করতাম কি করা যায়। ছোট বেলা থেকেই আমার ইলেকট্রিক কাজের দিকে মন চলে যেতো। সেই ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি নাড়াচড়া করতে করতে এক সময় মাথায় ঢোকে কিভাবে অন্য উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। এরপর শুরু হয় আমার গবেষণা। ৪ মাস পর দেশে চলে আসি। দেশে আসারপরও বিভিন্ন ইলেকট্রিক দোকানে গিয়ে আমার গবেষণা চালিয়ে যাই। পারিবারিক অনটনের কারনে ফের ২০০৭ মালেয়শিয়া চলে যাই। সেখানেও দক্ষীণ কোরিয়ার মতো একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ নেই। এখানে কাজের চাপ বেশী থাকলে গবেষণার নেশার আমার কাটে নাই। কাজের ফাঁকে ফাঁকে চলে আমার গবেষণা। এখানে কাজ করার ময় আমি অনেক সময় বিদেশী ইলেকট্রি ইঞ্জিনিয়ারদের সহযোগী নিয়েছি। এটা করলে কি হবে, ওই করলে কি হবে বিভিন্ন প্রশ্নের মাধমে তাদের কাছ থেকে আমার  গবেষণার খুটি নাটি জানতাম। এরপর ২০১৫ সালে দেশে এসে পুরোমাত্রায়  গবেষণা  চালিয়ে চুম্বক ও পারদ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হই। প্রথমদিকে আমার উদ্ভাবিত যন্ত্রটি দিয়ে ১৬০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারতাম। বর্তমানে আমার আবিষ্কৃত যন্ত্রটি দিয়ে ৯০০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যাচ্ছে।  

শরীফুল বলেন, আমারা আবিষ্কৃত বিদ্যুৎ উৎপন্ন করার যন্ত্রটি তৈরী করতে ১৫ হাজার টাকার মতো খরচ হবে। একবার যন্ত্রটি চালু হলে ৩০ বছর পর্যন্ত নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে বলে আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বানিজ্যিকভাবে যন্ত্রটি বাজারজাত করার ইচ্ছে আছে। এতে করে সরকার যেমন বিদ্যুৎ সেক্টরে চাপ অনেকটা কমতে পারবে তেমনী সাধারন জনগনও কম খরচে হাতের নাগালে ভাল মানের একটি নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র পাবে। এ যন্ত্রে কোন শব্দ নেই।


মন্তব্য