kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মানবজাতিকে রক্ষা, নাকি ধ্বংস করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:৩৭



মানবজাতিকে রক্ষা, নাকি ধ্বংস করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা?

বছর দুয়েক আগেই এ কথা বলেছিলেন পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে (এআই) চূড়ায় নিলে তা মানবসভ্যতা ধ্বংসের কারণ হবে।

তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি সরাসরি এআই'কে ভয়ংকর বলে মত দিয়েছে। তবে ইলোন মাস্ক, বিল গেটস এবং স্টিভ ওজনিকের মতো প্রযুক্তি দুনিয়াল মহারথীরাও তাদের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা বুঝতে পারছেন না, এআই আসলে কোন দিকে যাচ্ছে? এআই এর চরম উৎকর্ষতা আসলে কি পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। এ বিষয়ে অন্যান্য বিজ্ঞানীদের মতামতকেও বিবেচনায় আনতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি ক্যামব্রিজে  সেন্টার ফর দ্য ফিউচার অব ইন্টেলিজেন্স উদ্বোধনের সময় বিষয়গুলো উঠে এসেছে। এ প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্যতের বিজ্ঞান ও এআই নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হবে। এই সেন্টারের উদ্বোধন করেন স্টিফেন হকিং। সেখানে তিনি বলেন, আমি আনন্দিত যে কেউ আমার কথা শুনছেন। এক স্বল্পমেয়াদি বক্তৃতায় তিনি এআই এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন। আধুনিককালে স্বচালিক গাড়ির ব্যাপক উন্নয়ন তার নজর কাড়ে। বলেন, মানুষের মস্তিষ্ক এবং এআই এর মধ্যে খুব গভীর কোনো পার্থক্য নেই। তত্ত্বীয়ভাবে, এআই মানুষের মস্তিষ্ককে অনুসরণ করে এবং একে টপকে যেতে চায়। এর মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তন বা দারিদ্র বিমোচনে কাজ করা যায়। আবার মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য আরো উন্নত অস্ত্র তৈরির কাজটি করা যেতে পারে। মূল কথা হলো, এআই এর উত্থান হয় খুব ভালো হবে, অথবা অবস্থার চরম অবনতি ঘটাবে।

কাজেই নতুন এ সেন্টারের গবেষণার অন্যতম একটি লক্ষ্য হবে, এআই মানুষের ধ্বংসের কারণ হবে কি না? এ প্রতিষ্ঠানে দার্শনিক, মনোবিজ্ঞানী, আইনজীবী এবং বিজ্ঞানীরা এক হয়েছেন।

প্রফেসর ম্যাগি বোডেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা করছেন ৫০ বছর ধরে। বলেন, আজ যে বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এর প্রয়োজন বহু আগে থেকেই অনুভব করেছি। স্বচালিত গাড়ির প্রভাব নিয়েই চিন্তা-ভাবনা করছেন তিনি। বলা হচ্ছে, যাত্রী ও রোগীদের সুরক্ষার জন্য স্বচালিত গাড়ির কথা ভাবা হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি ভীতিকর।

এআই নিয়ে বহু বছরের গবেষণায় বোডেন দেখেছেন, সহানুভূতি ও আবেগগত বিষয়ে মানুষের স্থান রোবট কখনো দখল করতে পারবে না। এআই রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের খরচ বাঁচিয়ে দিতে পারবে। কিন্তু সেই প্রয়োজন মেটাতে এদের পেছনে কত খরচ করতে হবে তাও ভাববার বিষয়।

সেন্টার ফর দ্য ফিউচার অব ইন্টেলিজেন্স এআই এর পক্ষে এমন যুক্তি নিয়েই কাজ করছে। কিন্তু ভবিষ্যতে টারমিনেটরদের আগমন ঘটবে কিনা তা এখোনি ভাবতে হবে। সূত্র : বিবিসি

 


মন্তব্য