kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দুর্যোগ মোকাবেলায় কম্পিউটার কি প্রস্তুত?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:০১



দুর্যোগ মোকাবেলায় কম্পিউটার কি প্রস্তুত?

নানা ধরনের দুর্যোগ আমাদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়ায়। বিমান চালনাতে এখন মানুষ কম্পিউটারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

ভবিষ্যতে গাড়িও চালাবে চালকহীন গাড়ি, যার পেছনে কাজ করবে শক্তিশালী কম্পিউটার ও নানা ধরনের সেন্সর। একইভাবে আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েই চলেছে। আর এ পরিস্থিতিতে কম্পিউটারকে যে কোনো ধরনের বিপদ ও দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।   এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, আমাদের কম্পিউটারগুলো কি সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার জন্য প্রস্তুত? এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে গার্ডিয়ান।
পাইলট মার্ক ডিউবিওস বিমানের ককপিটে যখন প্রবেশ করেন তখন তিনি খুবই বিভ্রান্ত অবস্থায় ছিলেন। তিনি তার সহকারীর হাতে বিমানটির নিয়ন্ত্রণভার দিয়ে একটু ঘুমাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ঘুম থেকে উঠেই তিনি আবিষ্কার করেন, বিমান খুবই বিপজ্জনকভাবে ঝাঁকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি ঠিক কি করতে হবে বুঝতে পারছিলেন না।
প্রচণ্ড কম্পমান বিমানটিতে সহকর্মীদের তিনি জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলেন যে, তারা এ সমস্যার সঠিক কোনো কারণ জানতে পারেননি।   আর এ সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটানা স্টল স্টল স্টল বলে যাচ্ছে।
সহকারী পাইলট জানান, আমরা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি। বিমান ঠিক করতে সব ধরনের চেষ্টাই করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
তবে তারা বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ও নিরাপদ বিমানের অন্যতম এয়ারবাস ৩৩০ চালাচ্ছিলেন। এ বিমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ উন্নত। এর ফটোপাইলটও বহু ধরনের বিপদ মোকাবেলা করতে সক্ষম। তার পরেও বিমানটি কেন স্টল বা আকাশে থেমে গেল তা বোঝা যাচ্ছিল না।
প্রধান পাইলট ককপিটে তার দায়িত্ব নেওয়ার পরেও সঠিক অবস্থাটি বুঝতে পারছিলেন না। কারণ তিনি এর আগে ছুটিতে ছিলেন এবং আগের রাতে মাত্র এক ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পেয়েছেন।
পরে বিমানের গণ্ডগোল হওয়ার বিষয়টির কারণ জানা যায়। বিমানটির অটোপাইলট ব্যবস্থা কোনো কারণে একে অতিরিক্ত উচ্চতায় উঠিয়ে দিয়েছিল। এটি হতে পারে বায়ুমণ্ডলে বিমানের সামনের দিকে কোনো ঝড়ের পূর্বাভাষের কারণে। অতিরিক্ত উচ্চতায় ওঠার কারণে বাতাসের চাপ যেমন কমে গিয়েছিল তেমন বিমানটি সামনে এগিয়ে যেতেও পারছিল না। এ সময় অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় বিমানটির বিভিন্ন অংশে বরফ জমে সেন্সরগুলোও অকার্যকর হয়ে উঠেছিল।
তবে বিমানের পাইলট দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বিষয়টিকে ঠিক করার চেষ্টা করেন। এ সময় সেন্সরগুলো সঠিকভাবে কাজ না করায় কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না। বিমানের পাইলটের সহকারীরা তেমন দক্ষ ছিলেন না। তারা মূলত অটোপাইলট দিয়ে বিমান চালাতেন। ম্যানুয়াল কন্ট্রোলে অভ্যস্ত ছিলেন না। ফলে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ অটোপাইলট থেকে বাদ দিয়ে নিজেদের হাতে নেওয়া হলেও তারা বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারছিলেন না।
বিমানটি এ সময় দ্রুত উচ্চতা হারাতে থাকে। দ্রুত বিমানটি নিচে নামতে থাকলেও বিমানের পাইলটেরা তা বুঝতে পারছিলেন না যে এটি ওপরে উঠছে নাকি নিচে নামছে। কারণ বিমানের উচ্চতার মাপকাঠিসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তারা আস্থা হারিয়েছিলেন। এ অবস্থায় নিচে নামতে নামতে এক পর্যায়ে বিমানটি আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়।
সাগরে পতনের সময় বিমানটির গতি ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১২৫ মাইল। বিমানের ২২৪  আরোহীর সবাই এ সময় মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
কম্পিউটারের গণ্ডগোলের এ ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই কাজ করছেন। ঠিক কোন উপায়ে কম্পিউটারকে প্রস্তুত করলে তা দুর্ঘটনা এড়াতে পারবে এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে নিরবচ্ছিন্ন গতিতে। গবেষণায় এখন বহুদূর অগ্রগতি হয়েছে। তবে সে অগ্রগতি যে এখনও নিখুঁত নয়, তার প্রমাণ বিমান দুর্ঘটনাসহ নানা বড় দুর্ঘটনা। আশা করা হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে প্রযুক্তির আরও উৎকর্ষ হলে এ দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।


মন্তব্য