kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ডিজিটাল যুগে শক্তিশালী গণসংযোগের জন্য পাঁচটি টিপস

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৫:২০



ডিজিটাল যুগে শক্তিশালী গণসংযোগের জন্য পাঁচটি টিপস

ডিজিটাল গণমাধ্যম ক্ষুদ্র ব্যবসার ময়দান সবার জন্য সমান করে দিয়েছে। আর গণসংযোগের মাধ্যমে পরিমাপযোগ্য ফলাফল অর্জনকেও আরো সহজ করেছে।


সঠিক ব্যক্তি বা প্রকাশনার নজরে পড়ার মাধ্যমে আপনার কম্পানিটি সত্যিকার অর্থেই উন্নতির পরবর্তী ধাপে পৌঁছে যেতে পারে। কিন্তু আগের মতো বড় বড় গণমাধ্যমে লম্বা ও বিক্ষিপ্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর দিন শেষ হয়ে এসেছে।
খেলা ও খেলোয়াড়ও পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এখনকার গণসংযোগের মূল কথা হলো, নির্বাচিত প্রভাবকদের কাছে যথাযথ উপায়ে পৌঁছানো।

একজন প্রভাবক, উদাহরণত একজন ব্লগার, যিনি আপনার কম্পানির পরিচিতি যথযথভাবে তুলে ধরবেন তিনি কোনো একটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার মতোই মূল্যবান হতে পারেন। কারণ তিনি আপনার টার্গেট গ্রুপের কাছে সত্যিই বিশ্বস্ত। বিষয়টি পুরোটাই শ্রোতাসংক্রান্ত- আপনার এবং তাদের। কার্যকর ডিজিটাল গণসংযোগ কৌশল বাস্তবায়নের জন্য এখানে রইলো পাঁচটি টিপস :

১. গুগল সার্চে আপনার কম্পানির পরিচিতি সহজলভ্য করুন
কম্পানির জন্য কোনো গণযোগাযোগ প্রচেষ্টা শুরুর আগে আপনার কাঙ্ক্ষিত ভোক্তাদের বুঝুন। খদ্দেরদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো, পছন্দে অগ্রাধিকারসমূহ এবং আচরণগুলো নথিবদ্ধ করার মাধ্যমে একটি কাস্টমার প্রোফাইল তৈরি করুন। এই নথিপত্রে আপনার ব্যবসা এবং প্রস্তাবগুলোর সংজ্ঞায়ন সংশ্লিষ্ট কী ওয়ার্ডগুলোও অন্তর্ভুক্ত করুন। এরপর আপনার সাইটে ওই শব্দগুলো যথাযথভাবে ব্যবহারের বিষয়টিও নিশ্চিত করুন।

এর পাশাপাশি, গুগল অ্যানালিটিকস এর মতো কোনো ওয়েব অ্যানালিটিকস টুল ব্যবহার করে যেসব কী ওয়ার্ড দেখে আপনার সাইটে লোকে প্রবেশ করে সেসব চিহ্নিত করুন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং সামাজিক গণমাধ্যমের পোস্টগুলোতেও ভালো পারফর্ম করা ওই জনপ্রিয় কী ওয়ার্ড বা প্রধান শব্দগুলো অন্তর্ভুক্ত করুন।

গুগল সার্চের সময় লোকে শুধুমাত্র প্রথম পৃষ্ঠায় আসা ফলাফলের ওপরই বেশি ক্লিক করেন। আর এ কারণেই এমন গণসংযোগ কৌশলে বিনিয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ যা আপনার সার্চ র‌্যাংকিং উন্নত করবে। ভালো গণসংযোগ বলতে এখন বুঝায়, সার্চ ইঞ্জিন ফলাফলের অবস্থানে উচ্চ র‌্য্যাংকিং অর্জন করা। কোনো গণমাধ্যম আপনার সাইটের লিঙ্কসহ কোনো গল্প প্রচার বা প্রকাশ করলে তাতে আপনার সার্চ র‌্যাংকিং উন্নত হবে। এ ছাড়া আপনার কন্টেন্টেও আপনার সাইটের লিঙ্ক যোগ করুন।

২. একটি ভালো গল্প বলুন; আর গল্পটি দ্রুত বলুন
ডিজিটাল যুগে সকলেই ভাসাভাসা ভাবে এবং দ্রুত সবকিছু পেতে চান। নজরকাড়া ভিডিও বা কৌতুহলোদ্দীপক তথ্যচিত্রের মাধ্যমে সংক্ষেপে আপনার কম্পানির পরিচিতি তুলে ধরুন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং ই-মেইল গণসংযোগেও সেসব অন্তর্ভুক্ত করুন। ছবি, সংক্ষিপ্ত ভিডিও এবং তথ্যচিত্রের মাধ্যমে আপনার কম্পানির গল্প বলুন। এসব উপাদান থাকলে সহজেই তা দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
আর সামাজিক গণমাধ্যম প্রভাবকরাও সবসময় এমন উপাদান চান যা শেয়ারযোগ্য। যে উপাদানগুলো বিশেষ করে সামাজিক গণমাধ্যমে বেশি অভিনন্দিত হয়।

