kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পুরোনো স্মার্টফোন যে ১০ কাজে লাগানো সম্ভব

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৩:১০



পুরোনো স্মার্টফোন যে ১০ কাজে লাগানো সম্ভব

প্রতিবছরই স্মার্টফোন উৎপাদকরা প্রচুর সংখ্যক নতুন হ্যান্ডসেট বাজারে ছাড়েন। এসব হ্যান্ডসেটের কোনো কোনোটি কম্পানির শীর্ষ প্রতীক।

অন্যগুলো মাঝারি এবং সাশ্রয়ী মূল্যের। বেশির ভাগ স্মার্টফোনই অন্তত ২ থেকে ৩ বছর ধরে ব্যবহার করা সম্ভব। তবে অনেকেই আবার সর্বশেষ এবং সবচেয়ে ভালো ডিভাইসটি বাজারে আসা মাত্রই তা কিনে ফেলেন।

কিন্তু নতুন হ্যান্ডসেট কেনার ফলে পুরোনোটি যে একেবারে অকেজো হয়ে পড়ে এমনটা ভাবা ঠিক নয়। পুরোনো স্মার্টফোনটিকেও কাজে লাগানোর বেশ কিছু উপায় আছে। জেনে নিন কীভাবে :

১. নিরাপত্তা ক্যামেরা
আজকাল প্রতিটি স্মার্টফোনের সঙ্গেই যথেষ্ট সুন্দর ও শক্তিশালী ক্যামেরা ব্যবহার থাকে। সুতরাং আপনার যদি একাধিক পুরনো স্মার্টফোন থাকে তাহলে সেগুলো আপনি আপনার বাড়ি বা অফিসের নিরাপত্তা নজরদারিতে ব্যবহার করতে পারেন। এর সঙ্গে আপনার শুধু বাড়তি একটি আইপি ওয়েবক্যাম বা ক্ষুদ্র ক্যাম মনিটর যুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া ওয়েবব্রাউজারের মাধ্যমে লাইভ ভিডিও দেখা, ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিসে রেকর্ডকৃত ভিডিও আপলোড করার কাজেও পুরনো স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারেন।

২. গাড়িতে জিপিএস
নতুন কোনো শহরে ভ্রমণে যাওয়া বা জ্যামে আটকে থাকার সময় সঙ্গে একটি জিপিএস থাকাটা যেন আজকাল জরুরি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। আর আপনার পুরনো স্মার্টফোনটি এ কাজে খুবই উপযোগী বলে প্রমাণিত হতে পারে।

আপনাকে যা করতে হবে তা হলো শুধু হেয়ার উই গো বা গুগল ম্যাপস এর মতো একটি ম্যাপিং অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে। এই অ্যাপটি টার্ন-বাই-টার্ন ভয়েস নেভিগেশন ফিচারযুক্ত এবং আপনি এমনিক অফলাইনে ব্যবহারের জন্যও ডাউনলোডকৃত পূর্ণ ম্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন।

৩. ডিজিটাল ফটো ফ্রেম
আমাদের প্রায় সকলেরই পরিবারের সদস্য এবং বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে একাধিক ছবি থাকে। যা আমরা বাড়িতে বা অফিসের কোনো ডেস্ক ফ্রেমে সাজিয়ে রেখে প্রদর্শন করি।

বিষয়টিকে একটি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আরো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব। আপনি আপনার পুরনো স্মার্টফোনটিতে ডিজিটাল ফটো ফ্রেম ইনস্টল করার মাধ্যমে একে একটি ডিজিটাল ফটো ফ্রেমে রূপান্তরিত করতে পারেন। এরপর এতে আপনার প্রিয় ছবিগুলো স্লাইড শোর মাধ্যমে প্রদর্শন করতে পারেন। এতে অ্যানিমেশন ইফেক্টস, ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড এবং এমনকি ব্যাটারি স্ট্যাটাস ও সময় প্রদর্শনের মতো অপশনও রয়েছে।

৪. মিডিয়া সার্ভার
আপনি যদি অন্য ডিভাইসে মিউজিক ও ভিডিওর মতো মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট চালান করতে চান তাহলে পুরনো স্মার্টফোনটিকে আপনি কেবল একটি মিডিয়া সার্ভারে রূপান্তরিত করুন। প্লেক্স বা বাবলইউপিএনপি'র মতো অ্যাপগুলো ব্যবহার করে আপনি সহজেই তা করতে পারেন। স্ট্রিমিং ফিচারগুলোর বেশির ভাগই ডিএলএনএ সামঞ্জস্যপুর্ণ ডিভাইসের সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম।

