kalerkantho


যে কারণে স্টিভ জবস জিনিয়াস আর ওজনিয়াক ভুল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৩০



যে কারণে স্টিভ জবস জিনিয়াস আর ওজনিয়াক ভুল

সোশাল মিডিয়া প্লাটফর্ম রেডিট-এ 'আস্ক মি এনিথিং' পর্বে উপস্থিত হয়েছিলেন অ্যাপলের সহ প্রতিষ্ঠাতা স্টিব ওজনিয়াক। সেখানে তিনি অ্যাপল কিভাবে একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে রূপ নিলো তার সম্পর্কে নানা তথ্য দিয়েছেন।

আবার এ প্রতিষ্ঠানের নানা সমস্যার কথাও উঠে এসেছে তার বক্তব্যে।

ওজনিয়াস তুলে ধরেছেন, আরেক সহ প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াস স্টিভ জবস ছিলেন একজন জিনিয়াস। তিনি জানান, আমি একটি বিষয় নিয়ে একটু দুশ্চিন্তা করি। আমি আমার অ্যাপল হাতঘড়িটাকে পছন্দ করি। কিন্তু এর মাধ্যমে আমরা অলংকারের বাজারে প্রবেশ করেছি। আপনি নিজেকে কতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তার ওপর ভিত্তি করে ৫০০-১১০০ ডলারের মধ্যে একটি ঘড়ি কিনবেন। এ ধরনের ঘড়ির মধ্যে আমাদের পার্থক্যটা হলো ব্র্যান্ডে। কিন্তু অ্যাপল আসলে এ কাজের জন্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তির দুনিয়াকে সত্যিই অনেকটা বদলে দিয়েছে।

বর্তমানের অ্যাপল যেভাবে চলছে, তাতে বেশ কিছু বিষয়ের অভাববোধ করেন ওজনিয়াক। কিন্তু তিনি বেশ কিছু দিক থেকে ভুল বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এখানে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য জেনে নেওয়া যাক।  

১. এটা কেবলমাত্র প্রযুক্তিগত বিষয় নয়। ওজনিয়াকের মতো উচ্চপদস্থ মানুষরা মনে করেন, অ্যাপলের প্রযুক্তিই সবকিছু। তারা ডিজাইন, ব্যবহারযোগ্যতা বা মার্কেটিয়ের বিষয়ে মাথা ঘামান না। কিন্তু এ সকল বিষয় মাথায় রাখতেন স্টিভ জবস। যদি প্রযুক্তিই সবকিছুর মাপকাঠি হতো, তবে কম্পিউটারের বাজারে মাইক্রোসফটের কারণে অ্যাপল বহু আগেই ডুবে যেতো। আর মোবাইল বাজারে অ্যাপলকে সরিয়ে দিতো গুগল।

২. ডিজাইন বড় একটি বিষয়। স্টিভ জবসের কাছেও ডিজাইন বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। তিনি যে বাড়িতে থাকতেন তাতে ছোটখাটো অদ্ভুত সব আসবাবে পূর্ণ ছিল। হঠাৎ করেই এদের অদ্ভুত ডিজাইন থেকে তার মাথায় নতুন কিছু চলে আসতো। স্টিভ এবং তার স্ত্রী একটি ওয়াশিং মেশিন কেনার কথা ভাবলে তারা গোটা দুনিয়ার নানা ওয়াশিং মেশিন নিয়ে গবেষণা করতেন। এদের ডিজাইন ছিল তাদের কাছে মূল আকর্ষণের বিষয়। অবশেষে জার্মানি মিয়েলে কম্পানির ওয়াশিং মেশিন কেনেন তারা। কারণ এটি কম পানি ও সাবান ব্যবহার করে। কাপড় হয় আরো মসৃণ এবং টেকসই থাকে বহুদিন। এ ধরনের সুবিধা স্টিভ তার প্রতিটি পণ্যের ডিজাইনে তুলে আনার চিন্তা করেছেন। এসব বিষয় মাথায় রেখেই তিনি অ্যাপল ২-এর কেস তৈরি করেন। এতে শুধু একটি মনিটর এবং কিবোর্ড রয়েছে।

৩. মানুষ সৌন্দর্যপ্রিয়। এটা কেবল হাতঘড়ির বিষয় নয় যা কমদামি থেকে বেশি দামি পর্যন্তও রয়েছে। এর সৌন্দর্যটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দামি সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে ১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে। ওজনিক খুব বেশি সময় অলংকারের দোকানে নষ্ট করেন না। তিনি হয়তো চিন্তা করেননি অ্যালুমিনিয়াম, স্টেইনলেস স্টিল এবং নিরেট ১৮ ক্যারেট সোনায় তৈরি আলাদা আলাদা জিনিস মানুষ আলাদা দাম দিয়ে কেনার পক্ষপাতী। এ খানে স্বর্ণ সবচেয়ে সুন্দর, অন্যগুলো নয়। এদিক থেকে স্টিভ সৌন্দর্যের বিষয়টা সব সময় মাথায় রেখেছেন। আইম্যাক থেকে ম্যাকবুক এয়ার বা আইপড, আইফোন এবং আইপ্যাডের প্রতিটি পণ্যে তিনি সৌন্দর্যের ছাপ রেখেছেন। এটাই ছিল স্টিভের তুখোর বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ। বহু কাজের একটা প্রযুক্তিপণ্য যে তার সৌন্দর্য দিয়ে মানুষের ভালোবাসা কেড়ে নিতে পারে তার প্রমাণ দেন স্টিভ।

অ্যাপল ওয়াচের স্বর্ণের সংস্করণটি ছাড়াও কম দামের ঘড়ি রয়েছে। কিন্তু এর প্রত্যেকটি পণ্য অসম্ভব সুন্দর। দীর্ঘ দিন এগুলো আনন্দের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়।

ওজনিক আসলে একটা হাতঘড়ির জন্যে অযথা অর্থ খরচের কথা বলেছেন। কিন্তু এর সৌন্দর্য এবং এর প্রতি মানুষের আকাঙ্ক্ষার কথা মাথায় আনেননি। সূত্র : ইনক

 


মন্তব্য