kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ভারতে বাড়ছে নারীদের মোবাইলফোনে টাকার বিনিময়ে যৌনতা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ১৫:২১



ভারতে বাড়ছে নারীদের মোবাইলফোনে টাকার বিনিময়ে যৌনতা

'আমার শরীর তুমি দেখছ না, তোমার শরীর আমি দেখতে পাচ্ছি না। আমরা শুধু একে অপরের কথা শুনছি। ' শব্দগুলো শেষ হলেও, তার রেশ থেকে যাবে। সশরীরে নেই, কিন্তু শব্দের খেলা ও কণ্ঠের কারসাজিতে খদ্দেরকে ছুঁয়ে যাওয়ার কৌশল রপ্ত করা। কথাবলার ভঙ্গিমাতে কোনও তাড়াহুড়ো নেই। প্রতিটি শব্দকেই যেন সুপরিকল্পিতভাবে যৌনতার মোড়কে ঢেকে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি প্রশ্নের উত্তর ঘুরেফিরে একটাই অর্থকে বোঝায়, 'আমি একাকিত্ব দূর করতে চাই। ' বসন্তের শেষ লগ্নে এসে কোনও এক মধ্যরাতে সুকণ্ঠীর মুখে এমন কথা পুরুষকে প্রভাবিত করবেই। দুর্বলতার পরিমাণ বাড়লে তো কেল্লাফতে! তবে শর্তাবলী প্রযোজ্য- চ্যাটবক্সের প্রাথমিক এন্ট্রি ফি ৩০০ টাকা আর তারপর সেকেন্ড প্রতি কলচার্জ। এভাবেই চলছে সেক্স চ্যাটিং বা সেক্স কলিংয়ের রমরমা চক্র। আর এ সবের সূত্রপাত? ফেসবুকে।

এমনিতেই জনপ্রিয় এই সোশাল সাইটে মেয়েদের বন্ধু সংখ্যা একটু বেশিই হয়। অনেকেই প্রোফাইল পিকচারে সুন্দরী মডেল বা বিদেশি অভিনেত্রীদের ছবিকে পুরুষ বন্ধু বাড়ানোর কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। কাজও হয় কিন্তু! বহু ক্ষেত্রেই এর অপব্যবহারের উদাহরণ মিলেছে। কখনও প্রতারণা তো কখনও আরও ভয়ঙ্কর কিছু। এমনই সেক্স চ্যাট চক্রের খোঁজ পেয়ে খতিয়ে দেখে ইনাডু ইন্ডিয়া বাংলা।

খোঁজ নিয়ে সূত্র মিলল একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের। ভারতের প্রিয়া চ্যাটার্জি (নাম সঠিক নয় বলেই অনুমান)। চ্যাটিং কিছুদূর এগোতেই প্রস্তাব এল। সেক্স কলিংয়ের। রীতিমতো পেশাদারি কায়দায় তৈরি ধাপ ও শর্ত রয়েছে।

কী শর্ত ?      

সংশ্লিষ্ট মহিলার নম্বরে ৩০০ টাকার রিচার্জ করে দিতে হবে।

রিচার্জ হয়ে গেলে, সেদিন রাতেই ওই নম্বর থেকে এক নারীরর ফোন আসবে।

তারপর...

'আমার স্বামী মাসের ২৮ দিন নাইট ডিউটি করে। ২ দিনে আমায় খুশি করতে পারে না। তাই তো তুমি...। তুমি যে, আমার বাঁধনগুলো আলগা করবে...। ' টাকা রিচার্জ করার পর সেক্স কলিংয়ের এমন অভিজ্ঞতাই ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের সংশ্লিষ্ট সংবাদ কর্মীর। কথা প্রসঙ্গে জানা যায় নারী বিবাহিত ও কলকাতার বাসিন্দা নন (উনি পুরুলিয়া দাবি করলেও সন্দেহজনক)। স্বামী প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরি করেন। আর স্ত্রী ? অবৈধ না বলা গেলেও অনৈতিক এই কাজে পারদর্শিতা অর্জন করে ফেলেছেন। পারদর্শী তো বটেই, নয়তো আবেদনপূর্ণ কথাবার্তার পর যখন ওনাকে প্রশ্ন করা হয়, 'তুমি প্রেমে পড়ছো না তো?' গলার কণ্ঠস্বর আবেগের খোলস ছেড়ে গাম্ভীর্য সহকারে বলে ওঠে, 'না না..সেরকম নয়। ' পরক্ষণেই খদ্দের যাতে আগলমুক্ত না হন, তাই নিজেকে সামলে বলে ওঠেন, 'তোমায় খুব চেনা লাগে। তোমার ফোনের এত অপেক্ষা করেছি। আর কারোর ফোনের জন্য করিনি। ” এখানেই শেষ নয়...

এরা খদ্দেরের ফোন-নম্বর ভাগ করে নিয়ে অন্যদেরও দিয়ে দেয়। অনেকটা BPO/KPO-গুলো যেভাবে কাজ করে। তার প্রমাণ পাওয়া গেল, যখন দেবযানী চ্যাটার্জি (এক্ষেত্রেও নাম সঠিক নয় বলেই অনুমান) নামে অপর এক নারীর ম্যাসেজ আসে। একই প্রস্তাব। কিন্তু, ফেসবুকে হঠাৎ করে এমন প্রস্তাব। তাও অচেনা লোককে! প্রশ্নের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উত্তর জানা যায়। আমি ফেসবুক, ওয়াটসঅ্যাপ, ফোন, স্কাইপে সেক্স চ্যাট করি। মাসে ২০ দিন। ফুল স্যাটিসফ্যাকশন!' এখানেই শেষ নয়, প্রয়োজনে নগ্ন ছবি ও ভিডিও পাঠাতেও আপত্তি নেই। তবে হ্যাঁ অবশ্যই বিনামূল্যে নয়। সঙ্গে এই শর্তও দেওয়া থাকে, 'শারীরিক সম্পর্কে রাজি নই। ' রেট এখানেও এক - ৩০০ টাকার মোবাইল রিচার্জ।  

কিন্তু, ৩০০ টাকার মোবাইল রিচার্জই কেন ?

হিসাব বলছে, ৩০০ টাকা করে কমপক্ষে ১০ জন যদি জমা করে, তাহলেই একদিনে ৩০০০ টাকার টক-টাইম জোগাড় হয়ে যায়। সূত্রে আরও জানা যায়, বিভিন্ন ই-কমার্স সংস্থা থেকে ওই টক-টাইম টাকায় পরিবর্তিত করে নেওয়া যায়। তবে তার মধ্যেও যে কমিশন থাকে, তাতে সন্দেহ নেই। তা না হলে, রিচার্জ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া, বা অন্য নারীকে ফোন নম্বর দিয়ে দেওয়া- এগুলো সম্ভব হতো না।   কিন্তু, এই কাজ কি দেহব্যবসার সমতুল্য নয়? 'শরীরে ছুঁতে তো দিচ্ছি না,' প্রশ্নে জানিয়েছিলেন প্রথম নারী। সত্যি আইনত নয়! আর বিবেক? সটান জবাব এলো, 'ক্ষতি কী? ঝুঁকি তো নেই। '

 


মন্তব্য