kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের যত ফ্লপ উদ্ভাবনের কথা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:২৯



বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের যত ফ্লপ উদ্ভাবনের কথা

ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ভাবনী গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন পাগলাটে গবেষকরা। বলা যায়, তাদের বদৌলতেই বিজ্ঞান এগিয়ে যায়।

আজ আমরা আধুনিক জীবনমান তাদের কল্যাণেই পেয়েছি। কিন্তু সব গবেষণাই কিন্তু সফলতার মুখ দেখে না। মানুষের মাঝে এটি গুরুত্ব পায় না। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন এমনই কিছু ফ্লপ গবেষণার কথা।

১. থমাস এডিসন ভেবেছিলেন তার ব্যাপক হারে কংক্রিট ভবনের বাণিজ্যিক নির্মাণ যুগান্তকারী ঘটনা ঘটাবে। ইয়ানকি স্টেডিয়াম কিন্তু এডিসনের পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট কম্পানির নির্মাণাধীন ছিল। কিন্তু তার উৎপাদিত সিমেন্ট সাশ্রয়ী নির্মাণ উপকরণ হিসাবে জনপ্রিয় হয়নি। শক্তিশালী সিমেন্টের ভবন তৈরি করতে তিনি যেসব মোল্ড তৈরি করেন তার পেছনে অনেক খরচ হয়ে যায়। ফলে তা ব্যর্থ উদ্ভাবন বলেই পরিচিতি পায়।

২. ১৯৩০ এর দশকে নিকোলা টেসলা এমন একটি যন্ত্র বানানোর চিন্তা করলেন যা বাস্তবজীবনে মানুষের মানসিক অবস্থাকে ফুটিয়ে তুলবে। অনেকটা ক্যামেরার মতো যন্ত্র। এটি মানুষের মনের চিত্র ছবি আকারে স্লাইডে দেখাবে। নিকোলা এমনিতেই তখন ইকডাকশন মোটর এবং রিফাইনিং এসি কারেন্ট উদ্ভাবনের জন্য নাম করেছিলেন। ১৯৩৩ সালে কানসাস সিটি জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, টেসলা এমনই এক যন্ত্র বানানোর পথে। টেসলা জানান, মানুষের দেহ তার মনের চিত্রটাকে রেটিনাল ইমেজ আকারে দেখে। আর তাকেই ফটোগ্রাফ আকারে প্রজেক্ট করা যায়। যন্ত্রটি মোটেও তেমন কাজ করেনি যা ভাবা হয়েছিল। ফলে ব্যর্থ হয়।

৩. হেনরি ফোর্ডের প্রথম দিকের অটোমোবাইল সময়ের চেয়ে একটু আগেই বাজারে চলে আসে। তা ছাড়া এগুলো পুনরুৎপাদন বেশ কঠিন কাজ ছিল। ১৮৯৬ সালে তার প্রথম অটোমোবাইল বানানো হয় যার চারটি বাইসাইকেলের চাকা ছিল। এটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০ মাইল বেগে ছুটত। কিন্তু সেই সময় ২০০ ডলারের গাড়িটি খুব ছোট আকৃতির ছিল এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্ভব ছিল না। তাই তেমন হিট করেনি।

৪. আলেক্সান্ডার গ্রাহাম বেলের ওড়ার যন্ত্রটি ছিল বিশাল আকৃতির। এটাক বলা হতো টেট্রাহেড্রাল ঘুড়ি। এই উদ্ভাবক টেলিফোন আবিষ্কার করে মাত করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ওড়ার যন্ত্র আবিষ্কারটি ফ্লপ করে। ১৮৯৯ সালে বানানো এই ঘুড়ির মতো হালকা ওজনের যন্ত্রটিতে কাঠামো তৈরি হয় পাখির দেহের মতো। তখন আজকের চেয়ে ভারী ধাতব টিউব ব্যবহৃত হয়। ১৯০৩ সালে বেল আরেকটি ওড়ার যন্ত্র বানায়। এর নাম সিগনেট। ১৯০৭ সালে এটি প্রথম আকাশ ওড়ার চেষ্টা করে। কিন্তু উড়তে পারেনি। ফ্লপ যন্ত্রের তকমা লাগে।

৫. লিওনার্দো দা ভিঞ্চি একটি উদ্ভাবন নিয়ে আঁকাআঁকি করেছিলেন। একটি মারাত্মক যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ২০০২ সালে বিবিসি'র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিঞ্চি এ মেশিনের ব্যর্থতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আসলে তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে ওই যন্ত্রের ছবি এঁকেছিলেন তিনি। তার এ পরিকল্পনায় ছিল একটি ট্যাংক। পায়ে হাঁটা সৈন্যদের সামনে থাকবে ট্যাংকটি। অবশেষে তা বাস্তবে রূপ নেয়নি।

সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

 


মন্তব্য