kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


'অ্যাপ' আর আপন নয়, ফিরছে এম-ব্রাউজের দিন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ২৩:৩৩



'অ্যাপ' আর আপন নয়, ফিরছে এম-ব্রাউজের দিন

আট বছর আগের কথা। সালটা ২০০৭। মোবাইল দুনিয়ায় এক নম্বরে ওঠা শুরু iPhone-এর। স্মার্টফোনের সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশনকে কীভাবে চটজলদি ও স্মার্ট করা যায়, তার জন্য সিঙ্গল টাচ মোবাইল ইন্টারনেটের রমরমা বাড়তে শুরু করল বাজারে। অর্থাত্‍‌ অ্যাপ। ব্রাউজারের যুগ চলে গিয়ে শুরু হয়ে গেল পুরোদস্তুর অ্যাপ। কিন্তু জানেন কি, এবার অ্যাপ-এর বাজারেও ভাটা শুরু হয়ে গেছে? ফিরছে সেই বছর দশ আগের মোবাইল ব্রাউজারের যুগ।
কেন এই অবস্থা?
স্মার্টফোনের রমরমা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে নিত্যনতুন অ্যাপ। এই মুহূর্তে অ্যান্ড্রয়েড, iOS ও উইন্ডোজ মিলিয়ে বাজারে মোট ৩০ লক্ষ অ্যাপ রয়েছে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, গড়ে একজন স্মার্টফোন ব্যবহারকারী খুব বেশি হলে ১৫ থেকে ২০টি অ্যাপ রাখেন ফোনে। অর্থাৎ‍‌, অ্যাপ দুনিয়ায় মাত্রাতিরিক্ত ভিড়। ফোনের স্টোরেজ বাড়াতে অ্যাপ আন-ইনস্টল রেট বেড়ে গিয়েছে ৯০ শতাংশ। কারণ, একগুচ্ছ অ্যাপ ব্যবহার করে মোবাইলে জায়গা কমানোর চেয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটটির জন্য ব্রাউজারকেই বেছে নিচ্ছেন ব্যবহারকারীরা।

নিউ কল টেলিকম-এর সিইও নাইজেল ইস্টউডের মতে, কিছু নির্দিষ্ট অ্যাপ সাধারণত ব্যবহার করে থাকেন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা। বাকিগুলি স্রেফ ইনস্টল করে ফের আন-ইনস্টল করে দেন। তাঁর কথায়, 'কোম্পানিগুলি ভাবে অ্যাপ না থাকলে তারা বাজারে টিকতে পারবে না। কিন্তু এখন যা অবস্থা, অ্যাপ-এর সঙ্গে ব্রাউজারেরও ব্যবহার বাড়ছে লাফিয়ে। '

ফ্যাশন ই-টেলর 'Myntra'র কথাই ধরা যাক। অ্যাপ-এর রমরমা দেখে ২০১৫ সালের ১৫ মে মাসে 'Myntra' ওয়েবসাইট থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়ে সম্পূর্ণ অ্যাপ নির্ভর হয়ে যায়। কিন্তু ওই বছরই ডিসেম্বরে তারা ফের ওয়েবসাইটে ফিরতে বাধ্য হয়েছে। আলিবাবা মোবাইল বিজনেস গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার (গ্লোবাল মার্কেট) কেনি ইয়ের কথায়, 'অ্যাপ-এর মাধ্যমে একটি কোম্পানি শুধু মোবাইলে পৌঁছতে পারে। এর বেশি কিছু লাভ হয় না। '

অ্যাপ বনাম ব্রাউজার
ভারতে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটি। তার মধ্যে ৯০ শতাংশ মোবাইলেরই দাম ৮ হাজারের কম। দামে কম হওয়ায়, এই সব ফোনগুলির মেমরি কম, প্রসেসরও স্লো। কিন্তু বেশির ভাগ অ্যাপ-ই অনেকটা জায়গা খায়। ৮ MB থেকে ৩০ MB বা তারও বেশি হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে কম দামের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা বেশি অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন না। স্টোরেজ ফাঁকা করতে আন-ইনস্টল করে দেন। আবার বেশি অ্যাপ হয়ে মোবাইল ক্র্যাশ হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে।

ব্রাউজারে সে সমস্যা নেই। যে সাইট দরকার, ব্রাউজারে ঢুকে তা খুঁজে নিলেই হল। জায়গাও সাশ্রয় হবে। খরচের দিক থেকেও ব্রাউজার সাশ্রয়ী। অ্যাপ তৈরিতে যা খরচ পড়ে, তার এক তৃতীয়াংশ খরচ পড়ে ব্রাউজার তৈরিতে। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থা সইফ পার্টনার্স-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর অলোক গোয়েলের দাবি, '২০১৬-তেই মানুষ বুঝতে পারবেন, আসল মোবাইল হল ব্রাউজার। '

সূত্র: এই সময়


মন্তব্য