kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ক্রমাগত ভুয়া খবর প্রকাশ করে চলেছে ফেসবুক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:২৮



ক্রমাগত ভুয়া খবর প্রকাশ করে চলেছে ফেসবুক

ফেসবুক গোটা বিশ্বের আলোচিত খবর যখন প্রচার শুরু করলো, তখন সবাই আগ্রহী হয়ে উঠলেন। নানা প্রশ্ন দেখা দিলো? ফেসবুক কি সংবাদমাধ্যম হয়ে গেলো? বা এই মাধ্যমকে এটি অংশ বানানলো? এর মাঝেই দেখা বিপদের উদয়! ফেসবুক বেশ কয়েকটি ভুল খবর প্রকাশ করলো।

মেগাইন কেলির ঘটনাটি বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি করলো। এক সময় বিতর্ক শুরু হলে ফেসবুক গোটা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজালো। কিন্তু তার   সপ্তাহ পরই আবার ফক্স নিউজ চ্যানেলের তারকার ঘটনাটি গুজব রটাতেই লাগলো। ফেসবুক একের পর এক ভুয়া খবর প্রচার করতে থাকলো।

ফেসবুকের 'ট্রেন্ডিং টপিকস' নিয়ে অডিট শুরু হলো। প্রত্যেকটি খবর ঘেঁটে দেখা হলো। দেখা গেলো, মোট চারটি অ্যাকাউন্ট থেকে খবরগুলোকে জনপ্রিয় করা হয়েছে। আগস্টের ৩১ তারিখ থেকে সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখের মধ্যে কাজগুলো করা হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে ৫টি জনপ্রিয় কাহিনী প্রচার পায়। এই পাঁচটি ঘটনাই ভুয়া এবং তিনটি খবরে অনেক ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফেসবুকের ওই দলের এক সাবেক সদস্য বলেন, কতগুলো ভুয়া ঘটনাকে জনপ্রিয় করা হয়েছে সে বিষয়ে আমি মোটেও অবাক নই। ওইসব ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলের তারা ছাড়া ঘটনা বোঝা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। ফেসবুক তার চলতি জনপ্রিয় বিষয়গুলোতে প্রত্যেক ব্যবহারকারীকে যুক্ত করে। কর্মদিবসের মধ্যেই এসব করা হতো। তবে এমন ছিল না যে, সব খবরই ভুয়া হতো। কিন্তু সময় বুঝে ফেসবুক যে ভুয়া খবর প্রচার করে তা এখনো বিদ্যমান। তবে ঠিক কখন কখন এগুলো করা হতো সে বিষয়টি আমরা জানি না।

৩১ আগস্ট তারিখে ফেসবুক প্রকাশ করলো, ক্লেমসন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর এক প্রার্থণারত মানুষকে বের করে দিয়েছেন। পরের সপ্তাহ ৮ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রচার করলো আইফোনের এক বিস্ময়কর ফিচারের কথা। এমন আরো কিছু খবর প্রকাশ করলো যা বিতর্কিত হয়ে গেলো।

আমেরিকান ফুটবল টিম বাফেলো বিলকে নিয়ে একটি খবর দিলো ফেসবুক। এটি তারা নেয় নামকরা বিদ্রূপাত্মক সাইট স্পোর্টসপিকেল থেকে। সেখানে গলদ খবর প্রচারিত হলো। স্পোর্টসপিকেলের প্রতিষ্ঠাতা ডিজে গালো বললেন, আমি ফেসবুকের কাছে আরো ভালো মানের খবর আশা করি। কারণ নাগরিকতের সত্য খবর দিতে হবে।

ফেসবুক তার এই ফিচারের মাধ্যমে দিনের সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় ঘটনা প্রকাশ করা হয়। এডিটর ও অ্যালগোরিদমের মাধ্যমে এসব বাছাই করা হয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। দায়িত্বরতরা তা পরীক্ষা করে ছেড়ে দেন। অন্য এক অ্যালগোরিদমের মাধ্যমে মজার খবরগুলো বেছে আনা হয়। গুগলসহ অনেকগুলো খবরের উৎস থেকে এসব খবর বাছাই করা হয়।

আগের এডিটরিয়াল দল খবর প্রকাশের বিষয়ে যথেষ্ট প্রভাববিস্তার করতো। অ্যালগোরিদমের ওপর ভিত্তি করে খবর বাছাই করা হতো। এসব খবর নিয়ে অনেক বিতর্ক হলেও ফেসবুক খুব বেশি পরিবর্তন এনেছে বলে মনে হয় না।

ফেসবুকের প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডাম মোসেরি বলেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব ভুয়া খবর বের করার বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তবে ফেসবুক যে এ সমস্যা একাই ভোগ করছে তা নয়। জটিল অ্যালগোরিদমের মাধ্যমে এসব খুঁজে বের করার কাজটি সত্যিই কঠিন। কিন্তু ফেসবুকের বিষয়টি অন্যরকম। প্রায় ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান খবরের জন্য ফেসবুক খোলেন। যদিও প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, এটা মিডিয়া কম্পানি নয়।

ইতালিয়ান কম্পিউটার বিজ্ঞানী ওয়াল্টার কোয়াট্রোসিওচি অনলাইনে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন। বলেন, ফেসবুক হলো ভুয়া তথ্য প্রকাশের উত্তম মাধ্যম। এসব দেখতে ও পড়তে পছন্দ করেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। যখন ফেসবুক এসব খবর নিউজ ফিডে ছাড়ে, তখন তা ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে যায়। সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট

 


মন্তব্য