৩. সামাজিক গণমাধ্যমের প্রভাবকদের শনাক্ত করুন এবং কাজে লাগান
শ্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর একটি কার্যকর উপায় হলো, সামাজিক গণমাধ্যমে ইতিমধ্যেই তাদের বিশ্বস্ত লোকদের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা। আর তাদের মাধ্যমে আপনার বার্তাটি ছড়িয়ে দেওয়া। একে বলা হয় ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং বা প্রভাবক বিপণন। সামাজিক গণমাধ্যমে এদের অসংখ্য অনুসারী থাকে অথবা ইন্টারনেটে জনপ্রিয় ব্লগ থাকে।

আপনি হয়ত এখনও প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলোর মাধ্যমেই আপনার ব্যবসার প্রচারণা চালাতে চাইতে পারেন। কিন্তু গণমাধ্যমের পরিসর এবং সংজ্ঞা বদলে গেছে। এখন ইউটিউব হলো টেলিভিশন, রেডিওর জায়গা দখল করেছে পডকাস্ট (ইন্টারনেটে ডিজিটাল অডিওর মাধ্যমে প্রচারণা)। সংবাদপত্রের জায়গা দখল করেছে ব্লগ, অনলাইন ফোরাম এবং সামাজিক গণমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম।

এ ছাড়া খদ্দেরদের সঙ্গে সরাসরি ইমেইলে যোগাযোগের মাধ্যমেও আপনি আপনার ব্যবসার প্রচারণা চালাতে পারেন।

৪. সামাজিক গণমাধ্যম বহুমুখী উদ্দেশ্য সাধনের হাতিয়ার
সামাজিক গণমাধ্যম গণসংযোগের পুরো চেহারাই বদলে দিয়েছে। এটিই এখন কোনো কিছু প্রচার, পর্যবেক্ষণ এবং গল্প বলার প্রধান একটি মাধ্যম। প্রতিবেদক এবং প্রভাবকদের সঙ্গেও এই সামাজিক গণমাধ্যম ব্যবহার করে সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব। সামাজিক গণমাধ্যম এই প্রক্রিয়াকে আরো বেশি ব্যক্তিগত রূপ দিয়েছে। এর মাধ্যমে এখন কারো সঙ্গে সরাসরিই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়।

৫. নতুন গণসংযোগ ছন্দোবিজ্ঞান অবলম্বন করুন
প্রিন্ট প্রকাশনার মাধ্যমে আপনার গল্প কত লোকে পড়ছে তা জানা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, ডিজিটাল গণসংযোগের দুনিয়ায় পাঠক সংখ্যা সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব। গুগল অ্যানালিটিকস ব্যবহার করে আপনি সহজেই কোন চ্যানেলগুলো কার্যকরভাবে আপনার ওয়েবসাইটে পাঠকদের টেনে আনছে এবং তারা কোন বিষয়বস্তুগুলো নিয়ে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে বুঝতে পারবেন।

উদারহণত, আপনি যদি দেখেন যে, পাঠকরা আপনার ওয়েবসাইটের বিশেষ কোনো পেজে বেশি সময় ব্যয় করছেন তাহলে সে বিষয়ে আরো বেশি বেশি তথ্য সরবরাহ করুন। এ ছাড়া আপনার সরবরাহ করা কন্টেন্টে কল টু অ্যাকশন বা কনভারসেশন সুবিধা পর্যবেক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং সম্ভব হলেই একটি ট্র্যাকযোগ্য লিঙ্ক অন্তর্ভুক্ত করুন। একটি ট্র্যাকযোগ্য লিঙ্ক কতলোকে এতে ক্লিক করছে আপনাকে তা পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবে। এর পাশাপাশি যে ব্লগ বা গণমাধ্যমগুলো আপনার ব্যবসার উল্লেখ করছে তাদের এমওজেড র‌্যাংকও ট্র্যাক করুন। এ থেকে আপনি সাইটিটি কতটা জনপ্রিয় তা দেখতে পারবেন। এ ছাড়া এ থেকে আপনি প্লেসমেন্ট বা স্থাননির্ণয়ের মূল্যও বুঝতে পারবেন।

এখন ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর জন্য ডিজিটাল গণসংযোগের মাধ্যমে সাফল্য লাভ করা আগের চেয়ে সহজ হয়ে এসেছে। বড় কম্পানিগুলোর মতো আপনিও একই প্রভাবক এবং শ্রোতাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন সহজেই। সঠিক গণমাধ্যম এবং প্রভাবকদের হাতে ঠিকঠাক কন্টেন্ট পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে আপনিও সহজেই গণসংযোগের বাধাগুলো অতিক্রম করতে পারবেন।
সূত্র : আইএনসি ডটকম


মন্তব্য