kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যে কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণার কৌশল খুবই কার্যকর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ মার্চ, ২০১৬ ১৩:৪২



যে কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণার কৌশল খুবই কার্যকর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। আর তার এসব বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

নানা বিষয়ে বিদ্বেষপূর্ণ তার বক্তব্যের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলেও এটি অনেক ক্ষেত্রে তার প্রচারণায় ইতিবাচক কৌশল হিসেবে কাজ করছে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিমবিদ্বেষী ও অভিবাসী বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন ক্রমাগত। আর তার এসব বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় তা ভোটারদের মানসিকতায় প্রভাব ফেলেছে। এতে তার জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সম্প্রতি ট্রাম্পের এ মিডিয়া আকর্ষণের কৌশলকে সাম্প্রতিক বাস্তবতা বলেই বর্ণনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। মিডিয়া বিশ্লেষক ক্লে শিরকি এ বিষয়টি বিশ্লেষণের জন্য জেমস জয়েসের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তিনি বিষয়টিকে নতুন ধরনের মিডিয়া বাস্তবতা বলে ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি জানান, আমরা টিভি দেখি, আমরা অনলাইনেও যাই। এটি মূলত অ্যাকটিভ ও প্যাসিভ বিষয়ের মতোই আলাদা। আগের তুলনায় এখন মিডিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ট্রাম্প নতুন প্রজন্মের মিডিয়ার এ বিষয়টিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পেরেছেন। তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী জেব বুশকে বাদ দিতে সক্ষম হয়েছেন তার এ কৌশলের মাধ্যমে। প্রতিদ্বন্দ্বী জেব বুশের বিষয়টিকে তিনি 'দুর্বল উদ্যম' বলেই বর্ণনা করেন।
টুইটার ব্যবহার
মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটার ট্রাম্পের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি মিডিয়া হিসেবে কাজ করেছে। তিনি একে অন্যান্য মাধ্যমের চেয়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পেরেছেন।

ক্লে শিরকি বলেন, 'আপনি যখন ১৪০ ক্যারেক্টার নিয়ে ছয় মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছেন তখন কেন ৩০ সেকেন্ডের টিভি বিজ্ঞাপন দিয়ে বিপুল খরচ করবেন? ট্রাম্পের টুইটারে ফলোয়ারের সংখ্যা ও ফেসবুকের লাইকের সংখ্যা ছয় মিলিয়ন। '

গত গ্রীষ্মে ট্রাম্পের টুইটার ফলোয়ারের সংখ্যা ছিল ৩.২ মিলিয়ন। আর ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে তার ফলোয়ারের সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচ মিলিয়নে। বর্তমানে তা বেড়ে ৬.৬ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন ট্রাম্পের টুইটার ফলোয়ারের সংখ্যা বাড়ছে।

অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ফলোয়ারের সংখ্যা ৫.৬ মিলিয়ন। এ ছাড়া মার্কো রুবিওর রয়েছে ১.৩ মিলিয়ন ও টেড ক্রুজের রয়েছে ৮ লাখ ৭৪ হাজার ফলোয়ার।

মার্কিন বিনোদন জগতের তারকাদের ফলোয়ারের সংখ্যঅ অনেক বেশি। যেমন জাস্টিন বিবার, লেডি গাগা ও কার্দাশিয়ানের মতো তারকাদের ফলোয়ার রয়েছে ৪০ থেকে ৭৬ মিলিয়নের মধ্যে।

রাজনীতিবিদদের মধ্যে অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার ফলোয়ার সবচেয়ে বেশি। তার ফলোয়ার ৭০ মিলিয়ন।

বার্লুসকোনি ও মারডক অনুসরণ
ইটালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনি ও মিডিয়া টাইকুন রুপার্ট মারডক মিডিয়ার এ নতুন ধরনের ব্যবহারের উদাহরণ। সিলভিও বারলুসকোনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইটালির সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী। সিলভিও বারলুসকোনি বহুদিন ধরেই তার এ অভিনব কৌশল ব্যবহার করে ক্ষমতা সুসংহত রাখতে পেরেছিলেন।

সম্প্রতি ট্রাম্পের উদ্যোগ তাদের সে মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষমতাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। ট্রাম্প মূলত স্বল্প খরচে বহু মানু্ষের কাছে পৌঁছানোর উপায়কে ভালোভাবে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছেন। তার টুইটার অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত টুইটগুলো বহু মানুষ রিটুইট করেছে এবং তা অসংখ্য মানুষের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

বিভিন্ন মিডিয়া ব্যবহার
ট্রাম্প তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় ভিন্নভাবে মিডিয়া ব্যবহার করেছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা সতর্কভাবে অনলাইনে পোস্ট করেছেন এবং তাতে তারা বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী বিষয় ও মিডিয়া কোট ব্যবহার করেছেন।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। এগুলোর একটি হিট হলেই তিনি বিনামূল্যে মিডিয়া কভারেজ পেয়েছেন। এগুলোতে ফিডব্যাকের ব্যবস্থা করে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক সৃষ্টি করতেও সক্ষম হয়েছেন।

বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বিতর্কের আগে তিনি কৌশলে তার এ টুইটগুলো ব্যবহার করেছেন। এতে টিভি বিজ্ঞাপন কিংবা অন্যান্য মিডিয়া ক্যাম্পেইনের তুলনায় যথেষ্ট ভালো ফলাফল পেয়েছেন ট্রাম্প।

শুধু টুইটারই নয়, বহু তরুণ বর্তমানে টিভির বদলে ইউটিউব চ্যানেলগুলো দেখছে। অনলাইন ও অ্যাপস থাকলেই এ চ্যানেলগুলো চালানো যাচ্ছে। ফলে এগুলোও হয়ে উঠেছে অন্যতম মিডিয়া।

এ ছাড়া ফেসবুকের প্রচুর প্রভাব রয়েছে অনলাইনে। যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুকের বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী রয়েছে। পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপও বহু ব্যবহারকারীর অত্যন্ত প্রিয়। এগুলো একত্রে মার্কিন নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

অতীতে মার্কিন কোনো নির্বাচনেই অনলাইনের ওপর এতখানি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, যা বর্তমান নির্বাচনে হচ্ছে। প্রত্যেকেই নিজস্ব চ্যানেল কিংবা পেজে সমর্থক টানার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন বর্তমানে নতুন গণমাধ্যম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।


মন্তব্য