kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিশ্ব কি একটি 'সিমুলেশন' মাত্র?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:০১



বিশ্ব কি একটি 'সিমুলেশন' মাত্র?

বেশ কিছু প্রযুক্তিবিদ ও পদার্থবিদ বিশ্বাস করেন ‘সিমুশেন থিওরি’। এ তত্ত্ব অনুযায়ী সমগ্র বিশ্ব একটি সিমুলেশন মাত্র।

আর অনেক গবেষক বিশ্বাসও করেন যে, একসময় এ সিমুলেশন থিওরির সত্যতা প্রমাণিত হবে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে গার্ডিয়ান।
অতীতে ধারণা করা হতো পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু। এভাবে আরও বহু ধারণা ছিল, যা পরবর্তীতে ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে গবেষকরা তাদের অনুসন্ধান জোরদার করেছেন। ফলে অদূর ভবিষ্যতে আরও তথ্য জানা যাবে।
সম্প্রতি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এলন মাস্ক তার বিশ্বাসের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, তার বিশ্বাস পৃথিবী একেবারেই বাস্তব নয়, এটি কম্পিউটারের একটি সিমুলেশন। তিনি শুধু মঙ্গলগ্রহে অভিযান কিংবা দারুণ সব প্রযুক্তিপণ্য নিয়ে কথা বলেন না, তিনি এ বিষয়েও আলোচনা করেন।
গত জুন মাসে এক কনফারেন্সে মাস্ক বলেন, ‘এক বিলিয়নের এক ভাগ সম্ভাবনা রয়েছে যে, আমরা মূল বাস্তবতায় বসবাস করছি। ’
মাস্ক ‘সিমুলেশন হাইপোথিসিস’-এ খুবই আগ্রহী। এ তত্ত্ব অনুযায়ী বিশ্বাস করা হয় পৃথিবী একটি বিশাল কম্পিউটার সিমুলেশন। আর এটি তৈরি করা হয়েছে অত্যন্ত সংবেদনশীল বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে। এটি অনেকটা দ্য ম্যাট্রিক্স সিনেমার মতো।
তবে এ সিমুলেশন তত্ত্ব কোনো নতুন ধারণা নয়। ১৭ শতকেই এ ধারণার উদ্ভব হয় দার্শনিক রেনে ডিসকার্টেসের মাধ্যমে। ২০০৩ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিক বসট্রোম এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধান করেন। তিনি একটি গবেষণাপত্রও লেখেন, যার শিরোনাম ছিল ‘আর ইউ লিভিং ইন এ সিমুলেশন?’
গবেষণায় বসট্রোম অনুমান করেন, অত্যন্ত উন্নত বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কোনো প্রাণী তাদের প্রচণ্ড শক্তিশালী কম্পিউটারের সহায়তায় এ মহাবিশ্ব নিয়ে সিমুলেশন চালাচ্ছে।
বর্তমানে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি প্রযুক্তি আসার পর এ সিমুলেশনের ধারণাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কারণ এ প্রযুক্তি বিষয়ে যতই মানুষ জানতে পারছে ততই সিমুলেশনের বিষয়টির বাস্তবতা বোধগম্য হচ্ছে।
মাস্ক বলেন, ৪০ বছর আগেও মানুষের প্রযুক্তি এত উন্নত ছিল না। এখন আমরা থ্রিডি সিমুলেশন ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছি। প্রযুক্তি ক্রমে উন্নত হচ্ছে। এ ধারা বজায় থাকলে শীঘ্রই আমরা এমন এক সমাজে প্রবেশ করব যেখানে ভার্চুয়াল সবকিছুই বাস্তব হয়ে উঠবে। আর এভাবে সত্যিকার মানুষও যেন সিমুলেশনের তুলনায় গুরুত্ব হারাবে। এ সব বিষয় একত্রে ভার্চুয়াল রিয়ালিটিকেই যেন বাস্তব করে তুলবে। সে সময় সিমুলেশনের বিষয়টি আরও ভালোভাবে মানুষের বোধগম্য হবে।


মন্তব্য