kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইসরায়েলের ডিজিটাল গোয়েন্দা ফার্ম যেভাবে স্মার্টফোনে নজরদারি করছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:২০



ইসরায়েলের ডিজিটাল গোয়েন্দা ফার্ম যেভাবে স্মার্টফোনে নজরদারি করছে

আইফোন ব্যবহারকারীদের অজান্তেই কি আপনি তাদের ওপর নজরদারি চালাতে চান। তাহলে আপনাকে এ জন্য ইসরায়েলের একটি ডিজিটাল গোয়েন্দা ফার্ম এনএসও গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

১০ জন আইফোন ব্যবহারকারীর ওপর গোপন নজরদারিতে খরচ পড়বে ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আর সেটআপ ফি লাগবে ৫ লাখ ডলার। কত সংখ্যক লোকের আইফোনে নজরদারি করতে চান তার অনুপাতে কম্পানিটির একটি মূল্য তালিকা আছে।

বিশ্বের যে ক'টি কম্পানি গোপন নজরদারিতে ব্যবহারের জন্য প্রযুক্তিগত কৌশল বিক্রি করে এনএসও গ্রুপ তাদের একটি। কম্পানিটি এমন সব প্রযুক্তি বিক্রি করে যার মাধ্যমে কোনো আইফোন ব্যবহারকারীর সকল তৎপরতাসহ তার অবস্থানও নির্ণয় করা সম্ভব। এ ছাড়া এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে আইফোনের মাধ্যমে সংঘটিত সব ধরনের তৎপরতা গোপনে রেকর্ড করাও সম্ভব।

ছয় বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হলেও এনএসও গ্রুপ নিজেদেরকে নিয়ে খুব বেশি প্রচার-প্রচার‌ণা চালায়নি। কিন্তু গত মাসে নিরাপত্তা গবেষকরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক মানবাধিকারকর্মীর আইফোনে প্রবেশের চেষ্টাকালে এনএসএ গ্রুপের একটি স্পাইওয়্যারকে পাকড়াও করেছেন। গবেষকরা এনএসএ গ্রুপের দ্বিতীয় আরেকটি টার্গেটও আবিষ্কার করেছেন। তিনি হলেন মেক্সিকোর এক সাংবাদিক যিনি সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লেখালেখি করেন।

এনএসওর আভ্যন্তরীণ ই-মেইল, চুক্তিসমুহ এবং বাণিজ্যিক প্রস্তাবনাসংক্রান্ত কিছু তথ্য-উপাত্ত নিউ ইয়র্ক টাইমস এর হস্তগত হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত থেকে এই গোপন ডিজিটাল নজরদারি শিল্পে নিয়োজিত কম্পানিগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে কিছু স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে। এনএসও গ্রুপের সঙ্গে কারবার করেছেন এমন দুই ব্যক্তি নিউ ইয়র্ক টাইমসকে ওই ই-মেইল এবং নথিগুলো দিয়েছেন। তবে নিরাপত্তার খাতিরে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

ডিজিটাল গোয়েন্দাবৃত্তিতে নিয়োজিত কয়েক ডজন কম্পানির একটি এনএসও। কম্পানিটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহায়তামূলক গোয়েন্দা নজরদারির কাজ করে। সন্ত্রাসী, অপহরণকারী এবং মাদক প্রভুদের ধরার জন্য এই ধরনের নজরদারি জরুরি এমন যুক্তির ওপর ভিত্তি করেই এই ধরনের কম্পানিগুলো কাজ করছে। এনএসও গ্রুপের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসংক্রান্ত উক্তিটি হলো, "পৃথিবীটাকে আরো নিরাপদ জায়গা হিসেবে গড়ে তোলা"।

এনএসও গ্রুপের বেচাবিক্রির সঙ্গে পরিচিত এমন ১০ ব্যক্তি বলেছেন, কম্পানিটি তাদের পণ্য কার কাছে বিক্রি করবে না করবে সে সম্পর্কিত একটি কঠোর আভ্যন্তরীণ পরীক্ষা পদ্ধতি আছে। কম্পানিটির কর্মী ও বহিরাগত উপদেষ্টারা সম্ভাব্য খদ্দেরদেরকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন। এ ক্ষেত্রে তারা জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য বৈশ্বিক সংস্থার নির্ধারণ করে দেওয়া মানবাধিকার র‌্যাংকিং অনুসরণ করেন। এনএসও এখনও রপ্তানি লাইসেন্স পায়নি বলে জানিয়েছেন ওই ১০ ব্যক্তি।

কিন্তু সমালোচকরা দাবি করেছেন, কম্পানিটির স্পাইওয়্যার সাংবাদিক এবং মানবাধিকারকর্মীদের ওপর নজরদারিতেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস


মন্তব্য