kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মঙ্গলে মানুষ গেলে বাধাগ্রস্ত হবে নতুন প্রাণের সন্ধান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:০২



মঙ্গলে মানুষ গেলে বাধাগ্রস্ত হবে নতুন প্রাণের সন্ধান

আজ থেকে বিশ বছর আগে আমেরিকা তার স্বাধীনতা দিবস পালন করে মঙ্গলের মাটিতে কয়েক হাজার পৃথিবীর জিনিস পাঠিয়ে। ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই তারিখে পাথফাইন্ডার মহাকাশযানটি মঙ্গলের উত্তরাংশের ক্রাইসি প্লানিশিয়ায় নামে।

এই যানের মাধ্যমে ছোট একটি রোভার পাঠানো হয়। তেমনি পাঠানো হয় পৃথিবীর জীবাণু।

এসব জীবাণু কি মঙ্গে বাঁচতে পেরেছিল? এই দূরের গ্রহে পৃথিবীর প্রাণ কি তাদের কলোনি সৃষ্টি করতে পেরেছিল? তখন নাসার বিজ্ঞানীর জানান, মঙ্গলের চরম পরিবেশে এগুলো টিকে থাকার কথা না। সেখানকার বিষাক্ত মাটির তেজষ্ক্রিয়তার কারণ কোনো জীবন টিকে থাকতে পারে না।

কিন্তু জুরাসিক পার্কের তত্ত্বে বিশ্বাস রাখতে চানা বিজ্ঞানীরা। জীবন কোনো না কোনভাবে তার পথ ঠিকই খুঁজে নেবে। বায়োলজিস্টরা পৃথিবীর সমস্ত প্রাণ খুঁজে বেড়াচ্ছেন যা চরম পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। বরফ জমাট তুন্দ্রা বা উত্তপ্ত মরুভূমিতে যেসব প্রাণ টিকে থাকে। নাসা তার রোভারের মাধ্যমে মঙ্গলের এমন কিছু অঞ্চল খুঁজে বের করেছে যেখানে প্রাণ টিকে থাকার মতো পরিবেশ রয়েছে।

এদিকে, স্পেসএক্স এর সিইও ইলোন মাস্ক যখন মঙ্গলে মনুষ্য বসতির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন, তখন চারদিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এতে আরেকটি শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে মঙ্গে কোনো জীবন থাকলে তা সন্ধানের সম্ভাবনা নষ্ট হবে।

নাসার বিজ্ঞানী ক্যাথেরিন কনলে জানান, মঙ্গলে জীবনের সন্ধান পেতে হলে পৃথিবীর প্রাণের সিগনাল থেকে দূরে থাকতে হবে। ১৯৫৭ সালে স্পুটনিক মহাকাশে যাওয়ার পর থেকেই আমেরিকা ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন চাঁদ, শুক্র ও মঙ্গলে মহাকাশযান পাঠাতে শুরু করে। তখন অনেক বিজ্ঞানীর কাছে বিষয়টি নতুন প্রাণের সন্ধান পাওয়ার সুযোগ বলে মনে হয়। আবার তারাই শঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এ কাজটি করতে গেলে নতুন প্রাণের সন্ধান মেলা কঠিন হয়ে যাবে।

অন্যান্য গ্রহতে এভাবে মানুষ যাওয়ার চেষ্টা করা হলে মারাত্মক ঘটনা ঘটে যেতে পারে। ১৪ শো শতকে এশিয়া থেকে জাহাজে করে ইঁদুরের মাধ্যমে ইউরোপে আসে ব্ল্যাক ডেথ। কয়েক বছর পর ইউরোপিয়ান আবিষ্কারকদের মাধ্যমে কয়েক ডজন রোগ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। ঠিক এভাবেই অন্যান্য গ্রহতের মারাত্মক কিছু ঘটে যেতে পারে। মহাকাশের ইকো সিস্টেম নষ্ট হতে পারে।  

এ শঙ্কা বহু আগে থেকেই করা হয়। এ কারণে ১৯৬৭ সালে দ্য আউটার স্পেস ট্রিটি গঠিত হয়। এর মাধ্যমে মহাকাশের পরিবেশ রক্ষায় আইন গঠিত হয়। কোথাও কোনো মহাকাশযান পাঠানো হলে তা যেন ওই গ্রহের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায় সে দিকে নজর দিতে হবে। এ বিষয়টি তদারকি করে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অন স্পেস রিসার্চ। সূর্য বা এমন কোনো নক্ষত্রে যান পাঠানো হলে তাকে ক্যাটাগরি ১ মিশন বলে গণ্য করা হবে। এর জন্য যে যান পাঠানো হবে, তা মহাকাশের জন্য ক্ষতিকর হবে না বলে প্রমাণিত হতে হবে। আবার মঙ্গল বা বৃহস্পতির বরফাচ্ছাদিত উপগ্রহ উইরোপায় যান পাঠানোকে ক্যাটাগরি ৩ মিশন বলা হবে। এই যান যেন অন্য কোনো গ্রহ বা উপগ্রহে বিধ্বস্ত না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

এসব নিয়মের মধ্যে এও রয়েছে যে, কোনো মহাকাশযানে ৫ লাখের বেশি ব্যাকটেরিয়া পাঠানো যাবে না। যে যন্ত্রে বা বাহনে তা পাঠানো হবে তা যেন নিরাপদে গ্রহে অবতরণ করে তাও নিশ্চিত করতে হবে। মঙ্গলে যে রোভারটি পাঠানো হবে তাতে ৩ লাখের বেশি জীবাণু পাঠানো যাবে না।

 

এখন মঙ্গলে কি ধরনের জীবাণু পাঠানো যায়? বিজ্ঞানীরা মঙ্গলে ১৭টি 'বায়োসিডাল' ফ্যাক্টর খুঁজে পেয়েছেন যা পৃথিবীর জানা সব জীবাণু মেরে ফেলবে। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্ট অ্যান্ড্রু শ্যুয়েরার জানান, মঙ্গলে সবচেয়ে ভয়াবহ জিনিস হলো সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি। সেই রশ্মিতে যেকোনো জীবাণু মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাঁচতে পারবে। তবে সকল জীবাণুর মধ্যে অল্প সংখ্যক টিকে যেতে পারে। যদি জীবাণুর একটি অংশকে এমন রং বা পদার্থ দিয়ে ঢেকে দেওয়া যায় যা সূর্যের রশ্মি থেকে এদের বাঁচিয়ে রাখতে পারে, তবে আশা করা যায়।

২০১৩ সালে বিজ্ঞানীরা ২৬ ধরনের ব্যাকটেরিয়াকে এমন একটি চেম্বারে রাখেন যা লাল গ্রহের মারাত্মক পরিবেশে টিকে থাকতে পারবে।

প্ল্যানেটারি সোসাইটির বিল নাইয়ি মনে করেন, মঙ্গলে এখনি মানুষ পাঠানোর চিন্তা অপরিণত সিদ্ধান্ত হবে। তার আগে বরং মঙ্গলে প্রাণের সন্ধানে পূর্ণাঙ্গ মিশন পরিচালনা করা উচিত। আবার অনেকের মতে, প্ল্যানেটারি সোসাইটি এক ব্যয়বহুল এবং অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম।

আরেক বিজ্ঞানী কনলে জানান, যদি মঙ্গলে প্রাণ থেকেই থাকে এবং পৃথিবীর প্রাণের সঙ্গে তার মিল থাকে তব এখনি পৃথিবীর প্রাণ দিয়ে সেখানকার পরিবেশ নষ্ট করা উচিত হবে না। সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফি

 


মন্তব্য