kalerkantho


তুষার যুগের ম্যামথ কি আবার ফিরে আসছে?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৪:১৫



তুষার যুগের ম্যামথ কি আবার ফিরে আসছে?

উলো ঝুলো লোমে ঢাকা বিশালাকার শরীর নিয়ে থপথপ করে হাঁটত ম্যানি। বড় বড় দাঁত, শরীরের তুলনায় পুঁচকে দুটো কান আর সরল চোখ নিয়ে আইস এজ লাভারদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল মিষ্টি এই ম্যামথ।

কিন্তু সে তো শুধুই অ্যানিমেশন। শিল্পীর হাতে সিনেমার পর্দায় জন্ম হয়েছিল আইস এজ এর ম্যানির।

এ বার আর অ্যানিমেশনে নায়, বাস্তবেও জন্ম নেবে ম্যামথ। অন্তত এমনটাই দাবি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের। সম্প্রতি বস্টনে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্স (এএএএস) এর আলোচনা সভায় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। কী ভাবে সম্ভব হবে এই অত্যাশ্চর্য ঘটনা?

ম্যামথ ও হাতির হাইব্রিড এই প্রাণীর জন্ম দিতে জিন এডিটিং টেকনোলজির দ্বারস্থ হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষজ্ঞ দলের দাবি, বিলুপ্ত প্রাগৈতিহাসিক এই প্রাণীকে ফিরিয়ে আনার কাজও প্রায় শেষ। এই মুহূর্তে গবেষণাগারে হাইব্রি়ড ভ্রূণ তৈরির কাজও চলছে জোর কদমে। বিজ্ঞানীদের আশা, আগামী ২ বছরের মধ্যেই ফের জন্ম নেবে তুষার যুগে হারিয়ে যাওয়া এই প্রাণী।

এই গবেষণার কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে। অধ্যাপক চার্চ জানাচ্ছেন, এই প্রাণী তৈরি করতে বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে এশিয়ান হাতির জিনোমেও। হাতির ১৫ থেকে ৪৫ নম্বর জিনোমের সংযুক্তিকরণও করা হয়েছে এই প্রক্রিয়ায়। চার্চের দাবি, হাইব্রিড এই প্রাণী তৈরি করতে গবেষণাগারে এমব্রায়োজেনেসিস পদ্ধতির দ্বারস্থ হতে হয়েছে। এক্স-ভিভো অর্থাৎ দেহের বাইরে ভ্রূণ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ কেন ম্যামথকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা শুরু করলেন বিজ্ঞানীরা? জানা গিয়েছে, প্রকৃতিকে বাঁচাতেই এমন যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন তাঁরা। গবেষক দলের দাবি, তুন্দ্রা অঞ্চলের পরিবেশকে রক্ষা করবে এই প্রাণী। গ্রিন হাউজ গ্যাসের ক্ষতিকর প্রভাবও কমাবে। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, সাইবেরিয়া অঞ্চলের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত কমাতে পারবে পৃথিবীর নতুন এই সদস্য।


মন্তব্য