kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হোস্টেল কক্ষ থেকে ফেসবুকের বিশ্বজয়ের কাহিনী দেখুন ছবিতে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:০৩



হোস্টেল কক্ষ থেকে ফেসবুকের বিশ্বজয়ের কাহিনী দেখুন ছবিতে

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের শুরুটা মোটেই বড় আকারের ছিল না। হারভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মার্ক জাকারবার্গ তার ডরমেটরি কক্ষতেই শুরু করেন ফেসবুক।

আর এটি পরবর্তীতে বড় হতে হতে এখন আক্ষরিক অর্থেই বিশ্ব জয় করেছে। কয়েকটি ছবিতে দেখুন ফেসবুকের বিভিন্ন পর্যায়ের এ পথ চলা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।
\"\"
মার্ক জাকারবার্গ, হারভার্ড এ তার ২য় বর্ষ চলাকালীন, অক্টোবর ২৮, ২০০৩ এ তৈরি করেন ফেসবুকের পূর্বসূরি সাইট ফেসম্যাস। এতে তিনি হার্ভার্ডের ৯ টি হাউস এর শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহার করেন। তিনি দুইটি করে ছবি পাশাপাশি দেখান এবং হারভার্ডের সব শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে বলেন। কোন ছবিটি হট আর কোনটি হট নয়। যার নাম ছিল 'হট অর নট'।
\"\"
২০০৪ সালের জানুয়ারিতে মার্ক তার নতুন সাইটের কোড লেখা শুরু করেন এবং ফেব্রুয়ারিতে হারভার্ডের ডরমিটরিতে দ্যফেসবুক.কম এর উদ্বোধন করেন। শিঘ্রই মার্ক জাকারবার্গ এর সাথে যোগ দেন ডাস্টিন মস্কোভিৎজ (প্রোগ্রামার), ক্রিস হুগেস ও এডোয়ার্ডো স্যাভেরিন (ব্যবসায়িক মুখপাত্র) এবং অ্যান্ডরু ম্যাককলাম (গ্রাফিক্স আর্টিস্ট)। এ বছরের জুনেই প্যাল আল্টোতে অফিস নেওয়া হয়। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছায়।
\"\"
ফেসবুক উদ্বোধনের তিন দিন পর হারভার্ডে জাকারবার্গের সিনিয়র শিক্ষার্থী (ওপরের ছবি) অভিযোগ করেন তারা হারভার্ড কানেকশন ডট কম ওয়েবসাইট বানানোর জন্য জাকারবার্গের সঙ্গে একত্রিত হয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সে আইডিয়া চুরি করে জাকারবার্গ ফেসবুক বানিয়েছেন। তারা আইনি ব্যবস্থা নিলে ফেসবুকের পক্ষ থেকে সে বছরই তাদের ১.২ মিলিয়ন ফেসবুকের শেয়ার দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সে শেয়ারের মূল্য দাঁড়ায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার।
\"\"
২০০৫ সালের আগস্টে ‘দ্য ফেসবুক ডটকম’ নাম পাল্টে কোম্পানির নাম রাখা হয় শুধু ‘ফেসবুক’।
নতুন অফিসে ফেসবুক।
\"\"
\"\"
২০০৬ সালের আগস্টে ফেসবুকের সঙ্গে মাইক্রোসফট সম্পর্ক স্থাপন করে। সেপ্টেম্বর থেকে সর্বসাধারণের জন্য ফেসবুক উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আগে শুধু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই ছিলেন এর ব্যবহারকারী। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় এক কোটি ২০ লাখে।
\"\"
২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভার্চুয়াল গিফট শপ চালু হয়। এপ্রিলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌঁছায় দুই কোটি।
এ বছরেই জাকারবার্গ সাক্ষাৎ করেন গুগলের এক্সিকিউটিভ শেরিল স্যান্ডবার্গের সঙ্গে। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানে একজন সিওও নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন।
\"\"
২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কানাডা ও ব্রিটেনের পর ফ্রান্স ও স্পেনে ফেসবুকের ব্যবহার শুরু হয়। এপ্রিলে ফেসবুক চ্যাট চালু হয়। আগস্টে ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ কোটিতে।
২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ব্যবহারকারী ১৫ কোটি। ডিসেম্বরে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৫ কোটিতে।
\"\"
২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৪০ কোটি, জুলাইয়ে সেই সংখ্যা ৫০ কোটি ছাড়িয়ে যায়। আর ডিসেম্বরে এ সংখ্যা ৫৫ কোটিতে দাঁড়ায়।
২০১১ সালেই ফেসবুক বিশ্বের অন্যতম রাজনৈতিক পট পরিবর্তনকারী শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। ২০১১ সালে মিশরের আন্দোলনই সে শক্তি প্রদর্শন করে।
\"\"
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে মার্ক জাকারবার্গ নিজেকে বিশ্বের অত্যন্ত ক্ষমতাধর নেতাদের মাঝে আবিষ্কার করেন। তাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তিরাও।
\"\"
২০১২ সালে ফেসবুকের প্রসার আরও বাড়ে। এ বছরের ১৮ মে ফেসবুক আরও পাঁচ বিলিয়ন ডলারের আইপিও শেয়ার ছাড়ে।
জাকারবার্গ বিয়ে করেন তার দীর্ঘদিনের বান্ধবী প্রিসসিলা চ্যানকে। তারা হারভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই পরিচিত হন।
\"\"
২০১৪ সালে ফেসবুক শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখেনি। প্রতিষ্ঠানটি ওকুলাস নামে একটি ভার্চুয়াল রিয়ালিটি প্রতিষ্ঠানকে কিনে নেয় ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে। এছাড়া ১৯ বিলিয়ন ডলারে হোয়াটসঅ্যাপকে কিনে নেয় ফেসবুক।
২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জানানো হয়, প্রতি মাসে ফেসবুকের ভিজিটর ১.২৩ বিলিয়ন মানুষ। আর তাদের মধ্যে এক বিলিয়নই মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে সাইটটিতে প্রবেশ করছে।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মার্ক ও তার স্ত্রী চ্যান জাকারবার্গ ঘোষণা করেন, তারা তাদের ৯৯ শতাংশ সম্পদ জনকল্যাণে ব্যয় করবেন।
\"\"


মন্তব্য