kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পুলিশের কাছে ফিড থেকে তথ্য ফাঁস করে ফেসবুক, টুইটার ও ইন্সটাগ্রাম?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:২৫



পুলিশের কাছে ফিড থেকে তথ্য ফাঁস করে ফেসবুক, টুইটার ও ইন্সটাগ্রাম?

বর্ণবাদের অভিযোগে বাল্টিমোর ও ফারগুসনে যে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়, সেখানে নজরদারির প্রয়োজনে এক শক্তিশালী প্রোগ্রাম হাতে নেয় পুলিশ। আর এ প্রোগ্রামের অধীনে টুইটার, ফেসবুক এবং ইন্সটাগ্রাম ব্যবহারকারীদের স্পেশাল ফিড থেকে তথ্য নেওয়া হয়।

এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠাগুলো অনেক সময়ই ব্যবহারকারীদের অবস্থান, ছবি ও অন্যান্য তথ্য দিয়ে সহায়তাক করে পুলিশকে। শিকাগোর জিওফিডিং নামের এক প্রতিষ্ঠান জানায়, তারা অপরাধীদের শনাক্তকরণে ৫০০টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সোশাল মিডিয়া পোস্টের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সহায়তা করে।

জিওফিডিয়া এবং এ ধরনের অন্যান্য প্রোগ্রামের মাধ্যমে সোশাল মিডিয়াগুলো সরকারকে নানা কাজে সহায়তা করতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে অপরাধ ও অরাজকতা দমনে সোশাল মিডিয়া সরকারের বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার এসিএলইউ এর টেকনলজি এবং সিভিল লিবার্টিস পলিসি ডিরেক্টর নিকোল ওজের বলেন, এসব প্লাটফর্মের আরো বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তারা মানুষের অধিকার রক্ষায় ও বর্ণবাদীদের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। এর জন্য ফেসবুক বা টুইটারকে বলতে হবে না যে তাদের ডেভেলপাররা কি করছেন। তবে এদের শক্তিশালী পাবলিক পলিসি প্রণয়নের প্রয়োজন হবে।

এসিএলইউ এর এই প্রতিবেদনের পর টুইটার জানায়, তাদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তিত করে আমরা টুইটারে জিওফিডিয়ার বাণিজ্যিক প্রবেশ বন্ধ করে দিচ্ছি।

ফেসবুক বিবৃতিতে জানায়, জিওফিডিয়া আমাদের তথ্যে অবৈধ প্রবেশ করছে। তারা একমাত্র সেইসব তথ্য দেখতে পারে যা ব্যবহারকারীরা পাবলিক পোস্ট হিসাবে প্রকাশ করেন। এসব প্লাটফর্মের সবাই মন করেন, এখানকার সব পোস্ট তাদের চিন্তা ও মতামত প্রকাশ করে। তারা ছবি দেন বন্ধুদের জন্য। কিন্তু জিওফিডিয়ার মতো কিছু প্রতিষ্ঠান এসব তথ্য চুরি করে তাদেরই ক্লায়েন্টকে সেবা দিচ্ছে। সোশাল মিডিয়ার স্পেশালাইজড ডেটা স্ট্রিমে খুব সহজ ও দ্রুততার সঙ্গে প্রবেশ করা যায়।

ওকল্যান্ডের অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ সেন্টার ফর মিডিয়া জাস্টিসের পরিচালক মালকিয়া সাইরিল জানান, সোশাল মিডিয়ায় পুলিমের নজরদারিতে কালো মানুষদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাদের অধিকার রক্ষা করে কাজটি করতে হবে।

সোশাল মিডিয়া পোস্টে ব্যবহারকারীরা তাদের অবস্থান এবং অন্যান্য তথ্য দিয়ে থাকেন স্মার্টফোনের মাধ্যমে। এতে করে যারা নজরদারি করে তাদের পক্ষে সুবিধা হয়। এসিএলইউ এর এক কর্মী জানান, ফেসবুকের সঙ্গে তাদের এক গোপন চুক্তি রয়েছে যার মাধ্যমে তথ্য দেখার কাজটি বৈধতা পেয়েছি।

ফেসবুক, টুইটার এবং ইন্সটাগ্রামের আয়ের বড় উৎসটি হলো বিজ্ঞাপন। আবার সাইড ব্যবসা হিসাবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার প্রকাশ করেও অর্থ আয় করে তারা। এপিআই নামের সফটওয়্যারের মাধ্যমে ডেভেলপাররা ফেসবুকে কারো বন্ধুতালিকা, জন্ম তারিখ, প্রোফাইল ছবি, শিক্ষাগত ইতিহাস, রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস ইত্যাদি দেখতে সক্ষম হয়েছেন। টুইটারও তাদের কথিত ফায়ারহোস থেকে তথ্য বিক্রি করে।

এসিএলইউ জানায়, জিওফিডিয়াকে ফেসবুক তাদের তথ্যের বিশাল ভাণ্ডারে প্রবেশ করতে দেয়। চলতি ইভেন্ট বা বিষয় নিয়ে কি ঘটছে সে বিষয়ে নজরদারি করতে পারে। এর মাধ্যমে বিক্ষোভ, সন্ত্রাস বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নজর দেয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। টুইটার অবশ্য তার ফায়ারহোসে পুরোপুরি অধিকার দেয়নি। ইন্সটাগ্রাম ব্যবহারকারীদের ছবি কোন স্থান থেকে তোলা হয়েছে সেই তথ্য দেখতে দেয়।

এখন মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থাগুলো চায় সোশাল মিডিয়া তাদের কম্পানির পাবলিক পলিসির বিষয়ে আরো কঠোর হয়ে উঠুক। সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলেই যে এসব তথ্য দেখতে না পারে।

এসিএলইউ আরো জানায়, শুধু ফেসবকু, টুইটার বা ইন্সটাগ্রামই নয়, জিওফিডিয়া ভাইন ও পেরিস্কোপেও দৃষ্টি দিয়েছে। রাশি বা চীনের জনপ্রিয় সোশাল প্লাটফর্মেও ঢুঁ মারে তারা। সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট

 


মন্তব্য