kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আপনার ধারণার চেয়েও বেশি নজরদারি করে ফেসবুক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ১৪:২৬



আপনার ধারণার চেয়েও বেশি নজরদারি করে ফেসবুক

আপনি ফেসবুকে বন্ধুদের পোস্ট কিংবা প্রোফাইল ব্রাউজ করতে বা শেয়ার করা লিংকে লাইক বা কমেন্ট করার সময় কখনো কি ভেবেছেন যে এ বিষয়গুলো আপনি ছাড়া অন্য কেউ নজরদারি করছে? বাস্তবে তাই ঘটছে। যদিও ব্যবহারকারীরা ফেসবুকের এ নজরদারি বিষয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অন্ধকারে থাকে।

এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক তার ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি করে সে অনুযায়ী তাদের মুনাফা করে থাকে। এ ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুনাফা আসে বিজ্ঞাপন থেকে। এ ক্ষেত্রে ফেসবুকের বিজ্ঞাপনগুলো বাছাইয়ে রয়েছে ব্যবহারকারীদের পছন্দনীয় বিজ্ঞাপন প্রচারের সক্ষমতা। এটি ফেসবুককে অন্যান্য সাইট থেকে এগিয়ে রাখে।

ব্যবহারকারীরা ফেসবুকের নানা পোস্ট ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম। তারা আপনার পছন্দ নির্ণয় করে বিভিন্ন পোস্টে দেওয়া লাইক ও ভিডিও দেখাসহ অন্য কিছু আচরণের ওপর। এরপর আপনার এ পছন্দগুলোর তালিকা করে তা বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোর কাছে পাঠিয়ে দেয়।

এরপর বিজ্ঞাপন সংস্থার সহায়তায় তারা নিউজ ফিডে একই ধরনের বিজ্ঞাপন ও পোস্ট নিয়ে আসে।
ফেসবুকের এ বিজ্ঞাপন বিষয়ে কার্যক্রম অত্যন্ত কার্যকর। আর এ কার্যক্রমে সহায়তা দেয় বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থা। তারা প্রত্যেক ব্যবহারকারীর পোস্ট, সংরক্ষিত লেখা, প্রোফাইল তথ্য ইত্যাদি বিবেচনা করেই বিজ্ঞাপন বাছাই করে।

ফেসবুকের এ ধরনের কার্যক্রমে গোপনীয়তা লঙ্ঘন হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এ বিষয়ে বেশ কিছুদিন ফেসবুকের বিরুদ্ধে অভিযোগে জানানো হয়েছে যে, তারা মানুষকে তাদের অজ্ঞাতেই অনলাইনে অনুসরণ করছে। এর আগে এ বিষয়টি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আইনের লঙ্ঘন বলে জানিয়েছে বেলজিয়ামের প্রাইভেসি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ ছাড়া জার্মান, ডাচ, ফ্রেঞ্চ ও স্প্যানিশ অংশগ্রহণে গঠিত প্রাইভেসি প্রটেকশন কমিশন কিছুদিন আগে মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। এতে তারা ব্যবহারকারীদের প্রশ্নের মাধ্যমে ও নানা উপায়ে তাদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ এনেছে।

যেভাবে নজরদারি করে
এ বিষয়টি বোঝার জন্য বুঝে নিতে হবে ফেসবুক কিভাবে কাজ করে। ফেসবুকে আপনার মতো যত বেশি ব্যবহারকারী লাইক দেবে ততই তা অন্যদের নিউজ ফিডে ওপরের দিকে থাকবে। আর এসব লাইক ও শেয়ারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো বুঝতে পারে আপনার প্রিয় বিষয় সম্পর্কে। এতে পরবর্তীতে তাদের বিজ্ঞাপন প্রচারের আগে আপনার পছন্দনীয় বিষয়গুলো বাছাই করে নেওয়া হয়। এ ছাড়া রয়েছে ফিশিং স্ক্যাম। নানাভাবে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করে অনলাইনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এ লাইক ও শেয়ার থেকে তথ্যগুলো সহজেই তারা সংগ্রহ করতে পারে। এ ছাড়া ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে থাকতে পারে ক্ষতিকর সফটওয়্যার। এগুলোতে লাইক দিলে তা আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করতে পারে। তবে সবচেয়ে ক্ষতিকর বিষয় হতে পারে তা যখন স্ক্যামে ব্যবহৃত হয়। এ ক্ষেত্রে অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা কোনো একটি আপাতদৃষ্টিতে ভালো লিংক ফেসবুকে পোস্ট করে তাতে লাইক ও শেয়ারের জন্য অপেক্ষা করে। এটি সে স্ক্যামের প্রাথমিক ধাপ। যখন সে পোস্টটি কিছু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং নিউজ ফিডের ওপরের দিকে চলে আসে তখন তা পুনরায় এডিট করে প্রতিষ্ঠানটি। দ্বিতীয় ধাপে তাতে ভাইরাস বা ক্ষতিকর প্রোগ্রাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তাই পোস্টটিতে পরবর্তীতে যারা লাইক দেয় তারা ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ক্ষতিকর অ্যাপ
প্রাথমিকভাবে ফেসবুক আপনার ব্যবহৃত বিভিন্ন অ্যাপ থেকে বের করা হয় আপনার পছন্দের ধরন। ফেসবুকের এ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অন্যতম হলো অ্যাপগুলো। আপনি আপনার বন্ধুর পোস্টে লাইক দিলেও এর মাধ্যমে তা তৃতীয় পক্ষের বাণিজ্যে পরিণত হতে পারে। এ তথ্যগুলো অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিতে চলে যায়।

ফেসবুক লগইন
বিভিন্ন ওয়েবসাইটের কিছু অংশ থাকে যেখানে আপনি ফেসবুকে লগইন করতে পারেন। এ ছাড়া কিছু পোস্ট রয়েছে যেগুলো বহু মানুষের লাইকের জন্য আকুতি থাকে। বিপদগ্রস্ত প্রাণীকে বাঁচাতে লাইক দিন কিংবা অনুরূপ কোনো বিষয় যা বহু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ ধরনের পোস্টগুলোতে যেমন বহু মানুষের লাইক থাকে তেমন তাদের অনেকেই এ কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তাই যেকোনো পোস্টে লাইক দেওয়ার আগে এর পেছনে কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, জেনে নিন।

যেভাবে বন্ধ করবেন এ নজরদারি
এ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ব্যবহার বন্ধ করা ও সম্পূর্ণ আনইনস্টল করে নেওয়া যেতে পারে। অন্য কোনো অ্যাপ যেন আপনার তথ্য নিতে না পারে সে জন্য সতর্ক হোন। এ ছাড়া ফেসবুকের এ বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে বাঁচার আরেকটি সহজ উপায় হলো আপনার লাইক ও শেয়ার বিষয়ে সতর্ক হওয়া। অপরিচিত লিংক থেকে লাইক দেওয়ার আগে একটু ভেবে দেখুন। আপনার কোনো বন্ধু অপরিচিত লিংকে লাইক দিলে তাকেও সতর্ক করুন। কোনো একটি পোস্ট ঠিক কোন স্থান থেকে এসেছে তা অনুসন্ধান করুন। তার মানে অবশ্য এই নয় যে, আপনি যেকোনো লাইক বা শেয়ার বাদ দেবেন। এ ক্ষেত্রে বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান কিংবা ভালো কোনো বিষয়ের পোস্ট লাইক-শেয়ার করা যেতে পারে। তবে কোনো অনিরাপদ উৎস থেকে এটি এসেছে কি না, জেনে নিন।


মন্তব্য