৫. সার্বজনীন টিভি রিমোট কন্ট্রোলার
এয়ার কন্ডিশনার এবং টেলিভিশনের মতো প্রায় সকল আধুনিক ইলেকট্রনিক অ্যাপ্লায়েন্সেরই নিজস্ব রিমোট কন্ট্রোলার থাকে। আর আপনার পুরনো স্মার্টফোনে যদি কোনো আইআর ব্লাস্টার থাকে তাহলে আপনি সেটিকে সার্বজনীন রিমোট কন্ট্রোলারে রূপান্তরিত করতে পারবেন। যা টিভিসহ অন্যান্য ঘরোয়া যন্ত্রপাতিতেও ব্যবহারযোগ্য।

৬. ডেডিকেটেড মিডিয়া প্লেয়ার/গেমিং ডিভাইস
আমাদের প্রায় সকলেই গান শোনা, সিনেমা দেখা এবং গেম খেলার জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার করি। সুতরাং আপনার পুরনো স্মার্টফোনটিকে আপনি পুরোপুরি একটি মিডিয়া প্লেয়ার বা বহনযোগ্য গেমিং ডিভাইসেও রূপান্তরিত করতে পারেন।

এ জন্য আপনাকে শুধু সকল অপ্রত্যাশিত অ্যাপস অপসারণ করে একটি ভালো মানের মিডিয়া প্লেয়ার ইনস্টল করতে হবে। এরপর আপনার মিডিয়া কালেকশনগুলো লোডআপ করে কাজ চালিয়ে যান।

৭. ই-বুক রিডার
ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বই পড়ার জন্য অ্যামাজন কিন্ডল এর মতো ই-রিডারের জুড়ি মেলা ভার। তবে আপনি আপনার পুরনো স্মার্টফোনটিকেও ই-রিডার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। অ্যামাজন, বার্নস এবং নোবল এবং কোবোর মতো সকল ই-রিডার প্রস্তুতকারকেদেরই আলাদা আলাদা অ্যাপস আছে। এদের কোনো একটি অ্যাপস আপনি আপনার স্মার্টফোনেও ইনস্টল করে নিয়ে সেটিকে ই-রিডারে রূপান্তরিত করতে পারেন।

৮. ওয়্যারলেস হটস্পট
পুরনা স্মার্টফোনটিতে আপনি সার্বক্ষণিকভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন। আপনাকে যা করতে হবে তা হলো শুধু থ্রি জি বা ফোর জি কানেকশনযুক্ত একটি মোবাইল সিম বা নাম্বার এতে ঢুকিয়ে দিতে হবে। এরপর সেটিকে ওয়্যারলেস হটস্পট হিসেবে ব্যবহার করুন।

৯. অ্যাপস উদ্ভাবন
অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের বেলায় এ বিষয়টি বিশেষভাবে সত্য। অ্যান্ড্রয়েড ওএস এর ওপেন-সোর্স বৈশিষ্ট্য গিকস এবং টিঙ্কারারস এর জন্য স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভবপর করে তুলেছে।

অসংখ্য অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য প্রচুরসংখ্যক অ্যাপস, লঞ্চার, থিম এবং এমনকি সম্পূর্ণ আরওএম সহজলভ্য। সুতরাং আপনারও যদি পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস থেকে থাকে তাহলে আপনিও অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট এবং শেখার কাজে সেটিকে ব্যবহার করতে পারেন।

১০. বাচ্চাদের খেলনা
মিষ্টান্ন ও খেলনা নিয়েই বাচ্চাদের সন্তুষ্ট থাকার দিন এখন শেষ। আজকাল প্রায় প্রতিটি বাচ্চাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি স্মার্টফোনের মালিক হতে চায়। নতুন ফোন কিনে দেওয়া সম্ভব না হলে আপনিও আপনার পুরনো স্মার্টফোনটি বাচ্চাকে দিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারেন।
সূত্র : গ্যাজেটস নাউ


মন্তব্য