kalerkantho


এক শিল্পকর্ম 'লাফ স্টার' : মানুষের হাসি পৌঁছে যাবে মহাশূন্যে!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৫:১০



এক শিল্পকর্ম 'লাফ স্টার' : মানুষের হাসি পৌঁছে যাবে মহাশূন্যে!

বিজ্ঞানীরা বানিয়েছেন একটি 'লাফ স্টার'। এটি একটি থ্রিডি প্রিন্টেড বস্তু যা মানুষের হাসিতে সৃষ্ট শব্দতরঙ্গ শনাক্ত করে এবং ক্রিয়াশীল হয়।

এটি তারকার মতোই ভেসে থাকবে মহাশূন্যে। 'হাসি তারকা' কিন্তু পৃথিবীতে বানানো হয়নি। এর জন্মস্থান মহাকাশে, ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে (আইএসএস)। রীতিমতো এক শিল্পকর্ম যা প্রথমবারের মতো গ্রহের বাইরে বানানো হলো। অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাসিলিটি (এএমএফ) প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে যা কিনা মাধ্যাকর্ষণ শক্তি থেকে পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম।

এই 'হাসি তারকা'র কথা প্রথম কল্পনায় আনেন ইসরায়েলের সমকালীন শিল্পী ইয়াল গেভার।   তিনি এমন সব শিল্পকর্ম সৃষ্টিতে আগ্রহী যা সমাজে প্রভাব বিস্তার করে। যে শিল্প ভিন্ন বর্ণ-গোত্রের মানুষের মাঝে যোগাযোগ স্থাপন করে। এর আগেও অ্যান্ডি ওয়ারহল, রবার্ট রাউজেনবার্গ এবং ডেমিয়েন হার্স্টের মতো শিল্পীদের শিল্পকর্ম মহাকাশে পাঠানো হয়েছে।

কিন্তু এই প্রথমবারের মতো কোনো শিল্পকর্ম মহাকাশেই বানানো হলো থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে।  

হাসি মানবজাতির অনুভূতির এক সার্বজনীন প্রকাশ যা শিল্পের মতোই। হাসির ভাষা সবাই বোঝেন। গেভার বলেন, আমরা চরম এক সময়ে বাস করছি। চরমভাবাপন্ন হয়ে উঠবে সংস্কৃতি। ক্রমাগত এলোমেলো পরিবর্তন ঘটে চলেছে। আমাদের চলার পথ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে।

একটি হাসি তারকা মহাকাশে ভেসে বেড়াবে। আমাদের সবার মাথার ওপরে থাকবে এটি। আমার চিন্তা ছিল 'সোর্ড অব ডামোক্লেস'কে সমকালীন রূপক অর্থে তুলে আনা। এই তারকা একটা সংকেত যা মানব জীবনের ভঙ্গুর সৌন্দর্যকে মনে করিয়ে দেবে।

প্রজেক্ট '#Laugh' শুরু হয়েছে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে। এই অ্যাপটি যেকোনো মানুষের হাসি রেকর্ড করবে এবং একটি ডিজিটাল থ্রিডি সিস্টেমের মাধ্যমে রূপান্তর ঘটাবে। 'লাফ স্টার' ব্যবহারকারীরা তাদের প্রিয় হাসির শব্দ শুনতে, দেখতে এবং ভোট দিতে উৎসাহিত হবে।

প্রাচীন গুহায় মেলা মানুষের হাতের ছাপ মানবজাতির অস্তিত্বের চিহ্ন হিসাবে দাবি করা হয়। '#Laugh' একবিংশ শতকের চিহ্ন হিসাবে বিবেচিত হবে। মানুষের হাসির গাণিতিক রূপ মিলবে এখানে।

এএমএফ এর অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত এক প্রতিষ্ঠান মেড ইন স্পেস। এর প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু রাশ বলেন, পৃথিবীর এটা দেখা জরুরি যে প্রযুক্তি আর শিল্প একে অন্যের থেকে স্বাধীন নয়। এই প্রজেক্টের অংশ হতে পেরে আমরা আনন্দিত। আশা করছি এই উদ্ভাবন এবং সৃষ্টিশীলতা মানব সভ্যতাকে এগিয়ে নিতে ভবিষ্যতের মন্ত্র হয়ে উঠবে।
সূত্র : ডেকান হেরাল্ড

 


মন্তব্য